মির্জাপুরে জমির মালিকানা নিয়ে উত্তেজনা, শতাধিক দোকানে তালা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩১
প্রায় ৭ কোটি টাকার জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে গত তিন দিনে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিপাকে পড়েছেন কয়েক শতাধিক ব্যবসায়ী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্লা বাজারে এ ঘটনাটি ঘটেছে। সোমবার পাকুল্লা বাজারে গিয়ে দোকানপাট বন্ধ থাকার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারগণ তাদের বন্ধ দোকানপাট খুলে দেয়ার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। জানা গেছে পাকুল্লা বাজারের বাসস্টেশন সংলগ্ন ৫৫ শতাংশ জমির দখলদার পাকুল্লার জমিদার মনির চৌধুরি এবং জামুর্কি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরি রুবেল ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। ১৯৮১ সালে এই জমি মনির চৌধুরি রূপালি ব্যাংক পাকুল্লা শাখায় মর্গেজ রেখে ঋণ নেন। দীর্ঘদিন তিনি ব্যাংকের আসল ও সুদ পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১৯৯৮ সালে মামলা করে মনির চৌধুরির বিরুদ্ধে। পরে পাওনা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ব্যাংক জমিটি মুরাদ সিদ্দিকী নামে একজনের কাছে নিলামে বিক্রি করে। ঐ সময়ে মনির চৌধুরি জমি নিজের মালিকানা দাবি করে কোর্টে মামলা করেন এবং পুরো জমি তার দখলেই থেকে যায়। তিনি জমির উপর শতাধিক দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেন। এদিকে গত তিনমাস পূর্বে মামলায় আদালত জমি বুঝে দেয়ার জন্য দরদাতা মুরাদ সিদ্দিকীর নামে রায় ঘোষণা করেন। রায় পাবার পর মুরাদ সিদ্দিকী পুলিশের মাধ্যমে জমির দখল নেন। গত দুইমাস শতাধিক দোকানের ভাড়া মুরাদ সিদ্দিকী নিয়েছেন বলে দোকানদারগণ জানিয়েছেন। এদিকে গত ১২ ডিসেম্বর মনির চৌধুরি জমির মালিকানা দাবি করে হাইকোর্টে মামলা করেন। হাইকোর্ট জমির উপর পারমানেন্ট ইনজাংশন জারি করে মুনির চৌধুরির পক্ষে রায় দিয়েছেন বলে জানানো হয়। এই রায় ঘোষণার পর গত শনিবার মনির চৌধুরি পাকুল্লা বাজারের ঐ শতাধিক দোকানদারকে ডেকে এ মাস থেকে মুরাদ সিদ্দিকীকে ভাড়া না দেয়ার জন্য বলেন। এই ঘটনা মুরাদ সিদ্দিকী শোনার পর গত রবিবার বিকালে তার লোকজন এসে পাকুল্লা বাজারের ঐ সব দোকানপাট বন্ধ করে দেন বলে দোকানদার আব্দুল হালিম, জলিল মিয়া, জামাল উদ্দিনসহ শতাধিক দোকানদার অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে রূপালি ব্যাংক পাকুল্লা শাখার ম্যানেজার অজিত রঞ্জন দাস বলেন, এই জমির উপর আমাদের কোন দাবি নেই। নিলাম গ্রহিতা হিসেবে এই জমির মালিক এখন মুরাদ সিদ্দিকী। এ ব্যাপারে মনির চৌধুরি বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই জমি নিয়ে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। এ ব্যাপারে হাইকোর্টে মামলা করলে হাই কোর্টের বিচারক জমির উপর পারমানেন্ট ইনজাংশন জারি করেছে। কাজেই এখন এই দোকান থেকে মুরাদ সিদ্দিকী কোন ভাড়া নিতে এবং জমি নিজের দাবি করতে পারবেন না। এ ব্যাপারে মুরাদ সিদ্দিকী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি রূপালী ব্যাংকের জমি দরপত্রের মাধ্যমে প্রকৃত মুল্য দিয়ে কিনে নিয়েছি এবং কোর্ট আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। কাজেই এই জমির প্রকৃত মালিক আমি। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে জমির দুই মালিক পক্ষের দ্বন্ধের কারণে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।