হলমার্ক জালিয়াতি মামলায় সোনালী ব্যাংকের এক জিএম ও দুই ডিজিএমকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সোনালী ব্যাংকের জিএম মীর মহিদুর রহমান, সোনালী ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থায়ন বিভাগের ডিজিএম শেখ আলতাফ হোসেন এবং সফিক উদ্দিন আহমেদ। গতকাল সন্ধ্যায় দুদকের অনুসন্ধান টিমের প্রধান সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে তদন্ত দল রমনা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের পর পরই তাদেরকে রমনা মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। দুদকের একটি সূত্র জানায়, আজ সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেফতারকৃত এই তিনজনকে আদালতে হাজির করবে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের সিনিয়র উপপরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী।
নিয়ম ভেঙে ঋণ নেয়ার মাধ্যমে ২০১০ সালের জুন থেকে ২০১২ এর মার্চ পর্যন্ত সময়ে একাধিক ব্যাংক শাখা থেকে মোট ৩ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা সরানোর অভিযোগ রয়েছে হলমার্কসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপ সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংকে খোলা এলসি দেখিয়ে আরো কয়েকটি ব্যাংক থেকে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা তুলে নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এলে তা নিয়ে দেশ জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপপরিচালক মীর জয়নুল আবেদিন শিবলীর নেতৃত্বে দুদকের ছয় সদস্যের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখা এবং প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ মোট ৫১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। এরপর অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করে দুদক। এসব মামলায় হলমার্ক চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, তার স্বামী ও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ, মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ এবং সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখার ব্যবস্থাপক এ কে এম আজিজুর রহমানকে ইতিমধ্যে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন দুদক কর্মকর্তারা।
