মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে তার গান আজো মন্ত্রের মতো বাজে

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১১
মানুষের মুক্তির আন্দোলনে তিনি বেছে নিয়েছিলেন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে। মুক্তির সংগ্রামে গান হয়ে উঠেছিল তার প্রধান হাতিয়ার। মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে তার গান আজো মন্ত্রের মত বাজে। আজো সেই মুক্তির অন্দোলন শেষ হয়ে যায়নি। হেমাঙ্গ বিশ্বাস আজো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। যেকোন সাংস্কৃতিক আন্দোলনে আজো তিনি আলোকবর্তিকার মত পথ দেখান। এই প্রত্যয়ে গতকাল শুক্রবার থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে উপমহাদেশের বিশিষ্ট গণশিল্পী, সুরকার ও শিল্পী সংগ্রামী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চার দিনব্যাপী ব্যাপক অনুষ্ঠানমালা। এ উত্সবের শেষ দিন উদযাপিত হবে হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্মস্থান চুনারুঘাটের মিরাশী গ্রামে। হেমাঙ্গ বিশ্বাস ছিলেন একাধারে প্রখ্যাত গণগায়ক, গীতিকার-সুরকার-সংগঠক, উপমহাদেশের প্রবাদপ্রতিম শিল্পীসংগ্রামী। লোকসঙ্গীতকে কেন্দ্র করে গণসঙ্গীত সৃষ্টির ক্ষেত্রে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তার গান আজো মানুষকে উদ্দীপ্ত করে। ‘ওরা আমাদের গান গাইতে দেয় না’, ‘থাকিলে ডোবাখানা’, ‘কাস্তেটারে দিও জোরে শান’, ‘শঙ্খচিল’, ‘শহীদের খুনে রাঙা পথে’, ‘আরো বসন্ত বহু বসন্ত’, ‘আমরা তো ভুলি নাই শহীদ’ প্রভৃতি গান আজো যেকোন আন্দোলন সংগ্রামে গাওয়া হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হেমাঙ্গ বিশ্বাস জন্মশতবর্ষ উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে এ উত্সবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন পর্ষদের আহ্বায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। আরো বক্তব্য রাখেন মহসিন শস্ত্রপাণি। বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দে র শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, হেমাঙ্গ বিশ্বাস মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। তার সেই সংগ্রাম শেষ হয়ে যায়নি। তার সংগ্রাম ছিল রাজনৈতিক। রাজনীতির লক্ষ্যেই তার সকল সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। সেজন্য জন্মশতবর্ষে শুধু শ্রদ্ধাজ্ঞাপন নয়, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের রাজনৈতিক অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর আন্দোলন শুরু করাই হবে তাকে প্রকৃত সম্মান জানানো। আলোচনা শেষে হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান গেয়ে শ্রোতা-দর্শকদের উদ্দীপ্ত করেন শিল্পীরা। গতকালের উদ্বোধনী পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করে হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্মস্থানের সঙ্গীত সংগঠন চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ ও বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বিবর্তনের শিল্পীরা হলেন:মফিজুর রহমান লাল্টু, আমিরুন নুজহাত মনীষা, নুরিতা নুসরাত, আব্দুল আজিজ, মুসা কলিম মুকুল, মিরাজ, অনন্যা, ইসরাত কাকলি ও এ কে আজাদ। আর চুনারুঘাটের শিল্পীরা হলেন:কাজল গোপ, জীবন দাস, বিদ্যুত্ পাল, রাহুল, সোহেল, অন্নপূর্ণা, ঐশী, শ্রুতি, মৌ, প্রমি প্রমুখ। আজ শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সেমিনার। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পড়বেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। আলোচনা করবেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও মহসিন শস্ত্রপাণি। সভাপতিত্ব করবেন কামাল লোহানী এবং বিকাল ৩টায় ধানমন্ডির রবীন্দ্র থানার মিরাশী গ্রামে হেমাঙ্গ বিশ্বাসের পৈতৃক বাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে লাঠিখেলা, আলোচনা ও হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান। শেষ হলো ছায়ানটের শুদ্ধসঙ্গীত উত্সব ছায়ানটের শুদ্ধসঙ্গীত উত্সবের দ্বিতীয় ও সমাপনী অধিবেশনে দিবারাত্রি শুদ্ধ সুরের নির্মল সাধনা ও ধ্যানে মগ্ন ছিলেন কয়েকশ সমঝদার শ্রোতা। শিল্পীদের একের পর এক কণ্ঠ ও যন্ত্র সঙ্গীতের সুর-লহরায় বুঁদ ছিলেন দর্শক-শ্রোতারা। শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতেই শিক্ষাগুরু অনুপ বড়ুয়ার পরিচালনায় ছায়ানটের শিল্পীরা পরিবেশন করেন রাগ ভৈরব। এই পরিবেশনার শেষে মঞ্চে আসেন ঢাকার শিল্পী সতীন্দ নাথ হালদার। তিনি পরিবেশন করেন রাগ গুণকেলি। এরপর আলাউদ্দিন মিয়া বেহালায় সুর তোলেন বৈরাগী ভৈরব। তার পরিবেশনার পর মইদুল ইসলাম কণ্ঠে পরিবেশন করেন রাগ ‘আহীর ভৈরব’। এরপর চট্টগ্রামের কণ্ঠশিল্পী স্বর্ণময় চক্রবর্তী পরিবেশন করেন রাগ ‘টোড়ি’। সকালের অধিবেশনের সমাপ্তি হয় সবুজ আহমেদের তবলা সুর-লহরীর মধ্য দিয়ে। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় তৃতীয় ও সমাপনী অধিবেশন। এই পর্ব চলে শনিবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত। এই পর্বে কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করেন ঢাকার খায়রুল আনাম শাকিল, মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী খান, রেজোয়ান আলী, অসিত দে, অনুপ বড়ুয়া ও সৈয়দা সনজিদা জোহরা বীথিকা। এছাড়া কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করেন কলকাতার শিল্পী অর্ণব চ্যাটার্জী। যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন মর্তুজা কবীর মুরাদ, এবাদুল হক সৈকত ও রাজরূপা চৌধুরী। সবাই এসেছে গাছ চিনতে রমনা পার্কে গতকাল শুক্রবার ১৩তম গাছ চেনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো তরুপল্লব। ঢাকার নানা প্রান্ত থেকে সকাল নয়টা হতেই রমনা পার্কে নি:সর্গপ্রেমীরা জড়ো হতে শুরু করেন। দ্বিজেন শর্মা, বিপ্রদাশ বড়ুয়া, ইনাম আল হক, মোকারম হোসেন উপস্থিত নি:সর্গপ্রেমীদের পার্কের বিভিন্ন গাছের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এই আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন সাদাত সেলিম, শাহজাহান মৃধা বেনু ও বাংলাদেশের এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম নারী নিশাত মজুমদার। গাছ চেনার বিরতিতে গান গেয়েছেন দেবাশিস বিশ্বাস।