রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর সাথে সাথে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চাকরি দেয়ার নামে চক্রটি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে। সরকারি চাকরির আশায় অনেকে না বুঝেই প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাকরির জন্য আবেদনকারীদের প্রতারক বা দালাল চক্রের ফাঁদে পা না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ২২ নভেম্বর রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৩৮ জন কর্মচারী নিয়োগের পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণীর পদ ৭৭টি। বাকী পদগুলো তৃতীয় শ্রেণী ও সমমানের। আবেদনের শেষ তারিখ আগামী ৩০ ডিসেম্বর। উক্ত নিয়োগকে ঘিরে রামেক হাসপাতালের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অথবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয়ে আবেদনকারীদের চাকরি দেয়ার প্রলোভন দিয়ে তাদের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে তত্পরতা শুরু করেছে।
সমপ্রতি নগরীর সায়েরগাছা এলাকার আনোয়ারা বেগম রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মুরাদ নামে জনৈক কর্মচারিকে খুঁজছিলেন। তার হাতে এক টুকরো কাগজে লেখা মোবাইল নম্বরে মুরাদকে পাওয়া যাচ্ছে না। আনোয়ারা বলেন, মুরাদ তাকে হাসপাতালে চাকরি দেবেন। এ জন্য তিনি মুরাদকে খুঁজছেন। এক সপ্তাহ আগে আদালত চত্বরে মুরাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই কাগজের টুকরো মুরাদই তাকে দিয়েছে। একইভাবে মোহনপুর এলাকার সোহেল বলেন, চাকরির আবেদন করতে হাসপাতালে আসার পর এক কর্মচারির সাথে তার পরিচয় হয়। সে নিজেকে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আত্মীয় বলে জানায়। কিন্তু পরদিন সোহেল হাসপাতালে এসে ওই ব্যক্তিকে খুঁজে পাননি।
এ ব্যাপারে রামেক হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল সাইদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নিয়মতান্ত্রিক ও যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে যোগ্যতা সম্পন্নদের বাছাই করা হবে। তাই চাকরি প্রত্যাশীদের প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা না দিতে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রামেক হাসপাতালের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
