আগামী বছর আরো ১০ লাখ গোপন নথি প্রকাশের ঘোষণা দিলেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। এসব নথিতে পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ সম্পর্কে তথ্য থাকবে বলে তিনি জানান। খবর এনডিটিভির।
ইকুয়েডরের দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়ার ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দূতাবাসের ব্যালকনি থেকে ক্রিসমাস বার্তায় এ ঘোষণা দেন অ্যাসাঞ্জ। অ্যাসাঞ্জের বক্তব্য শুনতে ওইদিন দুপুর থেকে লন্ডনের নাইটব্রিজ এলাকায় দূতাবাসের সামনে জড়ো হন শতাধিক ভক্ত ও বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমের কর্মীরা। সন্ধ্যায় অ্যাসাঞ্জের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন করে তার ভক্তরা।
পৃথিবী জুড়ে যেসব সংবাদকর্মী সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হাজতবাস করছেন তাদের আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা জানান অ্যাসাঞ্জ। ২০১২ সালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানব সভ্যতার মূল উপাদানই হলো নির্ভীকভাবে সত্য প্রকাশ। তিনি বলেন, উইকিলিকস ইতিমধ্যে ১০ লাখ নথি প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে। এসব তথ্য বিশ্বের প্রত্যেক দেশকেই প্রভাবিত করবে। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগণ উইকিলিকসের কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দেশটির নানা কূটনৈতিক তত্পরতার বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস করার অপরাধে যুক্তরাষ্ট্র আমাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস, কেউ মুক্ত গণমাধ্যমের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। সত্য প্রকাশে পিছপা হবে না উইকিলিকস। কথা বলার জন্য আমি সব সময় প্রস্তুত, আমার দ্বার উন্মুক্ত। তবে এজন্য প্রয়োজন যথাযথ, নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ। অ্যাসাঞ্জ বলেন, আমি জানি, দূতাবাসে আমার অবস্থান ও মতপ্রকাশ দুটোই নিরাপদ। এজন্য ইকুয়েডর সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি মোটেও ভীত নই, উইকিলিকসের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার কোনো অবকাশও নেই। ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত এক বিবৃতিতে সবাইকে অ্যাসাঞ্জের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাসাঞ্জের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি।
গত বছর ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা করে সুইডেন। এরপর যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত অ্যাসাঞ্জকে গত বছরের ডিসেম্বরে গ্রেফতার করে লন্ডন পুলিশ। পরে তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়া হয়। গত ১৯ জুন যুক্তরাজ্যের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ। আর ইকুয়েডর সরকার ১৬ আগস্ট তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা দেয়।
