বনভূমি দখল, বনসম্পদ লুটপাটসহ বনবিভাগের অনিহার কারণে কক্সবাজারের পর্যটন স্পট ইনানীর প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যান প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে ঐ প্রকল্পের কাজ ২০১০ সালে শুরু হলেও এ পর্যন্ত কোন অগ্রগতি হয়নি। বন্যপশু প্রাণীর অভয়ারণ্য এখন বিরান ভূমিতে পরিণত হতে চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
জানা গেছে, সরকার উপকূলীয় এলাকার সোনারপাড়া থেকে মনখালী পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত নিয়ে এক্সক্লোসিভ ট্যুরিস্ট জোন হিসাবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিলে উপকূলীয় এলাকার জমির দাম হঠাত্ করে বেড়ে যায়। এসময় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আমলা থেকে শুরু করে দেশের ধর্ণাঢ্য শিল্পপতি ইনানীর জমি কিনে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার অবকাঠামো তৈরির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। স্থানীয় গরীব মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো তাদের জমিজমা মোটা অংকের টাকায় হাত বদল করে ইনানীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বাড়ি ঘর তৈরি করে আশ্রয় নিতে শুরু করে। এভাবে ধারাবাহিক বনভূমি দখলের প্রবণতা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেলে ঐ বনভূমি রক্ষায় এগিয়ে আসে আরোণ্যক ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিও সংস্থা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়নে আরোণ্যক ফাউন্ডেশন ইনানীর প্রায় ২১ হাজার একর বনভূমি রক্ষার জন্য ১৪ হাজার একর বনভূমি নিয়ে প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যান প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করে। এব্যাপারে স্থানীয় সুশীল সমাজ, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, স্কুল শিক্ষক ও মসজিদের ইমামদের নিয়ে গঠিত হয় ইনানী বনরক্ষা সহায়ক কমিটি। এ কমিটির মাধ্যমে প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যানের আশেপাশে বসবাসরত বননির্ভর গরীব পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য উত্সাহিত করে বনরক্ষা করার জন্য দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। কিন্তু তারা বনসম্পদ লুটপাট ও বনভূমি দখল করে অন্যত্রে বিক্রির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার ফলে প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যান অরক্ষিত হয়ে পড়ে।
মনখালী বনরক্ষা কমিটির সভাপতি নুরুল আবছার জানান, বন পাহারা দলের সদস্যের সহযোগীতায় স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী কাঠ ব্যবসায়ী ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ও চোয়াংখালী বিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যানের বনসম্পদ লুটপাট করে সমুদ্র পথে পাচার অব্যাহত রাখে। এছাড়াও উপকূলের বসবাসরত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ইনানীর বনভূমি দখল করে মোটা অংকের টাকায় দখল হস্তান্তর করার ধারাবাহিকতায় জাতীয় উদ্যান প্রকল্প অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে। আরোণ্যক ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী আব্দুল মান্নান জানান, ২০১০ সালে উখিয়া বনবিভাগের সহযোগীতায় ইনানীতে জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাবনা বন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলেও ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তাদের অনিহার কারণে ঐ প্রস্তাবটি ফাইল বন্দি হয়ে রয়েছে। যার ফলে জাতীয় উদ্যান প্রকল্প উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পর্যটন শিল্পকে আরো প্রসারিত করতে হলে উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই। ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা সুনিল দেব রায় বনভূমি দখল ও বনসম্পদ লুটপাটের কথা স্বীকার করে বলেন, যাদেরকে বনরক্ষার দায়িত্ব দিয়ে আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে তারাই প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যানের ক্ষয়ক্ষতি করে যাচ্ছে।
