সাফল্যগাঁথা

তরুণ প্রতিভা সাওসান রহমানের এগিয়ে চলা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৫৩
দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এ দেশে অনেক মেয়েই শিক্ষাক্ষেত্রে গর্ব করার মতো সাফল্যের শীর্ষে উঠে আসে। এর মধ্যে উল্লেখ করার মতো একটি নাম সাওসান রহমান। তিনি এইচএসসি পাস করে সে ভর্তি হয়েছিলেন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। বর্তমানে তিনি পর্তুগালের এবোনো লিসবোন ইউনিভার্সিটিতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করছেন। সাওসানের বাবা প্রফেসর ড. হাফিজুর রহমান মেয়েকে এই চমত্কার ভবিষ্যতের সিঁড়িতে পা রাখতে সর্বাধিক সহায়তা করেছেন। উচ্চ শিক্ষায় মেয়ের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে বাবা-মা দুজনেই গর্বিত। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নতুন কোনো বিষয় নয়। যেদিন থেকে উড়োজাহাজ চলতে শুরু করেছে সেদিন থেকেই এর ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এরপর সময়ের সাথে এই শিল্পের বিকাশ ঘটেছে এবং একাডেমিক ধারায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে এই বিষয়টি অনেকের জন্যে নতুন মনে হতেও পারে। কেননা এ দেশে এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে অতি সম্প্রতি। চাহিদার জন্যেই বিষয়টির কার্যক্রম রয়েছে পুরো বিশ্বজুড়ে। আশা করা যায় সাওসান রহমানের এগিয়ে চলা দেখে অনেকেই উড়োজাহাজের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের বিষয় নিয়ে লেখাপড়ার আগ্রহ দেখাবে। সাওসান বলেন, ‘অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বা এয়ারক্রাফ্ট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং হলো উড়োজাহাজ রক্ষাবেক্ষণ বিষয়ক একটি জ্ঞান। মূলত উড়োজাহাজ উড্ডয়নের আগে এর সব সিস্টেম ঠিক আছে কি না তা সম্পর্কে পাইলটরা সব ধরনের তথ্যপত্র নিয়ে থাকেন। উড়োজাহাজের যাত্রী এবং পাইলটদের জীবন এবং তাদের নিরাপদে পৌঁছানোর অনেক কিছু নির্ভর করে এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারের উপর। এ ছাড়া এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়াররা এয়ারক্রাফটের নিত্য নতুন ডিজাইন উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ, এয়ারফ্রেম ইঞ্জিন তৈরি, আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতির সংযোগ স্থাপন, মেরামত প্রভৃতি করে থাকেন। অন্যদিকে এয়ারক্রাফটের ফ্লাইট টেস্ট প্রোগ্রামে টেক অব ডিস্টেন্স, রেট অব ক্লাইম্ব, সিল স্পিড, ম্যানুভারিলিটি অ্যান্ড ল্যান্ডিং ক্যাপাসিটি প্রভৃতি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। এনডি এইচএনডি ইন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং একটি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স। যা মূলত এইচএসসি, এসএসসি বা এ,ও লেভেল পাসকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি কার্যকরী। যেকোনো বিভাগ হতে যেকোনো সালে পাসকৃত শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে পারবে। যারা ক্রেডিট ট্রান্সফার করে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা প্রভৃতি দেশে চলে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এই কোর্সটি বেশি কার্যকরী।’ তিনি আরও বলেন, ‘অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এমন একটি বিষয়ে যার চাহিদা এবং কারিকুলাম পুরো বিশ্বজুড়ে একই। চাকরি ছাড়াও এর ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায় যেকোনো দেশে। আর চাকরির ক্ষেত্রে স্যালারি হয় আকাশ ছোঁয়া। অন্যদিকে সামাজিক মর্জাদা, খ্যাতি অসাধারণ। যে কারণে এইচএসসি পাস করার পরই উত্তরায় এগার নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে ভর্তি হয়েছিলাম, যাদের সাথে সরাসরি কথা বলা যায় এই নম্বরে ৮৯৯১৩৭১। অবশ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনে বেশ কিছুদিন সময় লেগেছিল।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সাওসান রহমান বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল অল্প খরচে স্বল্প সময়ে এবং সহজে উন্নত বিশ্বে গিয়ে এ ধরনের দামি চাকরির ডিগ্রি অর্জন করব। আমার সে ইচ্ছাপূরণ হয়েছে। আমি অতি সহজেই ভিসা পেয়েছি। যা হোক আমাকে এই অ্যাভিয়েশন কলেজটি সে সুযোগ করে দিয়েছে। এ ছাড়া আমার জব অ্যাটাচমেন্ট নিয়েও চিন্তা করতে হচ্ছে না। এক কথায় আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হচ্ছে না। আমার বাবা-মা এনিয়ে দারুণ খুশি। আমার মনের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এখন তাকাচ্ছি ভবিষ্যতের দিকে, ক্যারিয়ারটা এটি সেরা প্রতিষ্ঠান দিয়ে শুরু করার লক্ষ্যে।’