এনায়েতপুর ‘নাপিতের হাটের’ নাপিতদের এখন বড়ই দুর্দিন

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫০
চাকচিক্যময় সেলুন স্থাপন ও শীল সম্প্রদায়ের বাইরের লোকদের এই পেশায় ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের ফলে প্রকৃত নাপিতরা এ পেশায় টিকতে পারছে না। আর এনায়েতপুর নাপিতের হাটে গিয়ে কাঠের টুলে বসে আজ আর অনেকে চুল-দাড়ি না কামানোয় তাদের পরবর্তী বংশধরেরা এখন অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। দেশের সর্ববৃহত্ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর কাপড়ের হাটে প্রতি শুক্রবার তাঁত পণ্য, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর পাশাপাশি বসে চুল-দাড়ি কামানোর নাপিতের হাট। হাটের পূর্ব-উত্তর পাশে তরকারি পট্টিতে বসা এই নাপিতের হাটে রয়েছে একটি লম্বা টিনের ঘর। সেখানে প্রতি হাটবার ভোরে বিভিন্ন বয়সী ১৫-২০ জন নাপিতের আগমন ঘটে। তারা উপস্থিত হয় ক্ষুর, কাঁচি, চিরুনি, সেভিং ক্রিম ও দু’টি ছোট কাঠের টুল নিয়ে। এক টুলে নিজে এবং অন্য টুলে গ্রাহককে বসতে দিয়ে তারা বিভিন্ন বয়সী পুরুষের চুল-দাড়ি কামায়। তবে আগের মত আর তাদের ভাল ব্যবসা নেই। এখন ৯৫ ভাগ মানুষ এ কাজ করে সেলুন ঘরে। সেখানে রয়েছে ফোমের চেয়ার, মাথার উপরে ফ্যান, আরো আধুনিক সেবা। তাই খোলা ঘরে মান্ধাতা আমলের সেই ছোট্ট কাঠের টুলে কেউ আর বসতে চায় না। চুল-দাড়ি কামাতে বসে একথা জানালেন বৃদ্ধ নাপিত শুকুমার চন্দ্রশীল ও মংলা শীল। তারা অতীতের ঐতিহ্যকে স্মরণ করে জানায়, এখন আমাদের আগের মত আয় নেই। ছিন্নমূল মানুষ বলে আমাদের কাছে অনেকেই আসতে চায় না। অথচ ২০ বছর পূর্বেও এলাকার যেকোন নবজাতকের জন্ম হলে মাথা ন্যাড়া, পূজা-পার্বন, বিয়ে-সাদীতে বর ও বরযাত্রীদের চুল-দাড়ি কামাতে এবং মানুষের মৃত্যু-পরবর্তী কাজে তার ডাক পড়তোই। এসব কাজে মোটা অংকের টাকার পাশাপাশি চাল, ডাল, কাপড়-চোপড়ও দেয়া হত। বর্তমানে সে প্রথা অনেকটাই উঠে গেছে। এখন হাটে ্এসে সারাদিন বসে থাকলেও তেমন কাস্টমার পাওয়া যায় না। সুধীর, অরুন ও বলাই শীল জানায় হাটে সারাদিন কাজ করে ৭০-৮০ টাকা আয় হয়। যা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্ট। তারপরও হাটের খাজনা দিতে হয়। আবার ৫০-৬০ হাজার টাকায় আমরা যে সেলুন ঘর দিয়ে বেশি আয় করবো সে সামর্থ্যও নেই। যে কারণে সামর্থ্যবান অন্যান্য জাতের লোকজন ঢুকে পড়েছে।