সরকারিভাবে বরাদ্দের সুবাদে শতভাগ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হতে যাচ্ছে সারাদেশ। কিন্তু মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় নতুন সংযোগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিটার প্রতি ৭ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। যারা ৭ হাজার টাকা করে জমা দিয়েছে তারা মিটার পেয়েছে। কিন্তু যারা টাকা দিতে পারেনি তাদের ঘরে মিটার লাগানো হয় নি। এতে সাধারণ গ্রাহকরা দীর্ঘ অপেক্ষা করেও বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পল্লীবিদ্যুত সমিতির ও দালালরা এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে গ্রাহকরা।
অভিযোগে জানা গেছে, সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের চর মকিমপুর গ্রামে ২৫টি বাড়িতে একসাথে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হবে। এজন্য প্রত্যেক বাড়ি থেকে ৭ হাজার টাকা করে মোট আনুমানিক ১ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা নেয় ওই ইউনিয়নের মেম্বার মুরাদ মিয়া ও তার সহযোগী মজনু মিয়া। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটার দেওয়ার কথা থাকলেও মিটারের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে মিটারের জন্য। যারা মেম্বার মুরাদের কথামত ৭ হাজার টাকা দিতে পেরেছে তারাই কেবল মিটার পেয়েছে অন্যথায় ৩ জন ৭ হাজার করে টাকা না দিতে পারায় মিটার নিতে পারে নি। এছাড়া মিটার লাগানো সময় প্রত্যেকটি বাড়ি থেকে ২০০ টাকা করে নিয়েছে মনজু মিয়া। যারা সেই টাকা দেন নি তাদের মিটার দেবে না বলে জানিয়েছিলেন মজনু। পরে বাধ্য হয়ে ২০০ টাকা দিতে রাজি হয় গ্রাহকরা।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক ওই গ্রামের এক ব্যক্তি জানান, আমি আমার বাড়িতে বিদ্যুৎ নেওয়ার জন্য ৭ হাজার টাকা না দেওয়ায় আমার বাড়িতে মিটার লাগানো হয় নি। জানিনা কবে আমার বাড়িতে মিটার আসবে আর কবে বিদ্যুৎ পাবো। তবে পল্লী বিদ্যুতের এক লাইন ম্যানকে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। সে আমাকে সংযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে এক সপ্তাহে ১৮ লাশ
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক আরেকজন মহিলা জানান, আমার জানামতে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ আনতে গেলে এক থেকে দেড় হাজার টাকা লাগে। আমি গরিব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। সবাই যদি টাকা দেয় তাহলে আমাদেরও টাকা দিতে হবে। আমি এতো টাকা কোথায় পাবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, আমারা নতুন সংযোগ আনতে ৭ হাজার টাকা মেম্বার মুরাদকে দিয়েছি। মিটার লাগানের সময় মুরাদের সহযোগী মজনু মিয়া আবার সবার কাছ থেকে ২ শত টাকা করে নেয়। যদি কেউ টাকা না দেওয়ার কথা বলে তাহলে তার মিটার না লাগানোর কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে মজনু মিয়া বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরা প্রতিটি বাড়ি থেকে ৭ হাজার টাকা করে নিয়ে মুরাদ মেম্বারের কাছে দিয়েছি। আর মিটার লাগানের সময় দুই শত টাকা সার্ভিস চার্জ হিসেবে নিয়েছি। আমরা আনুমানিক দেড় থেকে দুই বছর আগে মুরাদ মেম্বারের চাচার মাধ্যমে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ আনতে যাই কিন্তু সে প্রতিটি মিটারে ১০ থেকে ১২ হাজার করে টাকা চায়। পরে মেম্বার মুরাদের মাধ্যমে আমরা ৭ হাজার করে টাকা নিয়ে নতুন সংযোগ আনতে রাজি হই।
এ বিষয়ে মুরাদ মেম্বারের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করতে গেলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ওবায়দুর রহমান জানান, সরকার বিনামূল্যে বিদ্যুতের লাইন দিচ্ছে। যদি কেউ অর্থ নিয়ে থাকে কার সাথে আমরা জড়িত নই। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ইত্তেফাক/বিএএফ
