লক্ষ্য

হিসাবনিকাশে পেশাদারিত্ব অর্জনে

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪৩
ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটার সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী চাকরির বাজারে সৃষ্টি হয়েছে অ্যাকাউন্টিং প্রফেশনালদের বিপুল চাহিদা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে লেনদেন যেভাবে বাড়ছে ঠিক একইভাবে বেড়ে চলেছে হিসাবনিকাশ সংক্রান্ত জটিলতা। যার ফলে ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ অ্যাকাউন্টিং প্রফেশনালদের প্রয়োজনীয়তা দারুণভাবে দেখা দিয়েছে। ফলে উন্নত বিশ্বসহ সব দেশেই অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্স হচ্ছে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন পেশা। যে কারণে বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ফিন্যান্স এবং অ্যাকাউন্টিংয়ের উপর সম্মানজনক ক্যারিয়ার গঠনে সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন কোর্সে শিক্ষা গ্রহণ করে যাচ্ছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—এসিসিএ, সিএটি, এফআইএ। এটি একমাত্র কোর্স, যা যেকোনো পর্যায়ে ইংল্যান্ডসহ ১৭৩টি দেশে শতভাগ ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। এসিসিএ কোর্সটি হচ্ছে সিপিএ, সিএ, সিএমএ প্রভৃতির সমমানের। এটি জাতিসংঘ স্বীকৃত এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্টেন্টসের মেম্বার। পেশাদার অ্যাকাউন্টিং এসিসিএ’র অধীনে মূলত তিনটি কোর্স পরিচালিত হয়ে আসছে। সার্টিফাইড অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান (সিএটি), ফাউন্ডেশন ইন অ্যাকাউন্টেন্সি (এফআইএ), চাটার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্টেন্ট (এসিসিএ)। যেহেতু এটি প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন তাই একজন শিক্ষার্থী এসএসসি বা এইচএসসি পাস করে সিএটি কোর্সে ভর্তি হতে পারে। সিএটি হচ্ছে অ্যাকাউন্টিং কোয়ালিফিকেশন, যেখানে অ্যাকাউন্টিংয়ের বেসিক থেকে শেখানো হয়। এটি করার পর দ্রুত এসিসিএ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। অন্যদিকে এইচএসসি বা ও-লেভেল শেষে এফআইএ-তে ভর্তি হয়ে সিএটি সম্পন্ন করতে পারে শিক্ষার্থী। আবার এ-লেভেল বা যেকোনো বিভাগ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি করা থাকলে সরাসরি এসিসিএ ক্লাসে ভর্তি হওয়া যায়। তবে কারও অনার্স, মাস্টার্স, সিএ, আইসিএমএ কোয়ালিফিকেশন থাকলে ৯টি বিষয় পর্যন্ত অব্যাহতি পেতে পারে। সিএটি ও এসিসিএ কোর্সে সারা বছরই ভর্তি হওয়া যায়। তবে ডিসেম্বরে পরীক্ষা দিতে চাইলে ১৫ আগস্টের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় আর জুনে পরীক্ষা দিতে হলে আগের বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকে বিবিএ-এমবিএ করার কথা বলে থাকে। তুলনা করলে দেখা যাবে, বিবিএ-এমবিএ অর্জনে সময় এবং অর্থ উভয়ই বেশি লাগে। সে তুলনায় প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং কোর্স করতে তুলনামূলক খরচ হয় অনেক কম। এই সমস্ত বিষয়ে আরও খুঁটিনাটি জানতে কথা বলতে পারেন ৮১৯১৬৬৩, ০১৭২০৫৫৩২৭৮ এই নম্বরে। চাহিদার কারণে এই কোর্স শেখানোর নামে এ দেশে অসংখ্য কেন্দ্র গজিয়ে উঠেছে। ফলে প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা এক ধরনের প্রতারণার শিকার হয়। এ জন্য ভর্তির আগে দেখতে হবে প্রতিষ্ঠানটি এসিসিএ কর্তৃক অনুমোদিত কি না, যেমন গোল্ড স্ট্যাটাস আছে কি না, অভিজ্ঞতা কত দিনের, কাঠামোগত অবস্থান কেমন, ফিন্যান্সিয়াল ক্যাপাসিটি কেমন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ক্লাসরুম আছে কি না, কম্পিউটার ল্যাব সুবিধা, ইন্টারনেট, নিজস্ব সফটওয়্যার, গ্রুপ স্টাডি করার মতো লাইব্রেরি এবং পর্যাপ্ত আপডেট বই আছে কি না, সুন্দর পরিবেশ সিকিউরিটি এবং সর্বোপরি এ ক্ষেত্রে সাফল্যের অবস্থান দেখতে হবে। বাংলাদেশে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিংয়ের জন্যে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ, যাদের রয়েছে সর্বাধিক শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক কারিকুলামের সুযোগ-সুবিধা। এদের নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার বেজড পরীক্ষার প্র্যাকটিস করে থাকে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা ফাইনাল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে। সিইউসি’র ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বেশি হওয়ায় ব্রিটিশ কাউন্সিলে এ প্রতিষ্ঠানেরর জন্য পৃথক ব্যাচে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে এবং কম্পিউটার বেজড এক্সাম (সিবিই) ব্যাচের পরীক্ষা এদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে এক হাজার টাকা কম ফি দিয়ে দেওয়া যাচ্ছে। যোগাযোগ, বাড়ি-৫১, রোড-১০/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা।