বিদ্রোহীদের তুলনায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারি বাহিনী এখনও শক্তিশালী বলে দাবি করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী উমরান আহিদ আল-জাবি। একই সাথে সেখানকার রাসায়নিক অস্ত্রও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে এমন মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা।
সিরিয়াজুড়ে বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা এবং একের পর এক এলাকা দখলের পরও সরকারি বাহিনী এখন পর্যন্ত শক্তিশালী বলে জানিয়েছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী উমরান আহিদ আল-জাবি। রবিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিদ্রোহীদের জয়ের সংবাদকে ‘গণমাধ্যমের বানানো রূপকথা’ বলে অভিহিত করেন। গত সপ্তাহে সিরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক আল- শারা সংবাদপত্রের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, কোনো পক্ষই জয়ী হবে না, তাই জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সিরিয়ায় একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার।
শিয়া মুসলিম প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের আলাওয়িতে গোত্রের প্রভাবাধীন সরকারে ক্ষমতার বলয়ে একজন সুন্নি মুসলিম প্রতিনিধি ভাইস প্রেসিডেন্ট শারা। তিনি প্রেসিডেন্ট আসাদের ঘনিষ্ঠদের একজন । ২০১১ সালের মার্চ থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন-বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর থেকে তাকে জনসম্মুখে খুব কমই দেখা গেছে। শারার বক্তব্য প্রসঙ্গে আহিদ আল-জাবি বলেন, সিরিয়ার দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষের প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত আছে।
দেশজুড়ে বিভিন্ন সামরিক ক্ষেত্র দখলসহ বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিদ্রোহীদের জয়ের এসব সংবাদ গণমাধ্যমের বানানো জয়, রূপকথা। সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সামর্থ্য এখনও অটুট বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, যেসব রাজনৈতিক শক্তি সংলাপ প্রত্যাখ্যান করছে তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো, সময় ফুরিয়ে আসছে, দ্রুত একটি রাজনৈতিক সমাধান বের করার জন্য কাজ শুরু করুন। সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে, প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বা রাজধানী দখল করতে চালানো এসব সামরিক প্রচেষ্টা, এসব ভুলে যান।
এদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল -আসাদ সরকার দেশের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ হারালেও রাসায়নিক অস্ত্র এখনও নিরাপদেই আছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের এক ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। ইসরাইলের আর্মি রেডিওতে আমোস গিলাড নামের ওই কর্মকর্তা রবিবার আরো বলেছেন, তিনি (আসাদ) পদত্যাগ করলেও বিশৃঙ্খলা থাকবে। বলা যায় না এরপর কে ক্ষমতায় আসবে। তবে এ মুহূর্তে রাসায়নিক অস্ত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে তিনি জানান। সিরিয়ার প্রতিবেশী ইসরাইল রাসায়নিক অস্ত্র ইসলামী জঙ্গি এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ গেরিলাদের হাতে পড়ার আশঙ্কা করেছিল। এ ধরনের কিছু ঘটলে সিরিয়া পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তারা।
