৬৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটের মাধ্যমে মিসরের জনগণ নতুন সংবিধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। এদিকে মিসরে বিতর্কিত খসড়া সংবিধান নিয়ে গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় নতুন করে অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দেয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। খবর রয়টার্স,এএফপি,বিবিসি ও আল জাজিরার।
মঙ্গলবার ভোটের ফল প্রকাশিত হলেও পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানো এবং অর্থনৈতিক নীতি-নির্ধারণ করতে গিয়ে জনসমর্থনের ঘাটতিতে ভুগতে পারেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। সমালোচকদের মতে, জোর করে সংবিধান চাপিয়ে দিয়ে মুরসি তার বিরোধী উদারপন্থি, বামপন্থি ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেপিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে ঘাটতি বাজেটের লাগাম টেনে ধরতে প্রয়োজনে কর বাড়ানোর জন্য জনমত গড়ে তোলার পথ নষ্ট করেছেন তিনি। নির্বাচনের আগে বিরোধী জোট ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছিল, নির্বাচনের ফল যাই হোক, গণভোট পথের শেষ নয়। এটি একটি লড়াই মাত্র।
মুরসির ধারণা, নতুন সংবিধানের মধ্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটবে। গণভোটে জয় লাভের পর মুরসির সমর্থকরা মিসরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।
কিন্তু সাধারণ মিসরীয়দের অনেকেই মনে করছেন, মুরসি যে বিতর্কিত সংবিধান চাপিয়ে দিচ্ছেন তা তার সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ায় সহায়ক তো হবেই না বরং বিরোধীরা সরকারের ব্যয় সঙ্কোচনের পদক্ষেপে জনগণের প্রতিক্রিয়ার সুযোগকে কাজে লাগানোর পথ পেয়ে যাবে।
কায়রোর একজন বাসিন্দা এল-দিন আলি আগামী দিনগুলোতে ব্যয় সংকোচনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে শঙ্কিত। জনগণ কৃচ্ছ চায় না বলেন তিনি।
বিরোধীদের দাবি, ইসলামপন্থি সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্লামেন্টে অনুমোদিত সংবিধানটি ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণে সহায়ক নয়। অন্যদিকে, সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রাষ্ট্র-পরিচালিত ‘নীল নিউজ’ টিভিতে সরাসরি ভোটের ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রেসিডেন্ট সমির আবুল-মাত্তি কায়রোয় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ভোটের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ খতিয়ে দেখেছি।” সরকারি হিসাবমতে, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ। মিসরের প্রধান বিরোধী জোট ‘দ্য ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট’ ভোটে অনিয়ম ও জালিয়াতির যে অভিযোগ করেছে তা প্রত্যাখ্যান করেন মাত্তি।
গণভোটের আনুষ্ঠানিক এ ফল ঘোষণার পর এখন মিসরে দু’মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র মিসরের বিভক্তি দূরীকরণে কাজ করতে প্রেসিডেন্ট মুরসির প্রতি আহবান জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, মিসরের জনগণের ঐকমত্যের ওপরই দেশটির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত্ নির্ভর করছে।
