প্রজন্মের পুষ্টিবিদ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:০৩
নিজেদের ভালো রাখার জন্য শরীরটাকে আগে ভালো রাখা চাই, শরীর ভালো রাখতে প্রথমেই যা দরকার তা হচ্ছে শরীরে পুষ্টিমান বজায় রাখা। আর এ ক্ষেত্রে একজন পুষ্টিবিদই পারেন আপনার শরীরের সুষম পুষ্টির সমন্বয় ঘটাতে। জীবনের তাগিদেই একজন পুষ্টিবিদ হতে পারে সবচেয়ে বড় পরামর্শক। তাই এই প্রজন্মের কাছে পেশা হিসেবে পুষ্টিবিদ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রজন্মের তেমনই কয়েকজন মেধাবী পুষ্টিবিদদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। পুরো আয়োজনটি দেখুন পরের পৃষ্ঠায়। আয়োজনটি গ্রন্থনা এবং সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র আ বু ব ক র সি দ্দি ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডায়েট সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেড তিনি সব সময়ই চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করবেন, পড়াশোনা শেষ করে কিছুদিন পর তাই যোগ দিয়েছিলেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে পরিচিত হন ব্যবসায়িক পরিবেশের সাথে, কীভাবে পণ্য ও সেবা মানুষের কাছে তুলে ধরা যায় সে বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ হয়, সেই থেকেই চেয়েছিলেন নিজেই সাধারণ জনগণের সেবার জন্য একটা ডায়েট ও পুষ্টি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান দেবেন, সেখানে পরামর্শ ও চিকিত্সা দেওয়া হবে। তার সেদিনের স্বপ্ন দেখা সার্থক, আমাদের দেশের অন্যতম সেরা একটা কাউন্সিলিং ও ডায়েট এবং নিউট্রিশন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডায়েট সলিউশন বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। শুনছিলেন আবু বকর সিদ্দিকের পথচলার কাহিনী। আবু বকর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক শেষ করেন। নিজের প্রতিষ্ঠান করার আগে বেশকিছু এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কাজ করার সুযোগ হয় তার। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বললেন, ‘আমাদের দেশে কিন্তু এখনও পুষ্টিবিজ্ঞান সম্পর্কে মানুষের ধারণা অস্পষ্ট।’ এনজিওগুলো মাঠপর্যায়ে কাজ করছে সেটা ঠিক, তবে তাদের কেউই এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয়। তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের তত্ত্ব্বাবধানে অবশ্যই পুষ্টিবিশেষজ্ঞ থাকা উচিত বলে মনে করেন আবু বকর, তা না হলে সার্বিক অগ্রগতি কিছুই হবে না। নিজের ভালোলাগা আর সব পেশার মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন, এমন ধারণা নিয়ে এসেছিলেন এই সেবায়। আর এখন তিনি এই ক্ষেত্রে যথেষ্টই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। চিকিত্সকদের পাশাপাশি রোগ নিরাময় ও প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা অনেক, এই জিনিসটা এখন সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করেছে, এটাই বা মন্দ কি! আর তাই পেশা হিসেবেও দিনকে দিন কদর বাড়ছে পুষ্টিবিদের। তাদের শুরুর সময়টাতে মানুষকে বিষয়টা বোঝাতেও কষ্ট হতো, কিন্তু পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আবু বকররা এই দিক দিয়ে ভাগ্যবান যে, দেশে পুষ্টিবিদদের নিয়ে ক্লিনিক্যাল কাজ অথবা নিজস্ব প্র্যাকটিসের ধারণাটি তাদের সময় থেকেই শুরু হয়েছে। মানুষের মাঝে এক ধরনের সচেতনতাও তৈরি হয়েছে। নতুন যারা পুষ্টিবিজ্ঞানে পড়ছে অথবা এই ক্ষেত্রে কাজ করতে চায়, তারা কীভাবে এগোতে পারে জানতে চাইলে বকর বললেন, ‘পড়াশোনার সময় থেকেই ঠিক করে নিতে হবে কে কোন ক্ষেত্রে কাজ করতে চায়, এই বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কেউ ইচ্ছে করলে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে, কেউবা এনজিওতে কেউ আবার আগ্রহী থাকতে পারে ক্লিনিক্যাল কাজে। আগ্রহের দিকটা ধরতে জানতে হবে আর সেই মাফিক এগোলেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।’ প্রজন্মের এই পুষ্টিবিদের শৈশব কেটেছে ঢাকার মোহাম্মদপুরে। বাবা-মায়ের পাঁচ সন্তানের মাঝে তিনি বড়। স্ত্রী নাজিফা খানকে নিয়ে এখন তার ছোট্ট পরিবার। মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয় আর নটরডেমে কেটেছে স্কুল কলেজের উচ্ছ্বল দিনগুলো। সেখানে অনেক আয়োজনে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতেন। বিতর্ক করতেন, টেলিভিশন পর্যায়েও গিয়েছেন কয়েকবার। তা ছাড়া শখের বসে গ্রাফিক্স ডিজাইনও করেন, চাইলেও ঘুরে আসতে পারেন তার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটটিতে www.dietsolutionbd.com। সীমাবদ্ধতার মাঝ দিয়েও আমাদের দেশে এই মাধ্যমটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে, সবাই এর উপকার ভোগ করবে—এমনটাই স্বপ্ন দেখেন তিনি। ছবি দীপঙ্কর দীপুআবু বকর সিদ্দিক ডাকনাম :তুহিন জন্ম তারিখ ও স্থান :১৯ সেপ্টেম্বর, নোয়াখালী মায়ের নাম :ফাতেমা রহমান বাবার নাম :আক্তারুজ্জামান প্রথম স্কুল :মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :হযরত মুহম্মদ (স.) প্রিয় উক্তি :উই আর হোয়াট উই ইট প্রিয় পোশাক :পাঞ্জাবি, পাজামা অবসর কাটে :লেখালেখি করে, ডিজাইন করে সাফল্যের সংজ্ঞা :নিজের সফল হওয়ার পাশাপাশি পাশের মানুষকে সেটার সুফল পৌঁছে দেওয়া। ---- মা হ ফু জা মো বা র ক প্রভাষক, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আদর্শ বাবার সন্তান তিনি। দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ড. মোবারক হোসেনের যোগ্য সন্তান। বাবার পরিচয়ে নয় কেবল, নিজেই তার অবস্থানে অনেক বিশ্লেষণ পেতে পারেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স, তারপর কিছুদিন স্কটল্যান্ডে গবেষণা, আর দেশে ফিরে এসে প্রকৃতির হাতে গড়া জাদুঘর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিভাগ পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্সে যোগ দিলেন প্রভাষক হিসেবে। ড. মোবারক হোসেন আর একেআর জেসমিন দম্পতির অনন্য এই তনয়া’র নাম মাহফুজা মোবারক তিনি ছাড়াও আরেক কন্যা স্কুলপড়ুয়া মেহজাবীন মোবারককে নিয়ে তাদের সুখের সংসার। মাহফুজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই বড় হয়েছেন, ইচ্ছে ছিল এখানেই পড়বেন, বাবার আগ্রহে ভর্তি হলেন পুষ্টিবিজ্ঞানে। আর ভর্তির পরই বুঝতে পারলেন এখানে অনেক শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কাজ করার সুযোগ আছে, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় সেবা। তাই আগ্রহ নিয়েই পড়াশোনাটা চালিয়ে গেলেন। ফলাফল আশানুরূপ হওয়াতে বাইরে গিয়ে উচ্চশিক্ষাও নিলেন। সব মিলিয়ে তিনি এখন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন কাজ করতে। মাহফুজা মনে করেন, তাদের শুরুর সময়েই এই বিষয়টা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে আমাদের দেশে, তাই কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। মানুষকে প্রাথমিক বিষয়গুলো বোঝানো খুব সহজ কাজ নয়। তা ছাড়া তিনি শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছেনে এ জন্য যে, নতুনদের মাঝে যেন বিষয়টা স্বচ্ছ করে দেওয়া যায় এবং তাদের সাথে ভাবনাচিন্তার বিনিময়ও করা যায়। এটা খুবই ইতিবাচকভাবে দেখেন তিনি। মাহফুজা মনে করেন, জনস্বাস্থ্য-সচেতনতা যত বেশি জোরদার হবে, একটা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা তত উন্নত হবে। জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি শুরুর ফলেই মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাহফুজা বলেন, ‘আমরা যদি আগে থেকেই রোগের কারণগুলো খুঁজে বের করতে পারি এবং এ বিষয়ে সচেতন থাকি, তাহলে সহজেই সুস্থ থাকতে পারি। চিকিত্সকেরা রোগ হওয়ার পর কাজ করেন। কিন্তু জনস্বাস্থ্যকর্মী রোগ হওয়ার আগে থেকেই কাজ করেন। বিশেষ করে, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের কর্মীদের গুরুত্ব অনেক বেশি। যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি, সেখানে বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগের প্রবণতাও বেশি থাকে। এখনও আমাদের দেশের অনেকের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে জ্ঞানের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে, গ্রামগঞ্জে প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্য-সচেতনতার অভাব এবং শিশুদের প্রতিষেধক বিভিন্ন টিকা নিয়ে আছে স্বল্প জ্ঞানের পরিধি। প্রতিরোধের মাধ্যমে রোগমুক্ত রেখে দেশের মানুষকে সামাজিক ও আর্থিকভাবে লাভবান করতে জনস্বাস্থ্য বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি যেহেতু জনস্বাস্থ্য নিয়ে, ফলে এখানে বিভিন্ন ধরনের রোগের ইতিহাস ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম নিয়ে পড়ানো হয়। রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু ধারণা দেওয়া হয়।’ যারা সামাজিক উন্নয়নমূলক ও গবেষণাধর্মী কাজে আগ্রহী, তাদের এ পেশায় আসা উচিত বলে জানান তিনি। এখানে অনেক ধরনের কাজ করা যায়, যে যেই দিকটাতে আগ্রহী তাকে সেটা নিয়েও এগিয়ে যেতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গিয়াসউদ্দিন আবাসিক এলাকায় এখন থাকেন তিনি, অবসরে ডুবে যান সুরের মূর্ছনায়, সময় পেলে পুষ্টি বিষয়ক লেখালেখিও করেন। স্বপ্ন দেখেন, এই পেশায় থেকে কাজ করে যাবেন যতদিন সম্ভব। তার জন্য শুভকামনা। ছবি দীপঙ্কর দীপু মাহফুজা মোবারক ডাকনাম :পলি জন্ম তারিখ ও স্থান :১১ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা মায়ের নাম :রোখসানা মোবারক বাবার নাম :প্রফেসর ড. মোবারক হোসেন প্রথম স্কুল :ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল প্রিয় মানুষ :আমার বাবা প্রিয় উক্তি :যে ধৈর্য ধারণ করতে পারে, তার সফলতা আসবেই। প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :লেখালেখি করে সাফল্যের সংজ্ঞা :যা চাই সেটা ঠিক মতো করতে পারাটাই সফলতা। ----- তা মা ন্না চৌ ধু রী প্রিন্সিপাল ডায়েটেশিয়ান অ্যাপোলো হসপিটাল, ঢাকা ‘আমার মা পড়তেন গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে। তাই ছোটবেলা থেকেই ওখানে পড়ার ইচ্ছা ছিল। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে চান্স পাওয়ার পর যখন বিষয় নির্বাচনের ধাপটি এল, তখন ভাবলাম এমন একটি বিষয় নেব, যার জ্ঞান আমি ঘরে ও বাইরে দুই জায়গাতেই প্রয়োগ করতে পারব। এই ভেবে খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হই। এখন আমি আমার পেশাগত জীবনে একাডেমিক জ্ঞানগুলো কাজে লাগাতে পারি, পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঠিক, পরিমিত ও সুষম ডায়েট নিশ্চিত করতে সহায়তা করি। এভাবে শুরু করলেন অ্যাপোলো হসপিটাল, ঢাকার প্রিন্সিপাল ডায়েটেশিয়ান তামান্না চৌধুরী। তামান্নার এই পেশায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ কতটুকু জানতে চেয়েছিলাম। তিনি জানালেন শুরুর দিকটাতে মানুষ বুঝত না আসলেই এই পেশার চাহিদা বা প্রয়োজনীয়তা কতখানি। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে সময় লাগলেও এখন তারা বেশ আশাবাদী, বড় শহরগুলোতে এখন অনেকেই ডায়েটেশিয়ানের খোঁজ করছেন। ডাক্তাররাও রোগীদের যোগ্য পরামর্শের জন্য অনেক সময় তাদের কাছে পাঠাচ্ছেন। এর মাধ্যমে রোগীরাও আস্থা নিয়ে আসছে, এই বিষয়টা যথেষ্টই উপভোগ করেন তিনি। প্রজন্মের এই ডায়েটেশিয়ান একাধিকবার দেশের বাইরে থেকে পুষ্টিবিজ্ঞান ও ডায়েটিশিয়ানের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নয়াদিল্লি থেকে ডায়েবেটিসের উপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। প্রতিবছরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেন তিনি। বাবার চিকিত্সার জন্য আমেরিকাতে থাকাকালীন বিশ্বের সেরা হাসপাতালগুলোর ডায়েট বিভাগের কাজ তিনি সামনে থেকে দেখেন, সেটাও তার জন্য বড় এক অভিজ্ঞতা। তামান্না মনে করেন, সময়ের সাথে সাথে এই ক্ষেত্রটা তাই পেশা হিসেবে বেশ উপযোগী আমাদের দেশে। আগে খুব একটা আলাদা কাজ করার জায়গা না থাকলেও এখন হয়েছে, মানুষ বেশ আগ্রহ নিয়ে আসছে কাজ করতে। নতুনদের কাজ দেখে বেশ আগ্রহী তামান্না। ইন্টার্নি করতে যারা আসে তারা হাসিমুখে সেবা দিচ্ছে রোগীদের। রোগীরাও অনেক সময় ডায়েটের বিষয়ে কনসালটেশনে খোলামেলা কথা বলছে তাদের সাথে। এই সুযোগে সবার সাথেই একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠছে। বিশেষ করে মেয়েরা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে কনসালটেশনে অংশ নিচ্ছে, ছেলেরাও পুষ্টিবিজ্ঞানের দিকটাতে খুব ভালো করছে। তামান্নার বাবা ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তারা তিন বোন। তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে তাই দেশের বিভিন্ন শহর ঘুরে ঘুরে। কুমিল্লা, রাজবাড়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ অনেক জেলাতেই তার স্কুল-কলেজের জীবন কেটেছে। ঢাকার আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি আর রাজবাড়ি কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে। পারিবারিক জীবনে এখন মা আর দুই সন্তান তানজীন আর তানিশাকে নিয়ে কেটে যায় তার সুখের দিন। অবসরে টিভি দেখতে ভালোবাসেন খুব, গান শুনতে বই পড়তে ভালো লাগে তার। বাকি সময়টা শুধুই রোগীদের সেবায়, যাদের সন্তুষ্টিই তার সবেচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অভিজ্ঞ এই ডায়েটিশিয়ান স্বপ্ন দেখেন নিজেই একটা ইনস্টিটিউশন দেবেন, সেটা পুরোটাই নিবেদিত থাকবে ডায়েটের প্রয়োজন আছে এমন রোগীদের জন্য। সেটা বাস্তবায়ন হলে হয়তো অনেকেই কাজ করার সুযোগ পাবে, তার চেয়ে বড় কথা পৃথক একটা জায়গা থাকবে রোগীদের বিশেষ যত্ন ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য। তামান্না চৌধুরী ডাকনাম :তামান্না জন্ম তারিখ ও স্থান :৩ জুন, ঢাকা মায়ের নাম :আশরাফা খানম চৌধুরী বাবার নাম :গোলাম মওলা চৌধুরী প্রথম স্কুল :উদয়ন হাই স্কুল, ঢাকা প্রিয় মানুষ :আমার বাবা প্রিয় উক্তি :বর্তমানটাই পাথেয় প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :টিভি দেখে, বই পড়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :যা শেখা হয় তা জীবনে ঠিকমতো প্রয়োগ করতে পারা। ------ আ ফ রি ন ম র্ত্ত জা নিউট্রিশন কনসালটেন্ট, শিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবাবা চিকিত্সক ছিলেন, অনেকের মতো তারও বদ্ধ ধারণা ছিল যে, পুষ্টিবিজ্ঞানের কী দরকার? তারাই তো সেটা করে দিতে পারেন। মেয়ে সেটা মানতে নারাজ। আর যখন মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ছেড়ে এসে পড়তে চাইলেন পুষ্টিবিজ্ঞান, বাবা তো রীতিমতো কথা বলা বন্ধ করে দিলেন। কই? আজ তো সেই মেয়ে থেমে থাকেননি। পুষ্টিবিজ্ঞানের অভিজ্ঞ একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। শিকদার মেডিকেল কলেজের নিউট্রিশন বিভাগের কনসালটেন্ট তিনি, তার বাবার মতো অনেক চিকিত্সকই এখন রোগীর সামগ্রিক পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শের জন্য পাঠান তার কাছে, সেদিনের চ্যালেঞ্জে তিনি নিজেকে সফল প্রমাণ করেছেন। নিজের এগিয়ে যাওয়ার গল্পটা এমনই আফরিন মর্ত্তজার, আপনজনদের কাছে তিনি অ্যানি নামেই পরিচিত। আফরিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করেন, তারপর চাকরিরত অবস্থাতেই স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক হেলথে মাস্টার্স করেন। শুরুর দিকে তার একটা ইচ্ছে ছিল বাইরে যাবেন, প্রবাসী আত্মীয়জনরাও বলেছিল সেখানে পুষ্টিবিজ্ঞানের অনেক চাহিদা। কিন্তু কাজ শুরু করে বুঝলেন, আমাদের দেশেই এই ক্ষেত্রে উন্নয়নের অনেক দিক বাকি রয়ে গেছে, এখানেই কাজের অনেক সুযোগ আছে। সেই ভাবনা থেকেই আর বাইরে যাননি, তবে উচ্চশিক্ষার জন্য সুযোগ পেলে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। আফরিনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তিনি এই পেশায় কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। হাসিমুখে জানালেন, শতভাগ। আগে অনেক সময়ই ডাক্তাররা নিজেদের ধারণা থেকে পথ্য দিতে বলতেন রোগীদের কিন্তু এখন সবাই পুষ্টিবিদদের উপর আস্থা রাখছেন, এটাই তাদের সফলতা। একজন ব্যক্তিকে রোগমুক্ত রাখা আর সেই সাথে রোগের সময়ে খাবার সঠিক দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে রাখাই একজন পুষ্টিবিদের কাজ। সঙ্গত কারণেই তাদের রোগ বিষয়েই অনেক কিছুর জানা থাকে, সুতরাং নির্ভাবনায় তাদের উপর আস্থা রাখা যায়। আফরিন মনে করেন, এনজিওগুলো মাঠপর্যায়ে কাজ করছে এটা ভালো, তবে সেটা যেন অন্তঃসারশূন্য না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনভিজ্ঞ মানুষকে দিয়ে প্রশিক্ষণ বা মনিটরিং করালে সেটার ফলাফল আদৌ ভালো হচ্ছে না। তা ছাড়া সরকারিভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করার জন্য পুষ্টিবিদ নিয়োগ দেওয়া উচিত। সরকারি হাসপাতালগুলোতেও এই পদ সৃষ্টি করা দরকার। এতে কাজের সুযোগের পাশাপাশি মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়। আফরিনের ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকার খিলগাঁওয়ে। বাবা চিকিত্সক হিসেবে খ্যাতিমান, মা গৃহিণী। চার ভাইবোনের মাঝে তিনি প্রথম। স্বামী কাজ করছেন টেলিকম প্রতিষ্ঠানে। মতিঝিল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ভর্তি হন গার্হস্থ্য অর্থনীতে কলেজে। একজন পুষ্টিবিদ হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান আফরিন। তার সেই ইচ্ছা দিনকে দিন আরও সমৃদ্ধির পথে ধাবিত হচ্ছে বলাই বাহুল্য। আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে আফরিনের মতো পুষ্টিবিদদের হাত ধরেই আমাদের সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আরও অগ্রগতি ঘটবে। সেই লক্ষ্যেই প্রতিদিন তারা পথ চলেছেন। ছবি দীপঙ্কর দীপু আফরিন মর্ত্তজা ডাকনাম :অনি জন্ম তারিখ ও স্থান :১৬ জুন, ঢাকা মায়ের নাম :কামরুন্নেসা বাবার নাম :ডা. মর্ত্তজা খন্দকার প্রথম স্কুল :শেরে বাংলা কিন্ডারগার্ডেন প্রিয় মানুষ :আমার বাবা প্রিয় উক্তি :অধিকার ছাড়িয়া দিয়া রাখিতে যাইবার মতো বিড়ম্বনা আর নাই। প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :লেখালেখি ,বই পড়ে অথবা আবৃত্তি। সাফল্যের সংজ্ঞা :যে কাজ করছি সেটাতে আত্মতৃপ্তি পাব আর সবাই সেটার সুফল পাবে।