মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হবে

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধীদের ব্যাপারে সবসময় সজাগ থাকতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যত্ নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা তোমাদের পবিত্র দায়িত্ব। তাই তোমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সবসময় ধারণ এবং দেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের অপকর্মের ব্যাপারে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে’। তিনি বুধবার চট্টগ্রামে ভাটিয়ারীতে ৬৭তম বিএমএ লং কোর্স এবং ৩৮তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সের ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি প্যারেড অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন। একটি চৌকস, দক্ষ ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে তার সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ সেবার মহান ব্রত নিয়ে তোমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছো।’ তিনি বলেন, ‘চৌকস, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল অফিসার হিসেবে তোমরা আজ বৃহত্তর কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছো এবং কর্মজীবনে তোমাদেরকে মনে রাখতে হবে, তোমরা এদেশের জনগণেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি আশা করি, তোমরা সকলেই জনগণের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার সমান অংশীদার হবে।’ সেনাবাহিনীর নতুন ক্যাডেটরা সর্বদা নিঃস্বার্থভাবে দায়িত্ব পালন এবং দেশ ও জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ, কূটনীতিকবৃন্দ এবং নতুন কমিশন পাওয়া ক্যাডেটদের অভিভাবকগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিনের জিওসি মেজর জেনারেল একেএম মুজাহিদ উদ্দিন, চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাব্বির আহমেদ এবং বিএমএ কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুজ্জামান তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন। তিনি সেরা ক্যাডেটদের মাঝেও পুরস্কার বিতরণ করেন। এ বছর ১০ ফিলিস্তিনী ক্যাডেটসহ মোট ৮৫ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেছে। প্রশিক্ষণে সর্ববিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভের জন্য তারিক জুবায়েরকে ‘সোর্ড অব অনার’ প্রদান করা হয় এবং সামরিক বিষয়ে অসামান্য কৃতিত্ব অর্জনের জন্য হাবিবুল্লাহ খান সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক লাভ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী চক্র আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ভুলণ্ঠিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘পরাজিত শক্তি সবসময় বিজয়ীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে থাকে। তাই আমি সবাইকে আমাদের মহান বিজয় ভুলণ্ঠিত করার স্বাধীনতা বিরোধীদের যেকোন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সদা সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যে এখন একটি প্রগতিশীল, অসামপ্রদায়িক, উন্নয়নমুখী ও শান্তিপ্রিয় দেশ তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি বলেন, তার সরকার দেশ থেকে সন্ত্রাসীবাদ ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের মাধ্যমে দেশকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ রাষ্ট্রের অপবাদ মুক্ত করেছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশে ও বিদেশে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর এ সুনাম তোমাদের অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’ অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ, গ্যাস-বিদ্যুত্ উত্পাদন প্রতিটি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন সুখে-শান্তিতে আছে। কিন্তু একটি গোষ্ঠীর তা সহ্য হচ্ছে না। তাই জনগণের শান্তি বিঘ্নিত করতে তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’