বাংলা ভাষাকে বিকৃতভাবে উচ্চারণ, উপস্থাপন এবং বিদেশি ভাষার সাথে মিলিয়ে প্রচার বন্ধ ও সকল জনগোষ্ঠীর ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবি জানিয়েছে নাগরিক সংহতি। সেইসঙ্গে বিকৃতভাবে উচ্চারণ ও উপস্থাপন বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে নাগরিক সংহতি আয়োজিত নাগরিক সমাবেশ থেকে তারা এ দাবি জানান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ। দাবির সাথে সংহতি জানান ভাষা সৈনিক আহমদ রফিক। বক্তব্য রাখেন ভাস্কর রাসা, প্রকৌশলী ইনামুল হক, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ইকবালুর হক খান, যুবনেতা সাব্বাহ আলী খান, আজিজুল হক প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সালাম, রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত নাম না জানা আরো অগণিত শহীদের বুকের রক্তের বিনিময়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের মাতৃভাষা রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। সেই ২১ ফেব্রুয়ারি এখন শুধু আমাদের রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবেই পালিত হয় না, তা এখন আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য হাজার বছরের ঐতিহ্য সেই বাংলা ভাষা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। আর এর পেছনে কাজ করছে দেশের কিছু এফ এম রেডিও। যেখানে বাংলা ভাষাকে বিকৃতভাবে উচ্চারণ, উপস্থাপন এবং বিদেশি ভাষার সাথে মিলিয়ে প্রচার করা হয়।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত বাংলা ভাষাকে বিকৃতভাবে উচ্চারণ ও উপস্থাপনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং বাংলা ভাষাকে সঠিকভাবে প্রচার করার নির্দেশ দেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনার প্রায় এক বছর হতে চলেছে, এখনো কয়েকটি এফ এম রেডিও সেভাবেই বিকৃত ভাষা প্রচার করে যাচ্ছে।
