তালেবানদের জঙ্গি কর্মকাণ্ড থেকে মূলধারার রাজনীতিতে আনার আফগানিস্তান সরকারের শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান একমত এবং এ কাজে পুরোপুরি সমর্থন দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন এক আফগান কর্মকর্তা । এতে করে পাকিস্তান স্থিতিশীল আফগানিস্তান চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের যৌথ উদ্যোগে আফগানিস্তান শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে পাকিস্তানের ভূমিকাকে গুরুত্বসহকারেই দেখা হয়। ২০১৪ সালের মধ্যে ন্যাটো সেনারা আফগানিস্তানের নিরাপত্তাভার সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে চলে যাবে। ফলে আফগানিস্তানে শান্তি নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এমন গুরুতর একটি সময়েই কাবুল সরকারের শান্তি পরিকল্পনায় ইসলামাবাদের শামিল হওয়ার খবর জানিয়ে আফগান ওই কর্মকর্তা বলেন, তারাও তালেবানদের জঙ্গিবাদী পরিচয় থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ধারায় আনার মূলমন্ত্র সম্বলিত আমাদের শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে একমত হয়েছে, যাতে করে তালেবানরা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করতে পারবে। তালেবানদের জঙ্গিবাদ থেকে রাজনীতিতে আনার বিষয়টি রয়েছে আফগান সরকারের শান্তি পরিকল্পনায়। কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বরাবরই জঙ্গিবাদে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ করে এসেছে আফগানিস্তান। তবে পাকিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের পারস্পরিক সন্দেহের কারণে জঙ্গি তত্পরতা সামাল দেয়ার প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়েছে।
আফগানিস্তানে ভারতের প্রভাব ঠেকাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পাকিস্তান ভারতপন্থি কাবুল সরকারকে উত্খাত করতে তালবেনকে গোপনে মদদ দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ন্যাটো সেনাদের আফগানিস্তান ছাড়ার সময় হয়ে আসায় আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান এখন তাদের নিজেদের স্বার্থেই হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে রাজি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তানের আশঙ্কা, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর দেশটিতে বিভিন্ন পক্ষে লড়াই শুরু হতে পারে, যা দেশটিকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে। প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় আফগানিস্তানে অস্থিতিশীলতার প্রভাব পড়বে পাকিস্তান সীমান্তে। আফগান সীমান্তের পাক সামরিক কমান্ডাররাও এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আর সে কারণেই ইসলামাবাদ আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হয়েছে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে সঙ্গে তালেবানদের রাজনীতির ধারায় আনতে পাকিস্তানের উদ্যোগটা খুব সম্ভবত সে কারণেই। আফগান কর্মকর্তা পাকিস্তানের এ উদ্যোগের ব্যাপারে যে মন্তব্য করেছেন তাতে সমপ্রীতি গড়ার প্রচেষ্টায় এখন পাকিস্তানের সদিচ্ছার ব্যাপারে আফগানিস্তানের নজিরবিহীন আশাবাদেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
