ট্রেনের ধাক্কায় দুই সন্তানের সামনে নিহত হলেন মা

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৮
স্বামী রিপন কারাগারে। ১০ দিন পর গতকাল শুক্রবার সকালে জেলগেটে স্বামীর সঙ্গে দেখা করবেন স্ত্রী রত্না খন্দকার। তাই দুই সন্তানকে নিয়ে রিকশায় রওনা দিলেন। কিন্তু খিলগাঁও রেলক্রসিংয়ের সিগন্যাল গেটের কাছে আসতেই সিগন্যাল বার ফেলে দেয়া হলো। আর এখানে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা সিগন্যাল বার উপেক্ষা করে রেললাইন পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে রিফাত ও রশ্মি’র চোখের সামনে তাদের মা রত্না খন্দকারের (৩০) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। আহত রিফাত ও রশ্মিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রত্না খন্দকার তার দুই সন্তানকে নিয়ে খিলগাঁও রেলক্রসিংয়ের সামনে রিকশায় অপেক্ষা করছিলেন কখন ট্রেন অতিক্রম করবে। এরই মধ্যে হঠাত্ সড়ক দ্বীপ (রোড ডিভাইডার) অতিক্রম করে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা রেলক্রসিং অতিক্রম করার চেষ্টা করতেই কমলাপুর থেকে লালমনিহাটগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি সজোরে ধাক্কা দেয়। সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে মুচড়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়। পরে অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার উল্টে গেলে এর নীচে তিনটি রিকশা চাপা পড়ে। অন্য দুই রিকশার চালক ও যাত্রীরা বেঁচে গেলেও রত্না খন্দকার বাঁচতে পারেনি। দুর্ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ে কর্তব্যরত গেটম্যান মজিবুর রহমান দাবি করেন, দুর্ঘটনার সময় গেট আটকানো ছিল। কিন্তু বিপরীত দিক দিয়ে এসব যানবাহনের চালকেরা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে দুর্ঘটনা ঘটে। মজিবুর রহমানের ভাষ্য, এভাবে লাইন পার হওয়ার সময় বাধা দেয়া হলে কেউ কথা শোনে না। উল্টো গায়ে হাত তোলে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রিপনের ভগ্নিপতি আব্দুল লতিফ জানান, গত ৯ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা অবরোধের পরদিন ১০ ডিসেম্বর রিপনকে নয়পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে আটক করা হয়। রিপন এখন কারাগারে আছেন। রিপন বনানীর একটি রেস্তোরাঁর ম্যানেজার। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অস্ত্রোপচার বিভাগের চিকিত্সক ডা. খালেদ আহমেদ জানান, রোশনীর মাথা ফেটে গেছে। বাম হাতে একটি লোহার রড ঢুকেছে। রশ্মির মাথায় আড়াই ইঞ্চি পরিমাণ জায়গায় সেলাই করা হয়েছে। হাতে অস্ত্রোপচারের পর এখন কথা বলতে পারছে রশ্মি। এছাড়া রিফাতও চিকিত্সার পর হাসপাতালে কথা বলেছে।