মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরহাজিনগর গ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংকের ই এফ (ইউরোপিয়ান ফান্ড) ফান্ডের অধীনে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শিকারপুর হর্টিকালচার লিঃ প্রজেক্টের পাম চাষ শুরু হয়েছে। পাম চাষ করে পদ্মার চরের মানুষ অল্প ব্যয়ে অধিক মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবে এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও পাম তেল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন শিল্প ও কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের পদ্মার চরের চরহাজিনগর গ্রামে শিকারপুর হর্টিকালচার লিঃ প্রজেক্টের অধীনে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে পাম চাষ হয়েছে। প্রায় ৪ বছর আগে এখানে পাম চারা রোপণ করা হয়। পাম বাগানে পামগাছের সাথী ফসল হিসাবে খেসারী, মসুরি, কলাই, সরিষাসহ নানা অর্থকরী ফসল চাষ করা হয়েছে। তাই পামের ‘বাধি’ ৪ বছর পরে এলেও চাষি এই সময়ে সাথী ফসল থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবে। পামগাছে নিয়মিত পরিচর্যা, জৈব সার ও কীটনাশক দিলে তাড়াতাড়ি গাছ বৃদ্ধি পায় এবং পোকার আক্রমণে গাছও মরে না। এ প্রজেক্টের অধীনে রোপণকৃত পাম গাছে বর্তমানে ‘বাধি’ আসা শুরু করেছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে এখান থেকে পাম অয়েল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। তবে মেশিন না থাকায় পাম অয়েল সংগ্রহে বিপাকে পড়ছে এ প্রজেক্টের লোকজন। মেশিন না থাকায় বাধি সিদ্ধ করে পাম অয়েল সংগ্রহ করতে হবে। পামগাছ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে, তাই এ গাছ চাষে অল্প ব্যয়ে অধিক মুনাফা লাভ করা সম্ভব।
হরিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লুত্ফর রহমান জানান, পদ্মা নদীর এ বিশাল চর কৃষিক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানকার মাটি কৃষিকাজের জন্য খুবই উপযোগী। শিকারপুর হর্টিকালচার লিঃ প্রকল্পের অধীনে এখানে বিভিন্ন কৃষি প্রকল্প শুরু হয়েছে। চরের বিশাল জমিতে পামগাছের বাগান করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এ পামগাছ থেকে প্রচুর তেল পাওয়া যাবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই তেল বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।
শিকারপুর হর্টিকালচার লিঃ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আকবর খান জানান, আজিমনগর ইউনিয়ন পদ্মা নদীর একটি চর এলাকা। এখানকার মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। যেহেতু এ অঞ্চলের মানুষ বিদ্যুত্ থেকে বঞ্চিত তাই এখানে শিল্প-কারখানা স্থাপন সম্ভব নয়। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হলে কৃষির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ই এফ প্রকল্পের ৪৯ ভাগ ও আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫১ ভাগ শেয়ারে এখানে আমরা একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আশা করছি এ প্রকল্পের সুবাদে এ চর এলাকার মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ার সাথে সাথে জাতীয় অর্থনীতিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। অন্যান্য কৃষি ফসলের সাথে আমরা এখানে বিশাল পরিসরে পাম চাষ শুরু করেছি। মালয়েশিয়া থেকে ২শ’ টাকা করে প্রতি পিস পাম চারা ক্রয় করেছি। চারা ক্রয়, সার, কীটনাশক, শ্রমিক খরচ সব মিলিয়ে ২ হেক্টর জমিতে পামগাছ রোপণে আমাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। আর এ থেকে আমরা প্রতি বছর ১০ লাখ টাকার পাম অয়েল বিক্রয় করতে পারব বলে আশা করছি। আর পামগাছের সাথে সাথী ফসল চাষ করেও আর্থিক লাভবান হয়েছি। তবে মেশিন না থাকায় পাম বাধি থেকে তেল সংগ্রহে আমরা বিপাকে পড়েছি। মালয়েশিয়া থেকে একটি মেশিন ক্রয় করতে প্রায় ৪ কোটি টাকার প্রয়োজন। যা আমাদের পক্ষে দুরূহ ব্যাপার। তাই এ ব্যাপারে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করছি।
