চকরিয়ায় ৫০৬ একর খাসজমি অবৈধ দখলে

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪৪
কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলীমুদ্দীন ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে সরকারি ৫০৬ একর খাস জমি বিগত ৬০ বছর ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র জবরদখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০০৭ সালে উপজেলা প্রশাসন এ জমি উদ্ধার করে লাল পতাকা দিলেও বর্তমানে এসব জমি আবারও দখল করে নিয়েছে ওই প্রভাবশালীরা। অভিযোগ রয়েছে, সরকার বদলের সাথে সাথে এ ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতায়াল্লিরা ক্ষমতাসীন দলের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে বিগত প্রায় পাঁচ যুগ ধরে এসব জমি জবরদখলে জড়িত রয়েছে। চকরিয়ার খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া মৌজায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি গ্রামের জাফর আলী চৌধুরীর ছেলে ইজ্জত আলী চৌধুরীর নামীয় আর.এস ৫৬ খতিয়ানের ৮৬২ একর ৬৮ শতক জমি রয়েছে । ১৯১৯ সালে আলিমুদ্দীন ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে ৩৩০৬ নং ভুয়া ওয়াক্ফ কবলা সৃজন করেন আলিমুদ্দীন চৌধুরী। অথচ আর.এস খতিয়ানে তার কোন নাম নেই। ওই ভুয়া কবলা সৃজনের পর আর.এস, এম.আর.আর ও বি.এস জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু কোন জরিপে তাদের নামে ওই জমি রেকর্ড করতে পারেনি। ১৯২৮ সালে সম্পন্ন হওয়া আর.এস জরিপের পর আর.এস ৫৬ খতিয়ানের জমি থেকে ১৯৫০ সালে রাষ্ট্রীয় অর্জন ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২০ ধারা মোতাবেক উল্লেখিত খতিয়ান থেকে ৩৭৫ বিঘার অতিরিক্ত জমি সরকারের কাছে হুকুম দখলের মাধ্যমে সারেন্ডার করেন তারা। পরে এ জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ফৌজুল করিম চৌধুরী (ক্ষতিপূরণ মামলা নং /৫৯-৬০ ইং মূলে) ওই সময়ে ১৭ হাজার ২৭৭ টাকা ৮০ পয়সা ও হাজী ফৌজুল কবির চৌধুরী (ক্ষতিপূরণ মামলা নং- ৩/৫৯-৬০ইং মূলে) ১৯ হাজার ৬৪০ টাকা ৩১ পয়সা সরকারের কাছ থেকে বুঝে নেন। সূত্র জানায়, পরবর্তীতে এ জমি পিআরআর জরিপে পৃথক ৬টি খতিয়ানে বিভক্ত হয়েছে। তন্মধ্যে ৫৬/১ ও ৫৬/২ খতিয়ানের ৪৩১ একর ৫৬ শতক ও ইজ্জত আলীর অধীনস্থ ১৫১ একর ৩৫ শতক জমি থেকে প্রায় ৫০৬ একর ২৬ শতক জমি সরকার খাস জমি হিসাবে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত করেন। ৫৬/৩ খতিয়ানে বর্তমান মোতায়াল্লি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর পিতা ফৌজুল করিম চৌধুরীর নামে ৫৭ একর ৮৯ শতক, ৫৬/৪ খতিয়ানে সুলতানুল কবির চৌধুরী, পিতা-ফৌজুল কবির চৌধুরীর নামে ৩২ একর ৭৭ শতক, ৫৬/৫ ও এমআরআর ৩৫ এবং বিএস ১৫৬ খতিয়ানে আবদুল জলিল মাস্টারের নামে ৫৯ একর ২০ শতক ও ৫৬/৬, এমআরআর ৩৮ ও বিএস ৭৬ খতিয়ানে হাজী গুরা মিয়ার নামে ১২৫ একর ১১ শতক জমি রেকর্ড করা হয়। বিএস জরিপে ১১৪ ও ১১৫নং বিএস খতিয়ানে ১৪ একর ৮০ শতক জমি আলিমুদ্দীন ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে রেকর্ড হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, বর্তমান মোতায়াল্লি বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও তার চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগ নেতা সুলতানুল কবির চৌধুরীর পিতা এবং ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে সরকারিভাবে ১০৫ একর ৪৬ শতক জমি রেকর্ডে উল্লেখ থাকলেও তারা বিগত ৬০ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন্ শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ও সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে সরকারি খাস খতিয়ানের ৫০৬ একর জমি ভুয়া ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে জবরদখল করে রেখেছে। সরকারের বিপুল পরিমাণ খাস জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.আল আমিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার জাকির হোসেন বলেন, প্রশাসন এসব জমি উদ্ধারে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। তবে উচ্চ আদালতে দখলবাজরা রীট মামলা করেছে। মূলত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রশাসন এব্যাপারে বেশিদূর এগুতে পারছে না। তারপরও আইনীভাবে মোকাবেলা করে এসব জমি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।