সিরিয়ার লড়াই জাতিগত সহিংসতায় রূপ নিয়েছে

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫১
সিরিয়ায় ২১ মাস ধরে চলা সরকারি বাহিনী এবং বিরোধীদের লড়াই জাতিগত সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে দেশটিতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে চরমপন্থি ইসলামী সংগঠন আল কায়েদা। এদিকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের রক্ষার জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে সিরিয়ায়। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই জাতিগত সহিংসতায় রূপ নিয়েছে এবং এতে হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির বিভিন্ন সম্প্রদায়। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘ তদন্ত কমিশন বলেছে, সরকারি বাহিনী ও সরকারবিরোধীদের সংঘাত দ্বিতীয় বছরের শেষ দিকে এসে জাতিগত সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার প্রায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সিরিয়ায় থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। সম্প্রদায়গুলো মনে করে, তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। আর্মেনিয়ান, দ্রুজ, ফিলিস্তিনি, কুর্দি ও তুর্কমেনদের মতো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধে লিপ্ত প্রধান বাহিনীগুলো তাদের পক্ষ নিতে ছোট ছোট সম্প্রদায়গুলোকে বাধ্য করছে। ইরাকে শক্তি সঞ্চয়ে ব্যর্থ হয়ে দেশ সিরিয়ায় শক্তিশালী হয়ে উঠছে আল-কায়েদা। আল-কায়েদার সমর্থক স্থানীয় আল-নুসরা ফ্রন্ট সিরিয়ার ভেতরে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের জন্য বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে। দামেস্ক ও আলেপ্পোতে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী বোমা হামলার কথা স্বীকার করেছে সংগঠনটি। গত মাসে এক দিনে দামেস্ক, দেরা, হামা ও হমস প্রদেশে ঘটে যাওয়া ৪৫টি বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-নুসরা। গত সপ্তাহে আল-নুসরা ফ্রন্টকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে সিরিয়ায় আলা-নুসরার উপস্থিতি পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে দীর্ঘ ও মারাত্মক সংঘাতের সূচনা করতে পারে। এদিকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের রক্ষার জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে সিরিয়া। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির ইয়ারমুক থেকে বিদ্রোহীদের সরে যাওয়ার জন্য জাতিসংঘকে চাপ প্রয়োগ করার আহবান জানিয়েছেন। জাতিসংঘে পাঠানো একটি চিঠিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের জীবন বাঁচানোর জন্য বিদ্রোহী গ্রুপের অতিসত্বর শরণার্থী শিবির ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। এতে আরো জানানো হয়েছে, আল-কায়েদার সাথে সম্পর্কিত আল-নুসরা ফ্রন্ট শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়েছে এবং এর ফলে হাজার ফিলিস্তিনির দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। জানা গেছে, এর আগে ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা শিবিরের প্রবেশমুখে একটি বিশাল র্যালি করেছে। কয়েকদিন আগে আসাদপন্থি এবং বিরোধীদের তীব্র লড়াইয়ের কারণে ইয়ারমুক থেকে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা তাদের ঘরে ফিরে যেতে চান।