মধ্য নয়াদিল্লিতে মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৪
ভারতে চলন্ত বাসে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের ঘটনায় মধ্য নয়াদিল্লিতে রবিবার ভোর থেকে সবধরনের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওইদিন সরকারের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, এখানে প্রেসিডেন্ট বাসভবন এবং পার্লামেন্ট ভবনের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ-সমাবেশ হওয়ায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ওইদিন ভোরে পুলিশ রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য:আমরা এখানে এসেছি ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ জানাতে। আর নিশ্চয়ই আমাদের সে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে। এ কারণে নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ইন্ডিয়া গেট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী ৫ জনের বেশি লোক একসঙ্গে সমবেত হতে পারবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদক সুবিনা সেরেস্তা রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে জানান- পরিস্থিতি শনিবারের মতোই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ইন্ডিয়া গেটে সমবেত প্রতিবাদকারীদের পিছু হটিয়ে দেয় পুলিশ। এদিকে ৫ বিক্ষোভকারী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে রবিবার সকালে সাক্ষাত্ করেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবন অভিমুখী হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর ওপর লাঠিচার্জসহ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন নারী বিক্ষোভকারী আহত হয়। অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড ও নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ওইদিন বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামে। এদের একটি বড় অংশ কলেজের শিক্ষার্থী। বিক্ষোভকালে তারা বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। এদের মধ্যে একজন বিক্ষোভকারী বলেন, রাহুল গান্ধী যদি নিজেকে তরুণ সমাজের প্রতিনিধি বলে মনে করেন, তাহলে তিনি যেন এখানে আসেন এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ওইদিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে অনেকে আহত হয়। বিক্ষোভকারীরা এ সময় পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সপ্তাহব্যাপী দেশজুড়ে মিছিল, সমাবেশ ও মোমবাতি প্রজ্বলন করেছে বিক্ষোভকারীরা।