চলমান ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আবারো ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের কতিপয় নেতা-কর্মীর মধ্যে এ প্রশ্নপত্র বিলি হয়েছে। গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ের প্রশ্নপত্র গত শনিবার রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হলে পরীক্ষার্থীদের একটি বিশেষ অংশের হাতে পৌঁছে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে জালিয়াতচক্র কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী।
জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে বিসিএস লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, এমন তথ্য সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ১৮ ডিসেম্বর থেকে আবারও লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়। তবে এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত চক্রটি সীমিত সংখ্যক পরীক্ষার্থীর কাছে ফাঁসকৃত প্রশ্ন সরবরাহ করেছে। এর মাধ্যমে প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পিএসসি। এ প্রসঙ্গে পিএসসি’র চেয়ারম্যান এটি আহমেদুল কবির বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি গুজব। এ ধরনের কোনো সুযোগ এখন নেই। তাই পরীক্ষার্থীদের এ বিষয়ে মনোযোগ দেয়া উচিত হবে না। পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের সাথে ফাঁসকৃত প্রশ্ন মিলিয়ে দেখা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা তা প্রয়োজনীয় বলে মনে করি না।
তবে একাধিক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ করেন, অক্টোবরে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে ব্যর্থ হওয়ায় এবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জালিয়াতচক্র। তারা সরকার দলীয় একটি সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং তাদের বিশ্বস্ত পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্য কাউকে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র দেয়নি। এমনকি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, প্রতিদিনের নির্দিষ্ট পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যায়, রাতে এবং পরীক্ষার দিন সকালে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন সরবরাহ করেছে।
প্রসঙ্গত, চার হাজার ২০৬টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ৩৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গত ১ জুন প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা (প্রিলিমিনারি) অনুষ্ঠিত হয়। পৌনে দুই লাখের বেশি পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেন। গত ২৮ জুন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়।
