পরামর্শ

সঠিক খাওয়াদাওয়া

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১২, ১৬:৫৮
খাবার আমাদের অনেকের জন্য সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুতরাং খাবার বাছাই করা এবং এসব বাছাইয়ের কথা বন্ধুদের জানানোর জন্য বেশ দক্ষতার দরকার হয়। স্বাস্থ্যসম্মত, সুষম খাবার আপনাকে আরও সুস্থ ও ফিট জীবন কাটাতে সাহায্য করে। সুষম খাবার খেলে আপনার শরীর পুরোনো অসুখের ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। ঠিকমত স্বাস্থ্যসম্মত খাওয়াদাওয়া করতে পারলে, অনেক অসুখের ঝুঁকি কমানো যায়। প্রথমত, সকালে উঠেই বেড টি বা কফি খাওয়ার অভ্যাস ছাড়ুন। এর পেছনে একটা কারণ রয়েছে। রাতে যখন আমরা ঘুমাই তখন আমাদের রক্তে চিনির মাত্রা নেমে যায়। ফলে সকালে আমরা দুর্বলবোধ করি। তাই আমাদের উচিত, এমন খাবার খাওয়া যা রক্তচাপ বাড়িয়ে তোলে। সকালে উঠেই চা খেলে শরীর এক ধাক্কায় জেগে ওঠে। ফলে হূদস্পন্দনের হার, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার এবং রক্তচাপ তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে। তৈরি হয় মানসিক চাপ। এ ছাড়া চা বা কফি পুষ্টির কোনো জোগান দেয় না। শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করে। সে জন্যে প্রথমে নাস্তা করুন, তারপর চা খান। শরীর ও মন দুই-ই ভালো থাকবে। দ্বিতীয়ত, প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর কিছু না কিছু খান। সকালে উঠেই চা খাওয়ার পর ক্ষুধা মরে যায়। আরও এক কাপ চা খাওয়ার পর লাঞ্চ খেতে ইচ্ছা করে না। ফলে বিকেলে এত খাওয়া হয়ে যায় যে, স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়ার প্রতিজ্ঞা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। দু’ঘণ্টা অন্তর অন্তর পরিমিত খেলে প্রচণ্ড ক্ষুধা পায় না। অন্যদিকে পেট সহজে হজম করতে পারে। তৃতীয়ত, যখন বেশি সক্রিয় থাকবেন তখন বেশি খান। কম সক্রিয় থাকলে কম খান। নিজের কর্মকাণ্ড অনুযায়ী খাবার পরিকল্পনা করা ভীষণ জরুরি। ঠিক যেমন গাড়ি বেশি চালালে বেশি পেট্রোল লাগে, ঠিক তেমনি কাজের চাপ থাকলে শক্তি বেশি লাগে। খাবারের প্রয়োজনও বেড়ে যায়। দিন যত গড়ায় শরীরের পরিপাক হারও তত বেড়ে যায়। সূর্য ডুবে যাওয়ার পর পরিপাক হারও কমতে থাকে। ফলে বিকেলের চেয়ে সকালে খাবারদাবার অনেক বেশি লাগে। সে জন্য সুস্থ, সুন্দর থাকতে হলে ঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ খাবার খাওয়া খুব জরুরি। চতুর্থত, শুতে যাওয়ার ঠিক দু’ঘণ্টা আগে খাওয়া শেষ করুন। সন্ধ্যা থেকেই খাওয়া কমিয়ে দেওয়া উচিত। সাধারণত সন্ধ্যাবেলার দিকে আমরা কাজ শেষ করে বিশ্রাম করতে শুরু করি। টিভি দেখা ও বই পড়ার জন্য তো বেশি ক্যালরি খরচ হয় না ফলে খুব বেশি খাওয়ারও প্রয়োজন নেই। সবচেয়ে ভালো হয় যদি সন্ধ্যা ছ’টা-সাড়ে ছ’টা নাগাদ ভালো করে খেয়ে নিয়ে রাতের দিকে হালকা খাবার খান। তাহলে শুতে যাওয়ার আগেই খাবার ঠিকমতো হজম হয়ে যাবে। এতে ঘুম ভালো হবে। শরীর সহজে তার নিজের কাজ করতে পারবে, যার মধ্যে ফ্যাট বার্ন করা অন্যতম। পরিশেষে, সকালে নাস্তা কখনই বাদ দেবেন না। সকালে বের হওয়ার আগে তৃপ্তি করে খান। কাজে বল পাবেন। একবারে পেট ভরে না খেয়ে বারে বারে খান। দিনে দুয়েকবার চা-কফি খেতেই পারেন। কিন্তু তার বেশি নয়। স্বাস্থ্যসম্মত খাওয়া-দাওয়ার একটা সহজ গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো— ++ মজা করে খাবার খান ++ বিভিন্ন ধরনের খাবার খান ++ প্রচুর স্টার্চ এবং ফাইবার (আঁশযুক্ত) আছে এমন খাবার খান ++ প্রচুর ফল এবং শাকসবজি খান ++ বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাবেন না ++ চিনি দেওয়া ড্রিংক বা খাবার বেশি খাবেন না ++ যথেষ্ট ভিটামিন ও মিনারেল আছে এমন খাবার খান ++ অ্যালকোহল পান করলে মাত্রা বুঝে পান করবেন ++ সঠিক পরিমাণে খাবার খান, স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বজায় রাখতে। মডেল এ্যানি ছবি দীপঙ্কর দীপু