প্রধানমন্ত্রীর বক্তবের সাথে আমি পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করছি। বিদেশি সংস্থাগুলো বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা না দেয়ায় এখন এমন প্রশ্ন উঠছে। বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অন্যান্য সংস্থার উপর নির্ভরশীল আমাদের দেশের সরকার। বিদেশি সংস্থাগুলোর সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া আমাদের দেশ চলতে পারে না। সম্প্রতি পদ্মা সেতু কেলেংকারির ঘটনায় দুদকের দায়ের করা মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু দুদকের ঐ মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে প্রধান আসামি না করে বরং মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে, যা বহির্বিশ্বের কাছে আমাদের দেশকে আরো প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা শর্তেও সরকার কি উদ্দেশ্যে আবুল হোসেনকে বাঁচানোর পাঁয়তারা করছে? সরকারের উচিত আবুল হোসেনসহ অন্যান্য দুর্নীতিবাজকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুতে তাদের দেয়া শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বলে আমাদের মনে হয় না। তাই সরকারের উচিত বিশ্ব ব্যাংকের দেয়া শর্তগুলো মেনে নেয়া। তাহলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন করবে।
মো. লিটন গাজী
দক্ষিণ টেংরা, সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা-১২০৫।
একটা দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে অনেক সূচক কাজ করে। যেমন:দেশের পররাষ্ট্রনীতি, বহির্বিশ্বের সাথে আমাদের সম্পর্ক, আমাদের বিদেশের সাথে বাণিজ্যের লেনদেন, সেই সাথে আমাদের দেশীয় বুদ্ধিজীবীরা ধ্যান-ধারণা। একটা দেশ তখনই বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় যখন বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী বাণিজ্য ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ তাজরীন ফ্যাশনে আগুন লাগার ফলে আমাদের মান-সম্মান অনেক বিদেশিদের কাছে ছোট হয়েছে। অপরদিকে ড. ইউনূসকে কারণে/অকারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্নরূপে প্রশ্নবানে জর্জরিত করায় এবং তার উপর বিরূপ মন্তব্য করায় বহির্বিশ্বের একটি নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সাম্প্রতিককালে বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ডকে এর বাইরে দেখি না। তাকে হত্যা করে মানবতার পরাজয় ঘটেছে। কোন সভ্য ও সুশীল সমাজ এ হত্যা মেনে নেয়নি। হিন্দু বলে নয় মানুষ হিসেবে বিশ্বজিেক বিবেচনা করলে কোনভাবেই এটিকে ভদ্র সমাজের কর্মকাণ্ডরূপে চিহ্নিত করা যায় না। বিদেশি সংস্থা আমাদের মত গরীব দেশকে হেয়প্রতিপন্ন কেন করবে? আমরা তো এমনিতেই দিন আনি দিন খাই। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য পূর্ণ বিবেচনার দাবি রাখে। পদ্মা সেতুর ব্যাপারে যা কিছু ঘটেছে যেজন্য আমাদের মাথা অনেকখানি নত হয়েছে। এর অবস্থার উত্তরণ চাই। সেই সাথে পদ্মা সেতু যাতে দ্রুত নির্মাণ হয় সেজন্য ইতিবাচক ও কার্যকরী ভূমিকা প্রয়োজন। অন্যদিকে দুদক যে মামলাটি রুজু করেছে সে মামলায় সত্যিকারের দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
ওয়াহিদ মুরাদ, নেসারাবাদ, পিরোজপুর।
বিদেশি সংস্থা কর্তৃক সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করার কোন কারণ অমি দেখছিনা। তারা দুর্নীতির বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন। তারা সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারায় এদেশের জনগণের কাছে নন্দিত হয়েছেন। ঐ বিদেশি সংস্থাটির দেয়া লক্ষ লক্ষ ডলারের উন্নয়ন কাজ চলে এদেশের মানুষের জন্য সেখানে স্বচ্ছতা তো থাকতেই হবে। যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐ সকল চিহ্নিত দুর্নীতিবাজকে আড়াল করার চেষ্টা না করে আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারতেন তাহলে আজ তিনি বা সরকারের ভাবমূর্তি দেশে-বিদেশে উজ্জ্বল হতো কিন্তু তা না করে একজন প্রধানমন্ত্রীরা একটি বিদেশি দাতাসংস্থার বিরুদ্ধে এমন অপবাদ দেয়া আদৌ সমীচীন হয়নি।
জহির আব্বাস,
কর্মাশিয়াল ম্যানেজার,
সুপ্রিম ল্যাডেল লিঃ, তেজগাঁও, ঢাকা।
যেমন কর্ম তেমন ফল সর্বজনস্বীকৃত। বর্তমান সরকারের দুর্নীতিতে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতার দরুন সরকার দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি এবং দুর্নীতির চেষ্টা হয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বব্যাংক একমত। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশের জনগণ একমত। মিথ্যাচার করে জাতির ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হীনতা ও দীনতার বহিঃপ্রকাশ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আপামর জনগণ আশাহত। এটাও অনেকটা চোরের মার বড় গলা।
মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম টিপু,
ছাত্র, সোনবাগ, নোয়াখালী।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একটি বিদেশি সংস্থা দুদককে চাপ দিচ্ছে সরকারকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করতে। তবে আমরা বলতে চাই যেকোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তা দেখার দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের।
মো. শওকত আলী শাহীন,
ক্রিয়েটিভ আউট সোর্সিং সলুশান লিঃ,
ডিওএইচএস।
বিদেশি সংস্থা দুদককে চাপ দিচ্ছে এই উক্তিটি আমি মেনে নিতে পারছি না। নিজেরা যদি স্বচ্ছভাবে কাজ করতে পারি তাহলে এমন হবে কেন? তাই অন্যায় চাপ শুধু শুধু কেউ দিলে আমি তা মেনে নেবো কেন? সেটা যত শক্তিশালী ব্যক্তি বা সংস্থার কাছ থেকে আসুক না কেন। তার কাছে নতিস্বীকার করা যাবে না।
কাউসার আকন্দ,
টাইমস আই বেঙ্গলী ডট কম, মতিঝিল, ঢাকা।
গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি বিদেশি সংস্থা লিপ্ত। কথাটি কতটুকু গ্রহণযোগ্য সেটা বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞগণ ভালোভাবে ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তবে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির মামলায় সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনসহ তিন রাজনীতিককে বাদ দেয়ায় বিষয়টি বিশ্বব্যাংকে নিযুক্ত প্যানেলের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু মানে না হলে এ প্রকল্প আবার জটিলতার মুখে পড়বে বলে আশংকায় রয়েছেন বিশিষ্টজনের রিপোর্টে। দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে ১০ জনের নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত মামলায় ৩ জনকে বাদ দেয়ায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের আস্থা তৈরি হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাই বিদেশি সংস্থা চায় সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতা, এটাকে মানতে হবে। সত্যতা তারা যাচাই করবে। সবদিক থেকেই আজ দেশ দিশেহারা। বিজয়ের মাসে আমরা আজ তাই আহত। আমাদের অযোগ্যতা আজ সবদিক দিয়ে প্রমাণিত যে, আমরা আমাদের দেশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারছি না।
এসকে মোহাম্মদ রমিজউদ্দিন,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার।
আকাশে ঝড় ও নদীতে ঢেউ উঠলে লঞ্চ- নৌকা ডোবে। ‘আবার পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে’। ঠিক তেমনি বিদেশি সংস্থা বা মিডিয়া জগতের উপর দোষ চাপিয়ে সরকারের অদূরদর্শিতা, স্বেচ্ছাচারিতা, দখল, দুর্নীতি ও অপশাসনকে কি ঢাকতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা সেতু দুর্নীতিতে দলীয় নেতা-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলাই করলো না দুদক। অন্তত মামলা হলে তো প্রমাণিত হতো কে বা কারা দোষী। এদেশ মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন করেছিল সারাদেশের আমজনতা। অথচ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য আজ বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ পুরো জাতিকে দু’ভাগে বিভক্ত করে দেশে এক অপ্রত্যাশিত গৃহযুদ্ধ ঘটানোর নীলনক্শা জাতির সামনে আজ দণ্ডায়মান। তাই কাউকে দোষারোপ না করে নিজের চেহারা আয়নায় দেখতে হবে। নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিয়ে নিজেদের কৃতকর্মের ফল যাচাই করার মানসিকতা অর্জন সরকার প্রধানের জন্য বাঞ্ছনীয়।
কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর,
সাধারণ সম্পাদক, হিউম্যান রাইটওয়াচ বাংলাদেশ,
জেলা কমিটি মুন্সীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ।
কার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ, কে লিপ্ত, আর কে অভিশপ্ত, এ বেহুদা এসব কিচ্ছা কাহিনী শুনতে শুনতে আমরা মহাক্লান্ত। আমাদের দেশ খুন-খারাবি আর লুটতরাজ ছাড়া এমন কোন উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছায়নি বা স্বনির্ভর হয়ে উঠেনি, যা দেখে দেশি- বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা তা ধ্বংস করার বা তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে। সত্ রাজনীতি আর যোগ্য ব্যক্তির সুশাসনে দেশ শাসিত হলে ষড়যন্ত্রকারীরা রাতের আঁধারে পালিয়ে যাবে।
মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
সরকারি কর্মকর্তাদের দেশ ও জাতির মঙ্গলের বা উন্নয়নের কাজে স্বচ্ছতা থাকলে বিদেশি কোন সংস্থাই বাংলাদেশকে হেয়প্রতিপন্ন করতে পারে না। দেশসেবায় দরদী সমাজকল্যাণমূলক জাতির উন্নয়নের কাজ করলে কেউ কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করতে পারে না। মন্ত্রী পরিষদ স্ব-স্ব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে কোন সংস্থাই সুযোগ নিতে পারে না। আমাদের দেশটি একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। তাই বিদেশি সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। এই সংস্থাগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরো উন্নতি করতে সাহায্য করে। এ জন্য সকল কাজের স্বচ্ছতা রাখতে হবে। খুঁজে দেখতে হবে হেয়প্রতিপন্ন কেন করে।
আশা এলিজাবেথ গোমেজ, লক্ষ্মীবাজার ঢাকা।
গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে বিদেশি সংস্থা লিপ্ত বলে যে উক্তি করেছেন তা ঠিন নয়। শুধু বিদেশি সংস্থা নয়, অন্যান্য সংস্থাও এটার সংগে লিপ্ত রয়েছে। তাই এ ব্যাপারে সরকারকে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহিদ উল্লাহ,
স্টুডিও ফুজিয়া এন্ড কালার ল্যাব, মিরপুর-১, ঢাকা।
আমাদের দেশের সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে শুধু একটি বিদেশি সংস্থা কেন, এমন বহু সংস্থা রয়েছে যারা আমাদের দেশের উন্নয়ন চায় না, তথা দেশের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়। কাজেই এ সরকারের একান্ত উচিত হবে আমাদের দেশের ভিতরের ঐ সকল সংস্থাকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। দরকার হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের আওতায় এনে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আশু ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মনে করি।
তাছাড়া দেশীয় মদতদাতাদের চিহ্নিত করে এর সুব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকার সচেতন জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। তা না হলে আগামী দিনগুলোতে এদেশের শুধু এ সরকার কেন, অন্য কোন সরকার আসলে ঐ বিদেশি ষড়যন্ত্রের চাপে টিকে থাকতে পারবে না। তাই আশু সতর্কতা অবলম্বন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করি।
আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম (হিফজু),
প্রচার সম্পাদক, মানব কল্যাণ ইসলামী সংস্থা,
হাউজিং এস্টেট, রাজশাহী ৬২০২।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কথা বলেছেন, আমার মতে ঠিক হতে পারে। যারা বিদেশি আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে গ্রহণ করতে পারেনি তারা এসব কাজ করতে পারে। তাছাড়া আমাদের ভিতর মীরজাফর ছিলেন এবং আছেন তারাই আমাদের দেশকে ক্ষতি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কিন্তু আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধা দেশ রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন হলে আবার রক্ত দেবো— আবার জান দেবো। কিন্তু এ দেশকে রক্ষা করেই ছাড়বো।
সৈয়দ হায়দার আলী,
সভাপতি, মহাখালী যুবকল্যাণ সমিতি,
মহাখালী, ঢাকা।
কোন বিদেশি সংস্থা সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নেই। প্রধানমন্ত্রীর এই বাক্য বিভ্রান্তিমূলক। বিদেশি আর্থিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা যদি না দেয় তাহলে বাংলাদেশ ছয় মাসও চলবে না। বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি প্রতি বছর বাংলাদেশকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা করে থাকে। বর্তমান সরকারের নিজ দলীয় দুর্নীতিবাজ লোকদের কারণে দেশের সুনাম বহির্বিশ্বের কাছে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সৈয়দ আবুল হোসেনের কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণ হচ্ছে না। হলমার্ক কেলেংকারি, শেয়ারবাজার লুটপাট, সোনালী ব্যাংক জালিয়াতিগুলোর সঙ্গে সরকার দলীয় লোকজন জড়িত।
হাজি মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন,
১/১৭/বি, সিকদার রিয়েল এস্টেট, টালী অফিস, ঢাকা।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ কথা আশা করিনি। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে তা শুধু বিদেশিরাই জানে না, সারা পৃথিবীর লোকজনই জানে। সরকার নিজে গা ঢাকা দেবার চেষ্টা করছে বলে মনে হয়।
মোফাজ্জল হোসেন, টঙ্গী, গাজীপুর।
আমার মতে, তার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের দুর্নীতি ও অযোগ্যতায় এসব ঘটছে। দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতু স্বপ্নের সেতুতে পরিণত হয়েছে। আইন শৃংখলার ব্যর্থতার কারণে এসব হচ্ছে। সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ এক অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
মোহাম্মদ সুলতান বাহাদুর
বলদিয়া, রাজাবাড়ী, পিরোজপুর।
প্রধানমন্ত্রীরা বিশ্ব ব্যাংক সম্পর্কে এ রকম বক্তব্য এবং সাবেক দু’মন্ত্রীকে আসামি না করায় পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বর্তমানে দেশে যে সকল অপকর্ম চলছে যেমন শেয়ার বাজার লুট, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, গুম, হত্যা, চাঁদাবাজি, বৌদ্ধমন্দিরে হামলা এবং সর্বশেষ বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ড- এ সকল অপকর্ম কোন বিদেশি সংস্থার নয়। এগুলো এ সরকারেরই সৃষ্টি। পদ্মাসেতুতে প্রধানমন্ত্রীকেই তার বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে হবে।
মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম, ধূনোট, বগুড়া।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি বিদেশি সংস্থা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এ কথায় আংশিক সত্যতা রয়েছে। পাশাপাশি এটাও সত্য যে বাংলাদেশ সরকার এ সমস্ত বিদেশি সংস্থাকে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সরকারকে আরো তীক্ষ্ম দৃষ্টি দিতে হবে। এ অপকর্মে শুধু বিভিন্ন সংস্থা যে লিপ্ত তা বললেই হবে না—এর সত্য উদঘাটন করতে হবে।
গাজী মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী
বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
আমরা আশা করছি সরকার পক্ষ সব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন এবং নিজেরাও সংযম প্রদর্শন করবেন। যা থেকে দেশবাসী অনেক কিছু শিখতে পারবেন। সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে বিদেশিদের দরকার নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সংঘাত এতে করে এমনিতেই হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছে। প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে একজন নিরীহ মানুষ বিশ্বজিেক যেভাবে চাপাতি দিয়ে খুন করা হয়েছে এতে মনেই হয় না এদেশে কোন সরকার আছে। সব স্থানে অশান্তি আর অশান্তি। হানাহানি খুনোখুনি হচ্ছে। সরকার যদি এ সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় না দিতেন তাহলে এতো সন্ত্রাসী হতো না। ভবিষ্যতে দেশের জনগণ আর দু’ নেত্রীকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এমন একটা মানুষ দরকার যার জনগণের জন্য মায়া আছে, নিতি নিষ্ঠাবান ব্যক্তি হিসেবে দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত হবেন।
তাহমিনা আক্তার মিনু
উত্তর বাড্ডা বাজার, তেঁতুলতলা রোড, ঢাকা।
স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ ও এদেশের শান্তি বিঘ্নিত করতে এ দেশিয় ও বিদেশি সংস্থা ষড়যন্ত্র করছে। প্রধানমন্ত্রীর কথাগুলো নিঃসন্দেহে সত্য বলেই মনে করছি। কেননা এই বিজয়ের মাসে হরতাল আর অবরোধের মত ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিয়ে মানুষকে খুন করার মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে থাকা বিরোধীদল আবারও তা প্রমাণ করেছে। জনগণ এখন অনেক শতর্ক অবস্থানে আছে ঐ ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে। জনগণকে মারপিট করে ক্ষমতায় যেতে চায় ষড়যন্ত্রকারীরা। আর এতে সহায়তা করছে বিদেশি সংস্থা অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা এই সরকারকে ভয় করলে চলবে না। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণ ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে আবারও মুক্তিযুদ্ধের মত যেকোন সময় প্রস্তুত আছে। ষড়যন্ত্রকারী ঐ বিদেশি সংস্থাকে এ দেশে থেকে নির্মূল করাই হবে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের আরেকটি বিজয়।
ফারুক আহমেদ, দৈনিক আমাদের রাজশাহী, রাজশাহী।
সব সরকারের আমলেই বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকেই। এ সরকারের আমলেও ব্যতিক্রম কিছু নয়। তবে বিদেশি ষড়যন্ত্রের চেয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগনের কিছু কিছু বক্তব্য বিদেশির ষড়যন্ত্রের চেয়েও দেশের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে—যা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অবস্থার উপর চরমভাবে প্রভাব পড়ে। দেশের মঙ্গলের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভেবেচিন্তে যন্ত্রশীল হয়ে কথা বলা উচিত। যদিও মন্ত্রীরা দলের ব্যক্তিত্ব কিন্তু সরকারের মন্ত্রী ১৬ কোটি মানুষের কোন দলের নয়।
মন্জু খন্দকার, চুয়াডাঙ্গা।
প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তা কোনভাবেই সত্য নয়। বরং প্রধানমন্ত্রী বহু বছর ধরে বিদেশি অনেক সংস্থার সমর্থন পেয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগ কখনও সত্য কথা বা উচিত কথা সহ্য করতে পারে না। এটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট। দুর্নীতির মামলা থেকে দুই আবুলকে বাদ দিয়ে সরকার ভুল করেছে। বর্তমান সরকারের দুর্নীতি অতীতের সব সরকারকে ছাড়িয়ে গেছে। তাই সরকার নিজেদের অনেক প্রভাবশালী মনে করে। তাই মুখেই যা আসে তাই বলতে চায়।
সাইফুল ইসলাম তানভীর, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট।
ষড়যন্ত্রে যদি একটি বিদেশি সংস্থা লিপ্ত থাকতোই তাহলে সরকার কেন তাকে ধরে না। ধরে তাকে শাস্তি দেয়া হোক। তা না করে শুধু শুধু মুখেই বলা কি ঠিক।
তৌহিদুর রহমান,
২৩৫, উত্তর শাহজাহানপুর, ঢাকা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিদেশি সংস্থার নাম উল্লেখ করেননি। তবে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে দুদকের সঙ্গে কাজ করছে বিশ্বব্যাংক। দুদক পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছিল মর্মে একটি মামলা করেছে। দুদকের অনুসন্ধানে কেউ নিরপরাধ বিবেচিত হলে তাকে মামলায় অভিযুক্ত করতে হবে এমন দাবিতো কেউ করছে না। একথা সবার জানা যে, এ অভিযোগের সূত্র ধরেই সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। বর্তমানে দুদক সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যেখানে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রীর নাম নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিশ্বব্যাংক দুদকের উপর চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে দুদক চেয়ারম্যান বলছেন দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তাহলে এখানে দুদক চেয়ারম্যানই প্রধানমন্ত্রীরা এ বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণ করছেন। এখানে আমরা কোন কথার উপর ভরসা করবো। সুতরাং একথা নির্দিধায় বলা যায় যে, সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করতে কোন বিদেশি সংস্থা নয় বরং বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এ সরকারই লিপ্ত।
মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, সারিয়াকান্দি, বগুড়া।
আন্তর্জাতিকভাবে সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিদেশি সংস্থার প্রতি প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন। ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা বিদেশি সংস্থার প্রতি সজাগ হওয়া কর্তব্য। তাদের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হতে পারে দেশ ও জনগণ। বিদেশি সংস্থার মন্তব্য ও প্রতিবেদন প্রকাশে দেশ ও জণগণের মধ্যে সরকারের প্রতি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। দেশে সৃষ্টি হতে পারে অরাজকতা, তুমুল সন্ত্রাসবাদ কিংবা অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ সরকারকে বেকায়দায় ফেলে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে ঐ বিদেশি সংস্থা তত্পর রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ৭১ পরবর্তী শত্রুরা এখনও ওত পেতে আছে, তারা বিদেশি সংস্থার উপর ভর করে উস্কে দিচ্ছে না ষড়যন্ত্রের। এক্ষেত্রে দেশের সরকার বিরোধী দল এবং সাধারণ জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।
শাহ মুহ. হেলালউদ্দিন হিরু, কালিহাতি, টাঙ্গাইল।
একটি বিদেশি সংস্থা দুদককে চাপ দিচ্ছে সরকারকে দুর্নীতি প্রমাণ করতে এটা ঠিক নয়।
ফারুক, মালিবাগ, ঢাকা।
একটি দেশ বা জাতি বহির্বিশ্বে পরিচিত হয় সে দেশের জনগণ ও শাসক গোষ্ঠীর কার্যকলাপের কারণে। অন্য রাষ্ট্র হেয় প্রতিপন্ন করতে চাইলে সর্বদা তা ফলপ্রসূ হয় না। সম্প্রতিকালে পদ্মা সেতু দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে।
সুফিয়া রহমান
মোহাম্মদী হাউজিং লি., মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
রাজনৈতিক নেতাদের বচনভঙ্গিতে ইতিবাচক বা নীতিবাচক শব্দ উঠে আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে মিথ্যাকে সত্য বলে বেশিদিন চালানো যায় না। বর্তমান সরকার অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। প্রতিশ্রুতির কতটুকু দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করেছেন তা তারা ভাল করেই জানেন। বিদেশি সংস্থা সরকারের সুনাম নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে এসব তাদের মুখেই মানায় যারা ষড়যন্ত্রের মূল মন্ত্র সম্পর্কে অভিজ্ঞ। যেখানে সরকারের লালন-পালন করার সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে সেখানে সরকারের সুনাম নষ্ট করার জন্য বিদেশি সংস্থাকে খুব বেশি প্রয়োজন হবে এটা বিশ্বাস হয় না। তবে তাদের সুসংগঠিত কর্মকর্তারাই যথেষ্ট।
রহিমা আক্তার, তেজগাঁও, ঢাকা।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন, সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিদেশি সংস্থা লিপ্ত। এটা কোন যুক্তি হলো না, আমার কথা হলো বিদেশি সংস্থা কেনই বা আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করবে? বরঞ্চ আমরা করছি আমাদের নৈতিকতার কারণে। তাদের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া এদেশের অগ্রসর হওয়া সম্ভব হতো না। তাজরীন ফ্যাশনে আগুন বিদেশের কাছে আমাদের অনেকটা মাথা নিচু করে দিয়েছে। সুতরাং বিদেশি সংস্থা কোন রকম দায়ী নয় সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী,
ইয়ং ওয়াং হাইটিচ স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড ইন্ডাস্ট্রিজ,
ইপিজেড, সাভার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কথাটি একেবারে অসত্য বলেননি। তবে হঠাত্ করে তিনি কেন এমন মন্তব্য করলেন, সেটি সহজেই অনুমেয়। আমাদের দেশের কোন রাজনৈতিক দলই বিদেশি বন্ধুদের ইশারা ছাড়া ক্ষমতায় আসতে পারেনি। হলে কি হবে, তারা এতই অকৃতজ্ঞ যে, তাদের স্বার্থে সামান্য আঘাত লাগলেই অতীতকে ভুলে যায়। তাই পরনির্ভরশীলতা কমাতে হবে, ভালোবাসতে হবে নিজের দেশ ও দেশের মানুষকে। নিজের দল, বিরোধী দল তথা দলমত নির্বিশেষে সকল সাধারণ জনগণের জান-মাল রক্ষার দায়িত্ব কিন্তু সরকারেরই। এ রকম মনোবৃত্তি নিয়ে দেশ চালালে ক্ষমতায় আসার জন্য আর বিদেশি প্রভুদের ওপর নির্ভর করতে হবে না। ক্ষমতায় যেতে নিজের দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেবেন না। তবেই বিদেশিরা ষড়যন্ত্রের সুযোগ কম পাবে এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
ডা. মর্জিনা আক্তার
বারিধারা পাইলস কিউর সেন্টার
উত্তর বারিধারা, ঢাকা-১২১২।
সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি বিদেশি সংস্থা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মর্মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মন্তব্য করেছেন তার সাথে সত্য ও বাস্তবতার লেশমাত্র সংশ্রব নেই বলেই জনগণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকার ও প্রশাসনের কর্ণধাররা ভুলে যান যে তাদের উক্তি ওহি বা দৈববাণী কিংবা বেদবাক্য নয় যে বিনা যুক্তি ও প্রতিবাদে জনগণ বিশ্বাস করে বসবে। প্রধানমন্ত্রী নাম উল্লেখ না করলেও আমরা বিশ্ব ব্যাংককে তার কটাক্ষের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরে নিচ্ছি। বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুতে ১২০ কোটি ডলার ঋণের অনুমোদন দিতে ধাপে ধাপে পর্যালোচনা করতে গিয়ে (যদিও পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষই ধারাবাহিকতা রক্ষা না করে বার বার পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে সন্দেহ ও বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে) কর্পোরেট আমলাভুক্ত সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ তার দোসরদের দুর্নীতি তাদের নজরে আসে। মূলত কানাডার পুলিশই প্রথম এদতসংক্রান্ত সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করতে গিয়ে ১০% দুর্নীতির হিস্যার প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেয়। সাথে সাথে বিশ্ব ব্যাংক সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানিয়ে দেয়।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
আরমান ভূঁইয়ার বাড়ী, চৌমুহনী
হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।
প্রধানমন্ত্রী কোন বিদেশি সংস্থাকে ইঙ্গিত করেছেন, তা তিনি খোলাসা না করে বললেও আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ভারতের পার্শ্ববর্তী পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশের কথাই উল্লেখ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, তার কাছে যদি কোন প্রমাণ থাকে সেটি জনগণ জানতে চায়। সেটি হলে সে দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও জোর দাবি জানাই। তবে পাশাপাশি এও বলতে চাই যে, সরকার কী সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করার কখনো চেষ্টা করেছে? এ সরকারের আমলে লেজে-গোবরে অবস্থা অতীতে কোন সরকারের সময়ই দেখা যায়নি। ভুল- ভ্রান্তি ও এমনকি দুর্নীতি আগের সরকারগুলোর সময়ও ছিল। কিন্তু এ সরকারের আমলে কেন জানি মনে হয়, কোন সঠিক দিক-নির্দেশনা তো নেই-ই, বরং উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের সকল কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যেই।
অধ্যাপক ওমর ফারুক
নিহাল পাবলিকেশন, বাংলাবাজার, ঢাকা।
প্রধানমন্ত্রীর শান্তি মডেল জাতিসংঘে গৃহিত হওয়ায়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাথে দেশবাসীও সম্মানিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থা প্রমাণ করেছে, ভালকে ভাল বলতে, তাদের কোন হীনতা-দ্বীনতা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি বিদেশি সংস্থা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে যে দাবি করেছেন, এ বিষয়ে আমরা আংশিক সত্য মেনে বলতে চাই, সরকারের সিংহভাগ কর্মকাণ্ডের কারণে, অনেক ক্ষেত্রে বির্তক সৃষ্টি হয়েছে। যেমন-তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে একটা মীমাংসিত ইস্যু অমীমাংসিত করা, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির গন্ধ সৃষ্টি করা, শেয়ার বাজার লোপাট করা, হলমার্ক কেলেংকারি সৃষ্টি করা, দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে ওঠা কুইক রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ কে দায় মুক্তি দিতে বিশেষ আইন করা, দলীয় লোকজনদের টেন্ডারবাজি, ভর্তি বাণিজ্য, অপহরণ বাণিজ্য ও মন্ত্রীর বস্তা ভর্তি ঘুষের টাকা ধরা পড়ার মতো কিছু নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড ঘটে যাওয়ায়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে, আর এ সমালোচনাকেই সরকার ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের অভিমত হলো, সরকারের এমন কোন পদক্ষেপ নেয়া উচিত হবে না, যাতে করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে পারে। এতে সরকারের সাথে সাথে দেশবাসীও অসম্মানিত হয়।
মুরাদ হোসেন, মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর।
যে কোন ষড়যন্ত্রই কঠোর হাতে দমন করতে হবে। সরকারকে বিব্রত করতে একটি গোষ্ঠী রয়েছে তাদের কাজই হলো সব সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা। আবার আরেক ষড়যন্ত্রকারী রয়েছে টাকা দিয়ে তারা লবিং পর্যন্ত করেন। তাদের কাছে দেশ বড় কথা নয় তাদের স্বার্থই বড় কথা। দেশের মধ্যে পদ্মা সেতু, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার এবং গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে। একাত্তরের ঘাতকরা তাদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। অপরদিকে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করে দিতে পোশাক খাতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। তাই বিদেশি যে কোন সংস্থাই হোক না কেন তাদের সরকারের পাশাপাশি জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে। সবার মনে রাখতে হবে, আগে দেশ তার পর হলো স্বার্থ রক্ষা।
মো. আব্দুল হাকিম, বিনোদপুর,পঞ্চসার,মুন্সীগঞ্জ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উক্তি করেছেন তার প্রেক্ষিতে আমি বলবো বিদেশী সংস্থা কখনও এ দেশের জন্য হেয় প্রতিপন্ন করার মনোভাব করে না। এ কারণে বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ। বরঞ্চ তাদের সাহায্য-সহযোগিতায় আজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং তাদের এতো সময় নেই যে এ দেশকে হেয় প্রতিপন্ন করার।
জাহাঙ্গীর খান বাবু
চেয়ারম্যান, বিজয় উল্লাসে বিক্রমপুর,
সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ।
বর্তমানে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসায় উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে সারাবিশ্বেই ওরা লবিং নিয়োগ করেছে। যাদের অপপ্রচারে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বিনষ্ট হচ্ছে। এবং দাতা সংস্থারা মুখ ফিরিয়ে নেয়াতে পাদ্মা সেতুসহ দেশের সফল উন্নয়ন প্রকল্প আজ মুখ থুবড়ে পড়ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে ওরা হরতাল অবরোধের নামে চোরাগুপ্তা হামলা, গাড়িতে আগুন, ও পুলিশের ওপর আক্রমণসহ দেশকে অস্থিতিশীল করতে তুলছে। ওদের কর্মকাণ্ডকে নিষিদ্ধ করার দাবীতে সারা দেশেই শান্তিপূর্ণ হরতাল ইতোমধ্যেই পালন করেছে পুরো জাতি। তাই ওদের মূলোত্পাটন করতে হলে ওদের মালিকানাধীন সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রোকের মাধ্যমে সরকারের হেফাজতে এনে দেশে-বিদেশে যারা ওদেরকে শক্তি যোগাচ্ছে তাদেরকে নির্ণয় করে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সরকারেরও নিজস্ব বলিষ্ঠ লবিং নিয়োগ করতে হবে। তবেই দেশে-বিদেশে দুর্ভাগা এই জাতির হারানো ভাবমূর্তি ফিরে আসবে।
মিরাজুল ইসলামত মাহির, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।
একজন দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ বক্তব্য আমরা কখনই প্রত্যাশা করি না। বর্তমান সরকারের অনেক অনিয়মের কারণেই দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বিদেশিদের কাছে। তাই এর থেকে উত্তরণের জন্য এখনই স্বচ্ছভাবে কাজ করা দরকার।
নীলুফা আক্তার, টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা।
বিদেশি সংস্থা কেন চাপ দেবে? তবে তারা দুর্নীতির বিষয়টিকে পরিষ্কার করার জন্যই চাপ দিয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। আসলে কোন বিদেশি সংস্থা বর্তমান সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে মোটেই লিপ্ত নেই।
মো. মজিব, উত্তরা, ঢাকা।
গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিদেশি সংস্থা লিপ্ত— উক্তটির সংগে আমি একমত নই। কারণ সরকার প্রধান এখন এতো ব্যস্ত আর এ ব্যস্ততার মাঝে কখন কি বলছেন তার হিসেব নেই। বিদেশি সংস্থাকে এভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি। বিদেশি সাহায্য ছাড়া আমাদের দেশ কিভাবে অগ্রসর হবে এবং বিদেশি সংস্থা হলো আমাদের সহযাত্রী। দেশকে উন্নয়নের মাঝে নিয়ে যাওয়ার পিছনে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। বরঞ্চ উক্ত উক্তিটি বেদেশি সংস্থাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। নিজেদের দুর্নীতিকে আড়াল করার জন্য এখন সরকার প্রধান-দিশেহারা। নিজেদের ঘরের মধ্যেই রয়েছে অনেক দুর্নীতিবাজ। সেগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির মাঝে ১০জনের নাম থাকলেও ৭জনকে মামলায় নেয়া হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের চোখের সামনে এক মহা কারসাজি করা হয়েছে। হলমার্ক কেলেংকারি, শেয়ারবাজার কেলেংকারি, রামু বৌদ্ধ মন্দির, তাজরিন ফ্যাশনে আগুনে, সর্বশেষ বিশ্বজিত্ হত্যা এ সব ঘটনাকে ১৬ কোটি মানুষের চোখের সামনে কিভাবে ফাঁকি দেবেন তারা। এখন বলা হচ্ছে বিদেশি সংস্থারা আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করছে। বিদেশের সাহায্য-সহযোতাি নিয়ে আমরা টিকে আছি। আর তাদের সাহায্য-সহযোগিতা ব্যতিত আমাদের দেশকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না।
লাডলা,
রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ধানমন্ডি, ঢাকা।
