ষাট বছরে পা রাখলো দৈনিক ইত্তেফাক। ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর এদেশের সাংবাদিকতার প্রাণপুরুষ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার হাতে যে দৈনিক পত্রিকাটির সূচনা, তা আজও প্রতিদিন ভোরে তাজা খবরের ডালি নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে দুয়ারে দুয়ারে। জন্মলগ্নে তত্কালীন পাকিস্তানের সেই কঠিন সময়ে সত্য প্রকাশের আরো সুকঠিন যে দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিল পত্রিকাটি, গত ঊনষাট বছরে তা থেকে বিচ্যুত হয়নি কখনো। দীর্ঘ এই পথপরিক্রমায় বাঙালি জাতির নানা সংকটে সাফল্যে, আনন্দে বেদনায়, গৌরবে অহংকারে ইত্তেফাক সঙ্গে ছিল। মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান থেকে বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা—সব কিছুতে ইত্তেফাক যে সমস্ত বাধা বিপত্তি তুচ্ছ করে দায়িত্ব পালন করেছে, এদেশের ইতিহাসই তার সাক্ষী। সুদীর্ঘকাল ধরে এই দায়িত্ব পালন সম্ভব হয়েছে, ইত্তেফাকের প্রতি এদেশের আপামর মানুষের ভালোবাসা ও অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণে। ইত্তেফাকের প্রতি গণমানুষের এই ভালোবাসার ঋণ শুধু ধন্যবাদ দিয়ে পরিশোধের নয়।
দৈনিক ইত্তেফাকের আত্মপ্রকাশের দিন এর প্রধান শিরোনাম ছিল ‘গণবিক্ষোভের মুখে মুসলিম লীগ দলের নাভিশ্বাস’। সেদিন এটা শুধু একটা খবরের শিরোনাম ছিল না, ছিল প্রতিটি বাঙালির ঐকান্তিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। কঠিন সেই দিনে বাঙালির পাশে দাঁড়িয়ে বাঙালির প্রাণের কথার এমন উচ্চারণ সহজসাধ্য ছিল না। তবু গণতন্ত্রের প্রশ্নে, মানবাধিকারের প্রশ্নে, আত্মমর্যাদার প্রশ্নে এবং সাধারণ মানুষের সত্য জানবার অধিকারের প্রশ্নে ইত্তেফাক কখনো আপস করেনি। আর তা করেনি বলেই আজও ইত্তেফাক— ইত্তেফাকই।
