লক্ষ্য যখন গ্লোবাল পেশাদারিত্ব অর্জন

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৫২
এসএসসি বা এইচএসসি পাসের পর থেকে শিক্ষার্থীদের নানারকম দুশ্চিন্তা থাকে—সঠিক বিষয় নিয়ে কোথায় পড়ব, পাস করে পেশা গড়তে পারব কি না, খরচ কেমন হবে অথবা সার্টিফিকেটের মান কেমন হবে ইত্যাদি। তাদের জানানো যাচ্ছে যে, এ সময় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রফেনাল অ্যাকাউন্টিং ক্রমে চাহিদার শীর্ষে চলে এসেছে। বিশ্বজুড়ে চাহিদা এবং কর্মক্ষেত্র থাকায় ব্যাপক হারে এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা এই খাতে ক্যারিয়ার গড়তে সম্পৃক্ত হচ্ছে। এই ধারায় বাংলাদেশের মুর্শেদ নিজাম গত বছর জানুয়ারিতে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং এসিসিএ বিষয়ে পড়তে ভর্তি হয়েছিলেন চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে। সম্প্রতি তিনি এসিসিএ এফ৪ (গ্লোবাল) পরীক্ষায় বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক (৯৬%) স্কোর পেয়ে এ দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। উল্লেখ্য, প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এসিসিএ, সিএটি, এফআইএ—এই তিনটি বিষয়। এসিসিএ হলো একমাত্র কোর্স, এর রয়েছে যেকোনো পর্যায়ে ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের ১৭৩টি দেশে শতভাগ ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগ। সিএটি হচ্ছে অ্যাকাউন্টিং কোয়ালিফিকেশন যেখানে অ্যাকাউন্টিংয়ের বেসিক শেখানো হয়। এটি করার পর দ্রুত এসিসিএ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। এফআইএ হচ্ছে এসিসিএ’র এন্ট্রি লেভেলের সুট অব কোয়ালিফিকেশনস, যা সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীরা পূর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চমত্কার কোর্স বেছে নিতে পারে। যেকোনো শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা লেভেল শেষ করে সরাসরি এসিসিএ’র স্কিল মডিউলে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে সিএটি সার্টিফিকেট পাবে না। যেসব শিক্ষার্থী সিএটি সার্টিফিকেট নিতে চায় তাদের পূর্বের মতোই ৯টি বিষয় সম্পন্ন করতে হবে। যার মধ্যে এফআইএ’র ইন্ট্রোডাক্টোরি সার্টিফিকেট, ইন্টার মিডিয়েট সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা এবং আরও ২টি বিষয় সম্পৃক্ত আছে। সেকেন্ডারি বা হায়ার সেকেন্ডারি করা শিক্ষার্থীরা সিএটি কোর্সে ভর্তি হতে পারে। অন্যদিকে এইচএসসি বা ও-লেভেল শেষে এফআইএ-তে ভর্তি হয়ে সিএটি সম্পন্ন করতে পারে। আবার এ-লেভেল বা যেকোনো বিভাগ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি করা থাকলে সরাসরি এসিসিএ ক্লাসে ভর্তি হওয়া যায়। তবে কারও অনার্স, মাস্টার্স, সিএ, আইসিএমএ কোয়ালিফিকেশন থাকলে ৯টি বিষয় পর্যন্ত অব্যাহতি পেতে পারে। বছরে জুন ও ডিসেম্বরে দুইবার ব্রিটিশ কাউন্সিলে এক সাথে একটি থেকে চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়। তবে কম্পিউটার বেজড পরীক্ষা বছরের যেকোনো সময় যেকোনো দিন হতে পারে। যদি কেউ একটি বিষয়ে ফেল করে তবে শুধু ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে পারে। এসিসিএতে মোট পেপার ১৪টি (১৪০০ নম্বর)। কোনো শিক্ষার্থী বছরে ৩টি করে পাস করলে প্রায় সাড়ে ৪ বছর আর ৪টি করে পাস করলে লাগবে সাড়ে ৩ বছর। এসিসিএ অনার্স ইন অ্যাপ্লাইড অ্যাকাউন্টিং ৯টি পেপার ৯০০ নম্বর। এটি প্রতি বছর ৩টি পেপারে পাস করে সর্বোচ্চ ৩ বছর এবং ৪টি করে আড়াই বছরে পাস করা যায়। দেশে বসেই পার্ট-২ এবং পার্ট-৩ পাস করা সম্ভব। এ বিষয়ে আরও জানতে কথা বলতে পারেন ৮১৯১৬৬৩, ০১৭৩৩০২৭৫২১৫ এই নম্বরে। বাংলাদেশে এ ডিগ্রি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চার্ডার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ অন্যতম। সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই কোর্সটি পরিচালনার জন্য তাদের রয়েছে চমত্কার সেটআপ ও এসিসিএ কর্তৃক গোল্ড অ্যাপ্রুভাল। এ দেশে কোর্সটি ব্রিটিশ কাউন্সিলে পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে এক হাজার টাকা কম ফি দিয়ে কম্পিউটার বেজড এক্সাম (সিবিই) দেওয়া যাচ্ছে। এক্ষেত্রে এই কলেজে এফএ১, এফএ২, এমএ১, এমএ২-এর পরীক্ষা ফি পাঁচ হাজার টাকা এবং এফএ১, এফএ২, এফএ৩-এর ফি ছয় হাজার টাকা নেওয়া হয়, যা ব্রিটিশ কাউন্সিলের চেয়ে এক হাজার টাকা কম। বাংলাদেশে এই কোর্সে সর্বাধিক শিক্ষার্থী এবং সাফল্য রয়েছে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের। এখানে নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষার প্র্যাকটিস্ করানোর ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা ফাইনাল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লাভ করছে। যোগাযোগ :বাড়ি- ৫১, রোড ১০/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা।