নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের লিঙ্ক রোডে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ২০:১৩

ময়লার বাগাড়ে পরিণত হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। দিনে রাতে পালা করেই ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। যেন ময়লা ফেলার প্রতিযোগিতা। অথচ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এখানে যাতে কেউ ময়লা-আবর্জনা না ফেলে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। যে যার মত ময়লা ফেলে যাচ্ছে। আর দুর্ভোগ নিত্য সঙ্গী হচ্ছে ওই এলাকার নাগরিকদের। এছাড়া লিংক রোড দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এই ময়লা আবর্জনার কারণে। ছোট যানের যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠে ময়লার গন্ধে।

বৃহস্পতিবার জালকুড়ির এলাকায় ময়লা ফেলার স্থানে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সড়ক ও জনপদের একটি সাইনবোর্ড। ‘এখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা সম্পূর্ণ নিষেধ’। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সড়কের পূর্বপাশে ময়লার উঁচু উঁচু স্তূপ। ওই সকল স্তুত থেকে ময়লা চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়ে জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। শুকনো ময়লা পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তিনটি ময়লার গাড়ি ময়লা ফেলে যায়। ময়লা দিয়ে খাল ভরাট করা হচ্ছে। এছাড়াও সড়কের পশ্চিম পার্শ্বেও ফেলা হচ্ছে ময়লা। জালকুড়ির ময়লার স্তূপে ময়লা ফেলে যাচ্ছেন কয়েকজন ময়লা গাড়ির ড্রাইভার।

এমন কয়েকজনের সাথে কথা হলে বলেন, আজকেই আসছি। সবসময় আসি না ময়লা ফেলতে। কিন্তু স্থানীয় মেসার্স আইডিয়াল ট্রান্সপোর্ট কাভার্ড কোম্পানির মালিক বলেন, এই জায়গায় শুধু রাতের অন্ধকারে ফেলে এমন না, দিনেও অনেকবার আইসা ময়লা ফালায় যায়। আমি এই জায়গা লিজ নিয়েছি। এখন আমি নিজে টাকা খরচ করে আমার জায়গা পরিষ্কার করেছি। কিন্তু রাস্তার পূর্ব পাশের জায়গায় ময়লা ওইভাবেই পড়ে আছে। প্রতিদিনই আইসা ময়লা ফালায় যায়।

আরও পড়ুন: ইভিএম ব্যবহারে ৬টি আসন নির্ধারিত

সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার হোসেনে আরা বেগম বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে জালকুড়িতে ময়লা ফেলা নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরেও লুকিয়ে এখনো ময়লা ফেলে সেটা জানি। জেলা প্রশাসক বক্তাবলীতে একটি জায়গা ঠিক করে দিয়েছে। সেখানে ইউনিয়নের ময়লা ফেলবে। সেই জায়গাটিতে ময়লা ফেলা হবে বিষয়টি প্রায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে গেছে। তবে জায়গাটা নিয়ে কিছুটা সমস্যা আছে। এর জন্য চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখবেন। জায়গাটি ঠিক হয়ে গেলে সেখানে আর ময়লা ফেলা হবে না।

জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মইনুল হক বলেন, এখানের ময়লা খুবই ক্ষতিকর। এখানে মেডিকেলের বর্জ্যও থাকে। এ ময়লা এভাবে ফেলার রাখলে অনেক সমস্যা হতে পারে। এখানে যারা কাজ করে তাদের রোগ ব্যাধিসহ ভয়ংকর ভাইরাসেরও সৃষ্টি হতে পারে। এখানের বর্জ্য বিভিন্নভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। কোনটা কম্পোস্ট সার, কোনটা রিসাইকেলিং, সংক্রামক বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলতে হবে। পরিবেশর দূষণ রোধ করতে সরকারিভাবে ও প্রশাসনিকভাবে সকলের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ