সেন্টমার্টিনে অতিথি পাখির কলকাকলি

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৩
ঝাঁকে ঝাঁকে দল বেঁধে কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। পৌষ মাস শুরু হলে আগমনী বার্তা নিয়ে সীমান্ত পথ পাড়ি দিয়ে ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও মায়ানমার থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এই অতিথি পাখির দল সেন্টমার্টিন দ্বীপে হাজির হয়। কনকনে শীতে এসব পাখির কল-কাকলিতে সাগর বুকে সেন্টমার্টিনের এখন অন্য এক রূপ। ঝাঁকে ঝাঁকে এই পাখি দূরদেশ থেকে এসে দ্বীপের কটেজের ছাদে, গাছের ডালে, পর্যটকবাহী জাহাজের ছাদে ও সাগরের বিভিন্ন খুঁটিতে বসতে শুরু করেছে। এদের কল-কাকলিতে মুখর হয়ে উঠছে পুরো সেন্টমার্টিন দ্বীপ। ৭-৮ বছর ধরে এই অতিথি পাখি দূরদেশ থেকে আসতে শুরু করেছে বলে জানান এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দারা। প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৭-৮ বছর ধরে এখানে দেশি-বিদেশি পাখিদের আনাগোনা চোখে পড়ে। শীতের শুরুতেই এই পাখিগুলো খাবারের জন্য ছুটে আসে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও সাগরে। সাগরের পানির উপর অংশে পোকা, ছোট মাছ শিকার করে খেতে দেখা যায়। শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এদের সংখ্যাও যেন বাড়তে থাকে। শীত শেষ, পাখিরাও যায় উড়ে। বছর ছয়েক আগে অসাধু শিকারীদের আনাগোনা ছিল এখানে। এখন আর নেই। এলাকাবাসী ও কয়েকশ’ জেলে মিলে পাখি শিকার না করতে সচেতনতা গড়ে তুলেছেন। সাগরের মাঝখান দিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজ আসা-যাওয়া করছে। কেয়ারী সিন্দবাদ, এলটিসি কুতুবদিয়া, এমভি ফারহান, ঈগল ও সোনারগাঁ- এই জাহাজগুলো দিয়ে প্রবাল দ্বীপবাসী ও পর্যটকগণ আসা-যাওয়া করেন। এই জাহাজ থেকে পর্যটকরা উঁকি দিয়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছেন পাখিগুলোকে। জাহাজের খুব কাছে এসে খেলা করছে ওরা। কেউ খাবার খুঁজছে পানিতে মাথা ডুবিয়ে। পাখিগুলোর খেলা দেখে পর্যটকরা মুগ্ধ। এদের মধ্যে পাতিহাঁসই বেশি। এছাড়া আছে পানকৌড়ি, সাদা বকসহ নাম না জানা অসংখ্য পাখি।