একখণ্ড জমিতে সবজি চাষ করেই আশাতীত সাফল্য পেয়েছেন বগুড়ার শেরপুরের প্রান্তিক চাষী আজিমুদ্দিন শেখ। চলতি মৌসুমে বাড়ির লাগোয়া পালানের দেড় বিঘা জমিতে জাপানী স্নোষ্টার জাতের ফুলকপি ও গ্রীনবল জাতের বেগুনের আবাদ করে রেকর্ড মাত্রার ফলন পেয়েছেন।
আজিম উদ্দিন শেখ জানান, ২৫/২৬ দিনে ফুলকপি ও বেগুন বিক্রি করেছেন প্রায় ৮০হাজার টাকার। পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আরো প্রায় দেড় লাখ টাকার ফুলকপি ও বেগুন বিক্রি হবে। কপি ও বেগুন ওঠার পর পটল, ঝিঙে ও করলার চাষ শুরু করবেন। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি ৬ হাজার কপি ও ৩ হাজার বেগুন চারা লাগিয়েছিলেন। আবাদে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। পাইকারী বাজারে ফুলকপি ও বেগুনের এবার একই দাম। প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকায়। বাড়িসহ মোট জমি তার মাত্র ৫ বিঘা। প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমিতে খোরাকি ধান চাষ করেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি সবজি চাষ করেন। সবজি চাষের আয় থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে আধাপাকা বাড়ি তৈরি করেছেন। সংসারে স্ত্রী, ২ছেলে, ১মেয়ে। বড় ছেলে জাহাঙ্গীর এসএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করে বাবার সাথে চাষাবাদের কাজ করে। মেয়ে ডিগ্রী প্রথমবর্ষের ছাত্রী। ছোট ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী। ছেলে-মেয়ের পড়ালেখাসহ সংসারের সকল খরচ চলে তার সবজি চাষের আয় থেকে।
আজিমুদ্দিন বলেন, ছোটবেলায় চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন। অর্থাভাবে প্রাইমারী স্কুল ডিঙ্গিয়ে তার আর পড়ালেখা হয়নি। সবজি চাষের উপর তার সরকারি কোন প্রশিক্ষণ নেই। যদিও আশ-পাশের কৃষকরা সবজি চাষে তার পরামর্শ নেয়।
