বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত নারীর তালিকায় এক নম্বর আসনটি পেয়েছেন ‘হাঙ্গার গেমস’ খ্যাত জেনিফার। তারকা জরিপের এ ওয়েবসাইটটি তাদের বিশ লাখ চল্লিশ হাজার পাঠকের ভোটে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় নারীর ওই তালিকা প্রস্তুত করে। গত বছর একই তালিকার ৪৭তম স্থানে থাকা জেনিফার এবার উঠে এসেছেন সোজা এক নম্বরে। গত বছর করা ‘উইন্টারস বোন’ ছবিটি দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। ডলির ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করে জেনিফার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছিলেন অস্কার, গোল্ডেন গ্লোবসহ বিশ্বের নামকরা সব চলচ্চিত্র পুরস্কারে। তাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
সবে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন। আলোচনায় এসেছেন গত বছর করা ‘উইন্টারস বোন’ ছবিটি দিয়ে। ডলির ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করে লরেন্স শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছিলেন অস্কার, গোল্ডেন গ্লোবসহ বিশ্বের নামকরা সব চলচ্চিত্র পুরস্কারে। পুরস্কারও জিতেছেন গণ্ডা খানেক। এই ছবির বদৌলতেই এক্স-মেন সিরিজের পরবর্তী ছবিতে সুযোগ পেয়েছেন। প্রথমে ‘পোকার হাউস’, এরপর ‘উইন্টারস বোন’ আর এবার ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ দিয়ে বিরাট সাফল্যের স্বাদ পেলেন জেনিফার লরেন্স। সুজান কলিন্সের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে রচিত এ ছবির বিষয়বস্তু মূলত ক্যাটনিস নামের এক কিশোরীর জীবন-সংগ্রাম। এ চরিত্রেই অভিনয় করেছেন অস্কার মনোনীত অভিনেত্রী লরেন্স। সুন্দরী এ তারকা এরই মধ্যে নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ফেলেছেন। মজার ব্যাপার হলো, ২১ বছর বয়সী জেনিফার ছবিটিতে দুর্ধর্ষ সব দৃশ্যে অভিনয় করলেও মাকড়সা দেখলে এখনও ভয়ে দৌড় দেন! চরিত্রটির জন্য দৌড়, সাঁতার, ক্লাইম্বিং, কম্ব্যাট, যোগব্যায়াম প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে তাকে। ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেহেতু চরিত্রটি নিয়ে আগে থেকেই দর্শকরা তাদের মনের মাঝে একটা ছবি এঁকে ফেলতে পেরেছে তাই তাদের মনের সঙ্গে মিল রেখে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলাটাই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। তাদের মনের অবয়বের সঙ্গে অভিনয়ের মিল তৈরি করতে হয়েছে।’ ক্যাটনিস চরিত্র রূপায়ণের ক্ষেত্রে এ দিকটিই বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে তার অভিমত। তিনি আরও বলেন, ‘ছবিটির শুটিং শুরু করার আগে আমি বই পড়েছি আর যখন কাজ শুরু করেছি এরপর শুধু স্ক্রিপ্টের ভেতর মনোনিবেশ করেছি।’ ২০১১ সালের ২৩ মার্চ মুক্তির পর এক সপ্তাহেই অ্যাকশন ফিল্ম ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ ১৫৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে নেয়। এটা সিক্যুয়েল ছাড়া কোনো ছবির আয়ের রেকর্ড। শুধু তাই নয়, এটা তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড। এমনকি এটা ‘টোয়াইলাইট’ সিরিজকেও পেছনে ফেলেছে। ছবিটির সঙ্গে সার্বিকভাবে যুক্ত ছিল লায়ন্স গেট স্টুডিও। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা ছবিটির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে খুবই আনন্দিত। ছবিটির প্রচারের জন্যও নেয়া হয়েছিল আধুনিক পদ্ধতি। ফেসবুকে নতুন গেমস শোর শুরু হয়েছে, ইউটিউবে খোলা হয়েছে নতুন ব্লগ। এর জন্য খরচ করা হয়েছে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার। ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ প্রথম দিনে আয় করার রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল। মুক্তির প্রথম দিনেই আয় করে নিয়েছিল ৬৮.৩ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বজুড়ে জেনিফার লরেন্সের অসংখ্য ভক্ত তৈরি হয়ে গেছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই হলিউডের জেনিফারের। ‘আমি সত্যি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। যখন কোথাও বের হই আমাকে নিয়ে তাদের আগ্রহের কোনো সীমারেখা থাকে না। আমিও এটা খুব উপভোগ করি।’ ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’-এ জেনিফার লরেন্সের সহশিল্পীরা হলেন টুসি, উডি হ্যারেলসন ও এলিজাবেথ ব্যাংকস। ছবিটিতে তার প্রিয় দৃশ্য গেমসে প্রবেশের আগে টুসির সঙ্গে করা দৃশ্যটা। কারণ ওই মুহূর্তে ক্যাটনিস বুঝতে পারে যে, ওটা একটা গেমস ছিল! ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ পরিচালনা করেছেন গ্যারি রস। তার কাজের স্টাইল সম্পর্কে লরেন্স বলেন, ‘সে ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমানভাবে যোগাযোগ করতে পারে যেটা অবিশ্বাস্য। সে খুবই নির্দিষ্ট আর সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করতে চায়। সবাইকে সে নিজের মনের কথাটি বলার সুযোগ দেয় এবং সম্মান করে।’ জেনিফার লরেন্স যে কয়টি ছবিতে অভিনয় করেছেন, সবই আলোচিত। তবে ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ সাফল্য পেয়েছে একটু বেশি। ছবি হাতে নেয়ার আগে পরিচালক কে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন তিনি। বললেন, ‘স্ক্রিপ্ট আর পরিচালক এ দুই দিক মনের মতো না হলে ছবি হাতে নিই না। পরিচালক যদি মেধাবী না হন তাহলে আমার প্রতিভা তিনি বের করে আনতে পারবেন না।’ সাম্প্রতিক জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত নারী হওয়ার প্রতিযোগিতায় এবার মিলা কুনিস এবং কেট আপটনদের মতো তারকাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স। ওয়েবসাইটটির প্রধান সম্পাদক জেমস বাসিলের ধারণা, জেনিফারের সদ্য মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘সিলভার লাইনিংস প্লেবুক’-এ তার অভিনীত ভিন্নধর্মী চরিত্রটিই তাকে এনেছে লাইমলাইটে। জেমস বলেন, ‘সব মিলিয়ে তার মধ্যে একজন খাঁটি অভিনেত্রীর গুণ খুঁজে পাওয়া যায়, যা অন্যদের মধ্যে পাওয়া ভার। এ ছাড়াও তিনি মিডিয়াতে এখনও একবারেই নতুন। কারণ গত তিন চার বছরে গসিপের পাতায় তাকে নিয়ে কোনো লেখালেখি হয়নি।’
