ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের শিক্ষার্থী সারা যায়না হক, এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। তবে অসাধারণ ভালো ফলাফল করে সবার কাছেই পরিচিত মুখ তিনি। বাবা-মায়ের মুখ যেমন উজ্জ্বল করেছেন, শিক্ষকদের কাছেও তিনি সমান প্রিয়। প্রতিযোগিতামূলক এই পড়াশোনার মাঝেও তিনি নিজেকে রেখে চলেছেন শীর্ষে। তার পথচলা নিয়ে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
ছেলেবেলা থেকেই যে খুব পড়ুয়া ছিলেন তা না, তবে ক্লাসে শিক্ষকদের কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, নোট রাখতেন। অনেকেই আলসেমি করে নোট রাখেন না, ফলে পরীক্ষার আগের রাতটি বিভীষিকা রূপে হাজির হয় তাদের কাছে! এ বইয়ের মাঝে একটা উত্তর তো ওই ফাইলে আরেকটা ফটোকপি—এতে সময় তো যায়ই, সেই সাথে মনোযোগও নষ্ট হয়। আমাদের আজকের অন্য তারুণ্য সারাহ যায়না হক ঠিক তার বিপরীত ছিলেন। তিনি পড়াশোনায় খুব গোছালো ছিলেন, যত্ন করে নোট রাখতেন আর শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করতেন বিষয়গুলো নিয়ে। মেধাবী এই তরুণী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরপর তিন সেমিস্টার জিপিএ চারের মধ্যে চারই পেয়েছেন, আর তার সার্বিক সিজিপিএ এখন পর্যন্ত তিন দশমিক আট আট। প্রথম সেমিস্টার থেকেই তিনি তার পড়াশোনার ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে আবারও জানান যে, সচেতন ছিলেন কিন্তু খুব পড়ুয়া ছিলেন না, আর তার ফলেই এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে পেরেছেন নিজেকে।
সারাহ বলেন, ‘সেমিস্টার-ভিত্তিক পড়াশোনাতে ফলাফল করা খুব কঠিন নয়, আবার সহজ নয় এই অর্থে যে, সব সময়ই সচেতন থাকতে হয়, প্রথম থেকেই কুইজ, ক্লাস টেস্ট আর মিডটার্মে কাঙ্ক্ষিত নম্বর তুলে রাখতে পারলে বেশ সুবিধা হয়। অনেকেই ফাইনাল পরীক্ষার জন্য তড়িঘড়ি করে প্রস্তুত হবে ভেবে ঠিক করে রাখে কিন্তু আদৌ শুধুমাত্র তা করে সেমিস্টারে ভালো করা যাবে না। পুরো নম্বরের মাত্র ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ ভাগ থাকে হয়তো শেষ পরীক্ষটাতে। কেউ হয়তো অবহেলা করে একটা কুইজ দিলই না, যেটা হয়তো এক অধ্যায়ের উপরে ছিল, আর সেটাতে হয়তো খুব সহজেই দশে দশ পেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখা যেত, যে দিল না তার কিন্তু আর এ পাওয়ার সুযোগটাই থাকল না!
প্রজন্মের এই মেধাবী শিক্ষার্থী আমাদের জানান, অনেকটা শখ করেই এসেছেন বিবিএ-তে। আর মার্কেটিংয়েই মূলত তার কাজ করার ইচ্ছে বেশি। আমাদের দেশের টেলিকমিউনিকেশন ক্ষেত্রে কাজ করারও ইচ্ছে তার, তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও আমাদের দেশে কাজের অনেক নতুন আর সম্ভাবনাময় সুযোগ করে দিয়েছে, যেটার কারণে এখানেও আসলে তরুণরা ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাবেন চাইলে।
সারাহ মনে করেন, পড়াশোনার বাইরে অবশ্যই বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে, এতে নেতৃত্বের গুণাবলি যেমন বাড়ে, নিজের দক্ষতাকেও যাচাই করে নেওয়া যায়। তবে খুব বেশি খেয়াল রাখতে হবে যেন পড়াশোনাটা ঠিক থাকে, তা না হলে তো নিজেকে যোগ্যদের কাতারে দাঁড়ই করানোই যাবে না।সারাহ স্বপ্ন দেখেন যোগ্যতা দিয়ে তিনি একদিন প্রতিষ্ঠিত কোনো কোম্পানির ব্র্যান্ড ম্যানেজার হবেন। ‘মনের আগ্রহ আর আকর্ষণই ঠিক করে দেবে তিনি কোন অবস্থানে দেখতে চান নিজেকে’, বললেন তিনি।
সারাহর ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকাতেই। স্কলাস্টিকাতেই ও লেভেল, এ লেভেল সম্পন্ন করেন তিনি, তারপর তো ব্র্যাকেই শুরু করেন তার সফলতার পথচলা। বাবা মোল্লা আফজালুল হক ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালে কর্মরত, মা শিক্ষকতা করছেন স্কলাস্টিকাতেই। অবসরে ফেসবুকে বা মুভিতে ডুবে যান তরুণ এই তুর্কী, নাচতে ভালোবাসেন খুব! সাফল্যের পথ ধরে অনেকদূর এগিয়ে যাবেন সারাহ যায়না হক, এই কামনা নিরন্তর।
