মিশা সওদাগর
আগেরদিন মধ্যরাত অব্দি ডাবিং ছিল আমার। তাই ঘুমাতে যেতেও দেরি হয়েছিল। সকালে উঠেই শুনলাম আমাদের প্রিয় আনিস ভাই আর নেই। (ইন্না.. রাজিউন )। আমাদের দেশে আমরা বারবার বলি যে, নায়ক সংকট নাকি চলছে। কিন্তু আনিস ভাইদের সংকট কিভাবে পুরণ হবে? আনিস ভাইয়ের সাথে আমার এই এফডিসিতে অনেক স্মৃতি। ভীষণ স্বজনপ্রিয় মানুষ এবং পারিবারিক। সবসময় আমাকে স্নেহ করতেন পরামর্শ দিতেন। আনিস ভাইয়ের মৃত্যুর পর এক বিষয়ে আমার খুব আপত্তি আছে। প্লিজ তাকে শুধু কৌতুক অভিনেতা বলবেন না। বাবা, বড় ভাইসহ সমাজের বিভিন্ন বয়সি চরিত্রে তিনি কতটা মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন ছোট ও বড় পর্দায়। বারবার দর্শকদের মুগ্ধতা দিয়েছেন তা হয়তো আপনাদের ধারণাই নেই। আর এত বড় এক পর্দায় দীর্ঘদিনের এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দর্শকদের হাস্যরসে পরিপূর্ণ রাখার মানুষ আর কজন আছে? আজ আমরা অনেকেরই মূল্যায়ন করতে পারিনি। তাই বলে মৃত্যুর পর স্রেফ তাঁকে ‘কৌতুক অভিনেতা’ বলে খাটো করবেন না। কোনো চরিত্রই ছোট নয়। কিন্তু তিনি আরো বড় মাপের কাজ করেছেন। তাঁকে অন্তত সেইভাবেই সম্বোধন করি। আনিস ভাইও তাঁর স্ত্রী গত হয়ে যাবার পর দীর্ঘ ৪ বছর কোনো কাজ করেননি। তার কাজের প্রতি অন্তত সম্মান দিই। এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে হানিফ সংকেত ভাইয়ের নির্দেশনায় তিনি কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। তাঁর কাজের প্রতি শ্রদ্ধা। গতকাল সকালেই পরিবার তাঁকে তাঁর বাড়ি ছাগলনাইয়াতে নিয়ে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু আমি তাঁর জামাতা শিমুলকে ফোন করে এফডিসিতে আনানোর ব্যবস্থা করি। খুব অল্প সময়ের নোটিশে আলমগীর ভাই, ওমরসানীভাই সহ আমরা তাঁকে এফডিসিতে শেষ শ্রদ্ধা জানাই। আমরা আমাদেও এই ইন্ডাস্ট্রির নানান সংকটের ভেতওে দিয়ে পাড়ি দেয়া সময়ে একজন আনিস ভাইয়ের ভুমিকাকে খুব গুরুত্বসহকারে মনে রাখতে হবে। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি
