কাশি বা বুকে কনজেশন হলেই আমরা এন্টিবায়োটিক সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি অথবা চিকিত্সক এন্টিবায়োটিক দিতে পছন্দ করেন। কিন্তু কাশি বা কফের চিকিত্সায় এন্টিবায়োটিকের কোন কার্যকারিতা নেই বা সামান্যই কাজে আসে এন্টিবায়োটিক নামের এ মূল্যবান ওষুধটি। এমনকি অনেক সময় কাশি নিরাময়ের এন্টিবায়োটিক বা জীবাণুনাশক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে এ ধরনের সমস্যায় প্রায় প্রতিটি পরিবার তাদের ফ্যামিলি চিকিত্সকের পরামর্শ নেন এবং তারা এন্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দেন। বিশেষজ্ঞগণের মতে, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে কাশি হয়ে থাকে এবং এধরনের সংক্রমণ ঘটে সাধারণত এক ধরনের ভাইরাসের মাধ্যমে। আর ভাইরাস চিকিত্সায় এন্টিবায়োটিক বা জীবাণুনাশকের কোন ভূমিকা নেই। বিশ্বের সবচেয়ে খ্যাতিমান মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটের অনলাইন সংকলনে প্রকাশিত গবেষণা রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ব্রিটেনের সাউথ হ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড:পল লিটল উল্লেখ করেন প্রাইমারি কেয়ার ডক্টররা সাধারণত এ ধরনের সমস্যায় এন্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞগণ ইউরোপিয়ান সহস্রাধিক রোগী গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের অন্তত ২৮ দিন অপেক্ষা কম সময়ের পুরাতন কাশি ছিল এবং যাদের অ্যামোক্সিসিলিন সেবন করতে দেয়া হয় এবং সমসংখ্যক রোগীকে দেয়া হয় প্লেসিবো। এদিকে সুইজারল্যান্ডের আরাউ-এর মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ড. ফিলিপ সুয়েজ তার মতামতে উল্লেখ করেন লোয়ার রেসপাইরেটরি ইনফেকশনে ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে সামান্যই। এই বিশেষজ্ঞের মতে ড. লিটল ও তার সহযোগিরা একটি চমত্কার গবেষণা করেছেন এবং নিউমোনিয়া সন্দেহ না হলে কোনভাবেই কাশির জন্য এন্টিবায়োটিক সেবন বাঞ্ছনীয় নয়। অ্যালবার্টা বিশ্ববিদ্যালরের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. লিনোরা সাক্সিংগারও একই অভিমত পোষণ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউমোনিয়া বা ফুসফুসে ইনফেকশনের ঝুঁকি না থাকলে কোনভাবেই এন্টি-বায়োটিক সেবন করা উচিত নয়।
