মৌসুমের প্রথম শৈত্য প্রবাহের কবলে দেশ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৯
রাজশাহী, রংপুর বিভাগ ও ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইলের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন এ অবস্থা থাকবে। তারপর পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা আরো কমার সম্ভবান রয়েছে এবং মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সাধারণত তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নামলে সে পরিস্থিতিকে শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তাকে বলা হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি থাকলে তাকে বলা হয় মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রির নীচে নামলে বলা হয় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। চলতি শীত মওসুমে এ প্রথম শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ল দেশ। এর কারণ সম্পর্কে আবহাওয়া বিভাগ থেকে বলা হয়েছে হিমালয় ও তত্সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি উচ্চ চাপ বলয় তৈরি হয়েছে। এ উচ্চ চাপ বলয়ের প্রভাবে আশপাশের অঞ্চলে বায়ুর চাপ কম। বায়ুর চাপ কম থাকার সুযোগে সাইবেরিয়ার হিমশীতল বাতাস হিমালয় ও ভারতীয় ভূ-ভাগ অতিক্রম করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ঢুকে পড়ায় এই শৈত্যপ্রবাহ। উল্লেখ্য, শীত মওসুমে উত্তর-পশ্চিমের কনকনে ঠাণ্ডা বায়ু প্রবাহের প্রভাব কমবেশি সব সময় থাকে। তবে আশপাশে কোথায় উচ্চ চাপ বলয় তৈরি হলে এটির প্রভাব অনেক বেশি অনুভূত হয়। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় ১১ দশমিক ৮, ইশ্বরদী এবং রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনি ও রবিবার এ তাপমাত্রা আরো নামার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকার অবস্থা ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকভাবে এ তাপমাত্রায় খুব বেশি শীত অনুভব করার কথা নয়। কিন্তু হালকা বায়ু প্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি ছিল তীব্র। ভর দুপুরেও সূর্যকে তেমন তেজস্বী মনে হয়নি। মানুষকে ভারী শীতের কাপড় চড়িয়ে চলাফেরা করতে দেখা যায়। যারা ভারী কাপড় নিতে ভুলে গিয়েছিলেন তাদের ভুগতে হয়েছে। এ ঠাণ্ডায় সবচে বেশি কষ্টের মধ্যে পড়েছে মহানগরীর বস্তিবাসী নিম্নবিত্ত মানুষরা। দিনাজপুরে জেঁকে বসেছে শীত দিনাজপুর থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার মতিউর রহমান জানিয়েছেন, দিনাজপুর অঞ্চলে শীত জেঁকে বসেছে। গত কদিন ধরে দিনাজপুর জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি বললে¬ই চলে। কনকনে ঠাণ্ডায় জমে যাওয়ার মতো অবস্থা। সন্ধ্যার পর লোকজন আগুন জ্বালিয়ে শীত তাড়ানোর চেষ্টা করছে। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া সন্ধ্যার পর কেউ বাড়ির বাইরে যাচ্ছে না। ঘন কুয়াশার কারণে সকালে ছেড়ে যাওয়া কোচগুলোকেও হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তীব্র শীতের কারণে বস্ত্রহীন সাধারণ মানুষরা পড়েছে বেকায়দায়। তাদের জন্য এবারের শীতে সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে কোন শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি। কেবলমাত্র জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে শীতবস্ত্র চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে জরুরি বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫ হাজার কম্বল প্রদান করে। যা ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিতরণ করেছে। এনজিওগুলো এখন পর্যন্ত তাদের শীতবস্ত্রের চাহিদাপত্র প্রেরণ করেনি। এ অবস্থায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন শীতের কাপড়ের জন্য পুরনো কম দামি কাপড়ের দোকানে ভিড় করছে। কিন্তু গতবারের চেয়ে এবারে শীতবস্ত্রের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। পুরনো কাপড়ের দাম বেড়েছে ২৫-৩০ শতাংশ। রাজশাহীতে দুর্ভোগের কবলে ছিন্নমূল মানুষ আমাদের রাজশাহী অফিস জানায়, পৌষের শুরুতেই রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে শীত। সন্ধ্যা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে জনপদ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের মুখ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে তা যেন মিলিয়ে যায়। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও রাস্তায় গাড়ি চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। উত্তরের হিমালয়ের দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে উত্তর জনপদ। প্রায় স্থবির জনজীবন। মানুষের পাশাপাশি শীতে কাবু ইতরপ্রাণিও। এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় শীতবস্ত্র আসেনি। এগিয়ে আসেনি কোন বেসরকারি সংস্থাও। এদিকে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরোর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকরা বোরোর বীজতলা রক্ষায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে শীতের কারণে ভাইরাসজনিত ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। এছাড়া শীতের তীব্রতায় নগরী ও উপকণ্ঠের ফুটপাতে গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় বাড়ছে। এ সুযোগে দোকানীরা ফুটপাতের গরম কাপড়ের দাম কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ফুটপাতের গরম কাপড়ও ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও বস্তি এলাকার মানুষ কোনো রকমে মাদুর মুড়ি দিয়ে অসহায় অবস্থায় রাত্রিযাপন করছে। অনেকে বাধ্য হয়ে খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা করছে। ৪ দিন সূর্যের দেখা নেই :আমাদের তারাগঞ্জ (রংপুর)সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গত ৪ দিন থেকে সূর্যের দেখা নেই। পাশাপাশি টানা ঘন কুয়াশার কারণে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শীতবস্ত্রের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়ছে উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষজন। শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর হাটবাজারসহ পথঘাট ফাঁকা হয়ে যায়।