ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের জাটিয়া গাফুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে জাল সনদপত্র প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। জাল সনদ দিয়ে কলেজে ভর্তি হতে না পারায় এক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রীটির বাবা সুপারের বিরুদ্ধে গত সোমবার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
শিক্ষার্থীর বাবা মো. শামছুল হক জানান, তার মেয়ে হেলেনা খাতুন ওই মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ২০১২ সালে অংশগ্রহণ করে। মেয়ের প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডে মা ও বাবার নাম ভুল আসে। বিষয়টি তাত্ক্ষণিক সুপারকে অবহিত করলে তিনি পরীক্ষার পর বাবা- মায়ের নাম ঠিক করে দেবেন বলে ওই অবস্থাতেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি আরো জানান, ভুল কাগজপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তার মেয়ে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। ফল প্রকাশের পর কাগজপত্র ঠিক করার জন্য সুপারের কাছে গেলে তিনি নাম সংশোধন করতে পাঁচ হাজার টাকা নেন। জরুরিভিত্তিতে কাগজপত্র ঠিক করে দেয়ার কথা থাকলেও তা ঠিক করে দেয়ার নামে ১৪ জুলাই ২০১২ তারিখে জাল মার্কশিট তাদের হাতে ধরিয়ে দেন।
শিক্ষার্থী হেলেনা খাতুন জানায়, সুপারের দেয়া কাগজপত্র নিয়ে নান্দাইলের রসুলপুর ফাজিল মাদ্রাসা ও পীতাম্বরপাড়া ফাজিল মাদ্রাসায় ভর্তি হতে গেলে কর্তৃপক্ষের কাছে মার্কশিটে মাদ্রাসা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। ফলে সে ভর্তি হতে পারেনি। সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, সহপাঠীরা সবাই কলেজে ভর্তি হতে পারলেও আমি পারিনি জাল সনদের কারণে।
মাদ্রাসার অভিভাবক প্রতিনিধি মো. হাসান আলী ও আব্দুল মালেক জানান, মাদ্রাসা সুপারের জাল সনদ প্রদানের বিষয়ে বেশ কয়েকটি সালিশ-দরবার হয়েছে। সুপারের জালিয়াতির কারণে শিক্ষার্থীটির লেখাপড়া এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার মুখলেছুর রহমান সনদ জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, শুনেছি আদালতে একটা মামলা হয়েছে। তবে জালিয়াতির বিষয়ে কোনো কথা বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
