স্বপ্নের আমেরিকা সুখী মানুষের দেশ নয়

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪৬
এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দরিদ্র দেশগুলোর শ্রমজীবী জনসাধারণের কাছে যুক্তরাষ্ট্র যেন এক অধরা স্বপ্ন। এসব মানুষের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রোজগার করার সাধ আকাশের চাঁদের মতো অধরা থেকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সম্পদ ও অসীম ক্ষমতার গল্প এসব দেশের মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু নতুন ধরনের পরিসংখ্যান বলছে, ‘স্বর্গে’ সুখী নয় খেটে খাওয়া মানুষরা। সেখানে ধনী-গরিবের আয়ের তফাত বাড়ছে টাইফুনের গতিতে। শিক্ষার সুযোগ ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে। সমাজে-পরিবারে অশান্তিতে অতিষ্ঠ কিশোর বয়সীরা বন্দুক হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে সহপাঠীর ওপর। হত্যা করছে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের। সমপ্রতি ‘দ্য ডন’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষের বাস লাতিন আমেরিকায়। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ কাতার, সবচেয়ে বেশি আয়ুষ্কালের মানুষের দেশ জাপান বা সবচেয়ে বেশি উচ্চশিক্ষিতের দেশ কানাডার মানুষও দরিদ্র দেশগুলোর মানুষের মতো সুখী নয়। জগতের সবকিছুর প্রতি সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখে, এমন মানুষের বাস পানামা ও প্যারাগুয়েতে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে এল সালভাদর ও ভেনেজুয়েলা। এর পরের স্থানগুলোতে যথাক্রমে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, থাইল্যান্ড, গুয়াতেমালা, ফিলিপাইন, ইকুয়েডর ও কোস্টারিকা। গলআপ ইনকরপোরেশন ১৪৮টি দেশের প্রতিটির এক হাজার মানুষকে তাদের বিশ্রাম, কর্মক্ষেত্রে সম্মান লাভ, হাসি-আনন্দে থাকা, প্রতিদিন ভালো বা মজার কোনো না কোনো কাজ করা, নতুন কিছু শেখা এবং গত দিনটি কতটুকু আনন্দে কেটেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করে। জবাব অনুযায়ী তৈরি হয় সন্তুষ্টিসীমা। সব-চেয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির লোকের বাস সিঙ্গাপুরে। এর ওপরে আছে যথাক্রমে আর্মে-নিয়া, ইরাক, জর্জিয়া, ইয়েমেন, সার্বিয়া, বেলারুশ, লিথুয়ানিয়া, মাদা-গাস্কার ও আফগানিস্তান। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন-গোষ্ঠীর তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৩৩। লাতিন আমেরিকার বৃহত্ অর্থনীতির দেশ মেক্সিকো ও ব্রাজিলের অবস্থান আরও পেছনে। এ জরিপ থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার, সমৃদ্ধিশালী দেশের মানুষও অসুখী হতে পারে। ‘আমেরিকান স্বপ্নে’ বিভোর মানুষের জীবন অর্থনীতির চাকায় বাঁধা। অর্থনীতি যত তলায়, আমেরিকার সাধারণ মানুষের জীবনও তত তলিয়ে যায়। এর প্রমাণও মিলেছে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে। সমপ্রতি রয়টার্স যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বিভিন্ন অসামঞ্জস্য নিয়ে তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদনে দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক অস্থিরতার পরিষ্কার চিত্র ফুটে উঠেছে।