চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ২০১২-১৩ (সিইউটিএ) নির্বাচন আগামী ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘হলুদ দল’ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আলাদা প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। অপর দিকে বিএনপি-জামায়াতপন্থী ‘সাদা দল’ও তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ফের বিভক্ত হয়ে পড়েছে হলুদ দলের শিক্ষকরা। এর আগে চলতি বছরের আগস্টে ডিন নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রথম বিভক্তি প্রকাশ পায়।
জানা গেছে, নির্বাচন কেন্দ্র করে গত ১৮ ডিসেম্বর হলুদ দলের স্টিয়ারিং কমিটির সভা হয়। নির্বাচনের জন্য সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির ১১টি পদে হলুদ দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়। এতে অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আলী আশরাফকে সভাপতি, প্রফেসর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুরকে সহ-সভাপতি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুকান্ত ভট্টাচার্যকে কোষাধ্যক্ষ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিমকে যুগ্ম-সম্পাদক প্রার্থী পদে মনোনয়ন দেয়া হয়।
এ ছাড়া আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবুল বশর মোহাম্মদ আবু নোমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দুসী, নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. কুন্তল বড়ুয়া, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাজনীন নাহার ইসলাম, পদার্থ বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর মো. সাহিদুর রহমানকে হলুদ প্যানেলের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়; কিন্তু এ মনোনয়ন যৌক্তিক নয় বলে দাবি করছেন হলুদ দলের শিক্ষকদের একটি অংশ।
এ দিকে দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে চলতি বছরের ৩১ মে হলুদ দল থেকে বেরিয়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিনের নেতৃত্বে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে নতুন একটি সংগঠন গঠন করা হয়। সালেহ উদ্দিনও হলুদ দলের হয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে তার প্যানেল থেকে আলাদা প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। এতে অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন সভাপতি, গণিত বিভাগের প্রফেসর ড. গণেশ চন্দ্র রায় সহ-সভাপতি, পদার্থ বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম মাঈনুল হক মিয়াজীকে সাধারণ সম্পাদক, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলা উদ্দিনকে যুগ্ম-সম্পাদক করে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়। এ ছাড়া এ প্যানেল থেকে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবুল হাসেম, পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক চন্দন কুমার পোদ্দার, রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুল মতিন, গণিত বিভাগের প্রফেসর ড. মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহ আলম, লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শায়রুল মাশরেককে সদস্য পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘হলুদ দলের নামে বর্তমান কমিটি যেসব কর্মকাণ্ড করছে, তা নিয়মবহির্ভূত। তাই আমরা হলুদ দলের হয়ে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।’
অপর দিকে হলুদ দলের আহ্বায়ক কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন ড. ইমরান হোসেন বলেন, ‘শিক্ষক সমিতির নির্বাচনপূর্ব হলুদ দলের সভায় বিভিন্ন পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে; কিন্তু কেউ যদি আলাদাভাবে দলের নাম নিয়ে অংশ নেন, তাতে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না।’
এ দিকে, বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ‘সাদা দলের পক্ষ থেকেও সবকটি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে সভাপতি, পদার্থ বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলামকে সহ-সভাপতি, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রফেসর এস এম নছরুল কাদিরকে সাধারণ সম্পাদক, আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে কোষাধ্যক্ষ এবং ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরীকে যুগ্ম-সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেয়া হয়। এ ছাড়া গণিত বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এনামুল হক, দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. কোরবান আলী, প্রফেসর ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী; ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ আলমকে সদস্য পদে সাদা দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়।
বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাদা দলের আহ্বায়ক গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে শনিবার নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। হলুদ দলে বিভক্তি দেখেই বোঝা যায়, তাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এম এ গফুর জানান, শনিবার সাড়ে ১১টার মধ্যে সবাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এ দিনই শুধু আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবুল হাসেম তার সদস্য পদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। আজ (২৩ ডিসেম্বর) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে আগামী ২৬ ও ২৯ ডিসেম্বর অফিস চলাকালে ভোটাররা ভোটাধিকার অগ্রিম প্রয়োগ করতে পারবেন।
