স্কুলে স্কুলে বই উত্সব ১ জানুয়ারি

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০০
আগামী ১ জানুয়ারি দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পাবে। শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। মন্ত্রী বলেন, এ বছর তিন কোটি ৬৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৭২ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২৭ কোটি বই বিতরণ করা হবে। বছরের প্রথম দিন স্কুলে স্কুলে হবে চার রঙা এই পাঠ্যবইয়ের উত্সব। এর আগের দিন ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেবেন। ১ জানুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেন্দ্রীয়ভাবে পাঠ্যপুস্তক উত্সবের উদ্বোধন করা হবে। তিনি বলেন, এবার প্রাথমিকে ১০ কোটি ৭৮ লাখ ৬২ হাজার ৭১৪টি, ইবতেদায়ীতে এক কোটি ৭২ লাখ ১ হাজার ৪০টি, মাধ্যমিকে ১১ কোটি ৪৮ লাখ ২১ হাজার ৩৩১টি, মাদ্রাসায় দুই কোটি ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৪০টি এবং কারিগরিতে ১৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৮১টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে বই পাওয়ার জন্য প্রহর গুনছে। পাঠ্যপুস্তক দিবসের মাধ্যমে বছরের প্রথম দিনে বই পাওয়া সারা দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর কাছে এখন এক মহাআনন্দের উত্সবে পরিণত হয়েছে। এ আনন্দ তো শুধু শিক্ষার্থীর নয়, তাদের শিক্ষক, অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে তা ছুঁয়ে যায়। আমরা গত তিন বছরের মতো এবারও আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীদের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা হিসাবে রং-বেরংয়ের নতুন বই তুলে দেবো। তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা খালি হাতে স্কুলে যাবে এবং নতুন বই হাতে বাড়ি ফিরবে। এছাড়া বছরের প্রথমদিনই সরকারের ই-বইয়ের ওয়েবসাইট www.ebook.gov.bd এবং এনসিটিবির ওয়েবসাইট www.nctb.gov.bd থেকে সব বই বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে। ১০ হাজার ৫০৭টি ট্রাকে করে সারাদেশে বই পাঠানো হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার নির্ধারিত পাঠ্যসূচির বাইরে অন্য বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, কোনো স্কুল অতিরিক্ত বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে কিনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তার তালিকা করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে শিশুদের বইয়ের বোঝা কমানোর লক্ষ্যে আমরা এবার প্রাথমিকের ৫৪৮ পৃষ্ঠা কমিয়ে দিয়েছি। মাধ্যমিক স্তরেও অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুগের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন, প্রজনন স্বাস্থ্য, অটিজম, তথ্য অধিকারসহ নতুন বেশকিছু বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয় তিনটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী এ বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ১১১টি বই প্রণয়ন করা হয়েছে। এক হাজার ৪০১ জন শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক এসব বই প্রণয়নের সঙ্গে ছিলেন। অন্যদের মধ্যে এসসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তফা কামাল উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনটি বই বেড়েছে। নতুন পাঠ্যক্রমের বইয়ে সৃজনশীল পদ্ধতির প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ৯৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ বই উপজেলায় পৌঁছে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাকি বইগুলো এ মাসের মধ্যেই পাঠানো হবে।