পাকিস্তানে পোলিও টিকাদন কর্মীদের গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। পোলিও কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে বাদ জুমা বিক্ষোভের ডাক দেয় পাকিস্তান উলেমা কাউন্সিল। সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত ২৪ হাজার মসজিদে শুক্রবারের খুতবায় স্বাস্থ্যকর্মীদের হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা হবে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল সংগঠনটির প্রধান তাহির আশরাফি। পাকিস্তান সমাজ এমনকি ইসলামও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এমন হামলা সমর্থন করে না জানিয়ে আশরাফি বলেন,“হামলার শিকার হওয়া পোলিও টিকাদান কর্মীরা ইসলামের দৃষ্টিতে শহীদ হয়েছেন। কারণ, তারা ভুল কোনো কিছু তো নয়ই বরং মানবতা এবং ইসলামের সেবায়ই কাজ করছিলেন।” জঙ্গিদের এ সহিংসতার বিরুদ্ধেই বিক্ষোভে নামেন পাকিস্তানের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতারা। পাকিস্তানে এ সপ্তাহে ৯ জন পোলিও কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানে টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ করেছে জাতিসংঘ। লাহোরের সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা জামিয়া মনজুর ইসলামিয়ার মওলানা আসাদুল¬াহ ফারুক বলেন, “হত্যাকারীরা মুসলিম কিংবা মানুষ নামের অযোগ্য।” “আমরা নিহতদের জন্য মসজিদে বিশেষ দোয়া করেছি এবং শুক্রবার জুমার নামাজের পর আরো দোয়া করব।” এখন পর্যন্ত কেউ পোলিও কর্মীদের ওপর হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে তালেবানসহ বেশ কয়েকটি ইসলামপন্থি দল বরাবরই জাতিসংঘের পোলিও টিকাদান কর্মসূচির বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে আসছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফ বুধবার বলেছেন, টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। “আমাদের শিশুরা পোলিওর শিকার হয়ে পঙ্গু জীবনযাপন করবে তা আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারি না”, এক বিবৃতিতে বলেন তিনি। এতে আরো বলা হয়, ১৯৯৪ সালে পাকিস্তানে ২০ হাজার শিশু পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু পোলিও টিকাদান কর্মসূচি চালুর পর ২০১২ সালে এ সংখ্যা মাত্র ৫৬-তে নেমে এসেছে। কিন্তু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের ওই অনুরোধের মুখেও পোলিও টিকাদান কর্মীরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
