মার্কিন আইনপ্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা দেয়ার বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জনের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ডেমোক্র্যাট দলীয় ১২ জন সদস্য এ আহ্বান জানায় বলে বৃহস্পতিবার এএফপি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব আইনপ্রণেতাদের কয়েকজন প্রতিনিধি পরিষদের ‘ওয়েস অ্যান্ড মিনস কমিটি’র কর সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করেন। তারা বলেন, শ্রম খাত সংস্কারের অঙ্গীকার সত্ত্বেও উল্টো পথে হাঁটছে বাংলাদেশ।
প্রতিনিধি পরিষদের বাণিজ্য প্রতিনিধি রন কির্ককে লেখা এক চিঠিতে তারা বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও কর্মীদের অধিকারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাজরীন গার্মেন্টসে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড বলে দেয় উদ্বেগের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। চিঠিতে স্বাক্ষর প্রদানকারী আইনপ্রণেতাদের মধ্যে রয়েছেন, মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের প্রতিষ্ঠাতা জোসেফ ক্রাউলি, ‘ওয়েস অ্যান্ড মিনস’ কমিটির সদস্য স্যান্ডি লেভিন প্রমুখ।
চিঠিতে বলা হয়, গত ২৪ নভেম্বর তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন নারী। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের পর তাদের বের হতে বাধা দেয়া হয়েছিল। এ কোম্পানি থেকে ওয়ালমার্টসহ বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান পোশাক আমদানি করত। চিঠিতে আইনপ্রণেতারা জিএসপি’র (জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স) আওতায় বাংলাদেশকে রাখা ঠিক হবে কি না, তা দ্রুত পর্যালোচনার আহ্বান জানান। এদিকে, রেডিও অস্ট্রেলিয়ার এক অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে পর্যালোচনা হলে জিএসপি সুবিধা থেকে বাংলাদেশকে সাময়িকভাবে বাদ দেয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহত্ শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশনের এএফএল-সিআইও থেকে শ্রমমানের রেকর্ড সম্পর্কে অভিযোগ তোলার পর রন কির্কের দপ্তর বাংলাদেশের যোগ্যতা বিষয়ে মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে। উল্লেখ্য, শ্রমমান বজায় রাখার শর্তে জিএসপি’র আওতায় উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে পাঁচ হাজারের মতো পণ্য তাদের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রবেশের সুযোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে পোশাক শিল্পের পণ্য থেকে বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা দেয় না যুক্তরাষ্ট্র।
