ভারত গিয়েছিলেন উনি তেল দিতে

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চান। কিন্তু যারা যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়ে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করে, জনগণ তাদের আর কোনদিনই ক্ষমতায় দেখতে চায় না। বিরোধী দলীয় নেত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, উনি ক্ষমতায় থাকলে ভারতের বিরোধিতা করেন; আর ক্ষমতার বাইরে থাকলে ভারতপ্রীতি দেখান। তার ক্ষমতার এত লোভ যে, ‘তিনি তেল দিতে দিল্লিতে গিয়েছিলেন’। আগেরবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার কথা বলতে ভুলে গিয়েছি’। আর এবার দিল্লি গিয়ে সীমান্ত হত্যার কথাটি তুলতেই ভুলে গেছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী। প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারো নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার জন্য দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। যশোরের বিশাল জনসমুদ্র দেখে অভিভূত প্রধানমন্ত্রী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট সে তরী, আমার সোনার ধানে গিয়েছে ভরি’। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয় যশোর শহর। ঈদগাহ ময়দান ছাপিয়ে গোটা শহরে জনতার ঢল নামে। বিজয়ের মাসে বিজয় আনন্দ আর নির্বাচনী মেজাজের সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যশোর শহর একেবারেই নতুন রূপে আবির্ভূত হয়। সদরসহ ৮টি উপজেলা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, খুলনাসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা যশোরে জড়ো হতে থাকেন তাদের প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে এবং তার কথা শুনতে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে শ্লোগানের গগণবিদারী আওয়াজ তুলে শত শত মিছিল এগিয়ে যায় ঈদগাহ অভিমুখে। ব্যানার ছাড়াও তারা বহন করে জাতীয় পতাকা, নৌকা প্রতীক আর যুদ্ধাপরাধীদের বিদ্রূপাত্মক কার্টুন। দুপুর ১২টার পরপরই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেলে অন্যদের ঠিকানা হয় টাউন হল ময়দান, কালেক্টরেট চত্বর এবং বার লাইব্রেরি মোড়। এবারই প্রথম ১৬টি প্রজেক্টরে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জনসভার কার্যক্রম প্রচার করা হয়। যারা শহরে আসতে পারেননি তারা ঘরে বসে বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলের সাহায্যে বক্তব্য সরাসরি সমপ্রচার দেখেন। জনসভা মঞ্চের পাশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে প্রতীকী এজলাস স্থাপন করে সবার নজর কাড়েন আয়োজকরা। ওই এজলাসে প্রতীকী বিচারক, সরকার ও আসামি পক্ষের আইনজীবী ছাড়াও গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামীসহ আটক যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিকৃতি আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে বিজয় মাসের শুভেচ্ছা জানিয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে যশোরের প্রতিটি প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার জন্য যশোরবাসীর প্রতি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, গত নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলাম সরকার গঠন করলে যশোরের উন্নয়ন সাধন করবো। সে কথা রাখতে আড়াইশ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ভবদহের জলাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করেছিলাম আজ যশোর থেকে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। এখন থেকে যশোরের সকল সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত হবে। জনগণ ঘরে বসে তথ্য এবং সেবা পাবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সাথেও যোগাযোগ রাখা সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিটি জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সেবার ব্যবস্থা করেছি। এতে জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হচ্ছে। অর্থনীতি মজবুত হচ্ছে। তিনি যশোরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এর মধ্য দিয়ে কৃষিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে। যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখনই জনগণ কিছু না কিছু পায়। আওয়ামী লীগ চায় দেশের সবার উন্নতি। প্রধানমন্ত্রী অতীতের কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা কিছু উন্নয়ন করেছিলাম। কিন্তু ২০০১ সালে ভোট কারচুপি করে বিএনপি ক্ষমতায় এসে উন্নয়নের টাকা লুটপাট এবং অত্যাচার-নির্যাতন করেছিল। আমাদের রেখে যাওয়া ১০ টাকা কেজির মোটা চাল তারা ৩৮-৪০ টাকায় ঠেকিয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আপনাদের রায় নিয়ে সরকার গঠনের পর আমরা দেখলাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি। এজন্য স্কুল, কলেজ শিক্ষকসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়ানো হয়। ক্রয় ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় দিনমজুররা দৈনিক ৩-৪’শ টাকা রোজগার করছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করায় মোটা চালের দাম এখন ২২ থেকে ২৮ টাকার মধ্যে। এখন একজন কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। জামানত ছাড়াই এখন বেকার যুবকরা কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে চার লাখেরও বেশি বেকার যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ৮০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। বেকার যুবক-যুবতীরা চাকরির পিছনে না ছুটে নিজেরা কাজ করতে পারছে, সাথে সাথে অন্যদেরও কাজ দিতে পারছে। বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে যুবকরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে এবং মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে। আমরা স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। এজন্য দেশের মানুষের খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা আরো বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিলেন। আমরা মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনা বেতনে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছি। লেখাপড়া করার জন্য এখন আর পয়সা খরচ করতে হয় না। আগামী ১ জানুয়ারি ২৭ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এক লাখ ৩০ হাজার টাকার মোবাইল আমরা হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছি। আগামীতে প্রত্যেকের জন্য কম্পিউটার আর মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম করার ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, আওয়ামী লীগ কথা রাখে। আমরা চাই প্রত্যেকে তার নিজের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচবে। দারিদ্র্য বিমোচনকে গুরুত্ব দিয়ে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের বাস্তবায়নসহ নদী ভাঙ্গনকবলিত মানুষের জন্য বাড়িঘর ও স্কুলের পাকাঘর নির্মাণ করে দিচ্ছি। স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করছি। এর ফলে মা-বোনরা স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা সেবা পাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি নির্মূলে বদ্ধপরিকর। স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য ডেসটিনি-হলমার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত মেয়াদে আমরা বিদ্যুতের উত্পাদন ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছিলাম। কিন্তু বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট দুর্নীতি আর লুটপাট করেছিল বলেই বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়াতে পারেনি। তারা শুধু খাম্বা বানিয়েছিল আর তা বিক্রি করে টাকা লুটপাট করেছে। কিন্তু গত ৪ বছরেরও কম সময়ে আমরা সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়িয়েছি, যা আর কোন সরকার পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশকে হত্যা, খুন আর লাশ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। বিরোধী দলীয় নেত্রীর দুই ছেলে টাকা লুটপাট করেছে। হাওয়া ভবন খুলে টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এবং তা বিদেশে পাচার করে। সে টাকা আমরা ফেরত এনেছি। বিএনপি নেত্রীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, উনি নাকি দেশের চেহারা পাল্টে দেবেন! কী পাল্টাবেন তিনি? আমরা দারিদ্র্যতার হার ১০ ভাগ কমিয়েছি। তিনি কী আবার তাদের গরীব বানাবেন? আমরা যাদের নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত করেছি তাদের আবার নিম্নবিত্তে পরিণত করে চেহারা পাল্টে দেবেন? বিদ্যুেকন্দ্র আবার বন্ধ করে অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দেবেন? বই দেয়া বন্ধ করে লেখাপড়া বন্ধ করে দেবেন? কেনই বা দেবেন না তিনি—এমন প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই ছেলের লেখাপড়ার জন্য তিনি সরকারি কোষাগার থেকে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু ছেলেদের দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং করতে শিখিয়েছেন। সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের ভয় পাবে কেন? জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া পাকিস্তানি এক জেনারেলের তত্ত্বাবধানে ঢাকা সেনানিবাসে ছিলেন। তখন কী বিএনপির জন্ম হয়েছিল? প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী চান জামায়াত-শিবিরকে সাথে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে। তাদের বাঁচাতে চান বলেই বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। আবার তিনি মুক্তিযুদ্ধের কথাও বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে খালেদা জিয়া দুর্নীতি করে যে অর্থ উপার্জন করেছিলেন তা জরিমানা দিয়ে সাদা করেছেন। এরপর ওনার মুখে যখন দুর্নীতি রোধ করার কথা শুনি তখন মনে পড়ে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’। প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে এটা কেউ বলতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকও দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কথা বলেছে। তিনি বলেন, দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা অনেকেরই পছন্দ হয়নি। আমরা চাই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করে প্রত্যেকের জীবনে উন্নতি ও সমৃদ্ধি আনতে। তরুণরা যাতে তাদের মেধা দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নত করতে পারে আমরা সেভাবে কাজ করছি। ছেলে-মেয়েরা যাতে মানুষের মত মানুষ হতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ফান্ড করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার জন্য আমরা কাজ করছি। প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও জেলা হাসপাতালের মান আরো বাড়ানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে বাংলাদেশ তখন পুরস্কার পায়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে পায় তিরস্কার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের মডেল বিশ্বসভায় স্থান করে নিয়েছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য বাংলাদেশের কার্যক্রম জাতিসংঘে শান্তির মডেল হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। আমাদের মডেল হলো গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মুক্ত করে জনগণের ক্ষমতায়ন করা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলুষমুক্ত করে দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলায় পরিণত করার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ শেষ করেন। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আলী রেজা রাজুর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-হানিফ, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক সংসদ সদস্য শাহ হাদিউজ্জামান, জাতীয় সংসদের হুইপ শেখ আব্দুল ওহাব, সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটো, খান টিপু সুলতান, রণজিত্ রায়, রওশন জাহান সাথি, সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুজ্জামান শিখর, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখ। জনসভায় ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকারের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী সেতু এবং যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে শুরু করে অনেক সেতু আওয়ামী নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় নির্মিত হয়েছে। তিনি উন্নয়নের এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে সবাইকে আগামী নির্বাচনে আবারো আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। অপরদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সরকারের মধ্যে সরকার বানিয়ে হাওয়া ভবনের মাধ্যমে তারেক রহমান হাজার হাজার কোটি টাকা বাণিজ্য করেছে। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন না বলে খালেদা জিয়া আদালতে যান না মন্তব্য করে হানিফ বলেন, নির্দোষ প্রমাণ করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলুন। জনসভা মঞ্চে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং দলীয় সভাপতি-সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। গতকাল একটি ইলেক্ট্রনিক বোতাম চাপ দিয়ে যশোর জেলাকে ডিজিটাল জেলায় রূপান্তর করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগে শহরের বকুলতলায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ম্যুরাল উদ্বোধন করেন তিনি।