বিরোধী দলের সাথে সমঝোতার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন ওবামা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪১
কর বৃদ্ধি আর ব্যয় কমানো নিয়ে নতুন একটি পাসের জন্য বিরোধী দলের সাথে অচলবস্থা কাটানোর শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী সোমবারের মধ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্রে আবার একটি মন্দা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় রিপাবলিকানদের সাথে আলোচনায় বসতে বড়দিনের ছুটি সংক্ষিপ্ত করে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে ফিরে এসেছেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রে গত ১০ বছর ধরে কার্যকর কর অবকাশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি। ফলে দেশটির সবশ্রেণীর জনগণের আয়কর মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাবে। পাশাপাশি ঘাটতি কমানোর জন্য প্রতি বছর ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার হারে ব্যয় সংকোচন শুরু হবে। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এর প্রথম ধাক্কাটা যাবে বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির ওপর দিয়ে। এর সঙ্গে কর্মসংস্থান ও উত্পাদনে বিরূপ প্রভাব পড়লে ফের মন্দা দেখা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে। সেক্ষেত্রে ইউরোপসহ বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও তা ভয়ের কারণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিকে তারা বলছেন, ‘রাজস্ব খাদ’ (ফিসক্যাল ক্লিফ)। এরকম পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটি কার্যকর প্রস্তাব পাসের জন্য মার্কিন সিনেটের সদস্যদের হাতে এক সপ্তাহেরও কম সময় রয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসে সরকারের ব্যয়ের পরিধি এবং করের হার নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকানদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে পারছে না ওবামা প্রশাসন। সরকারের ঋণ সীমা বাড়ানোরও বিরোধিতা করছে তারা। কংগ্রেসে বাজেট সংস্কারের জন্য নির্ধারিত দুই সপ্তাহের কম সময়ের আগেই কর সংক্রান্ত ভোট নাকচ করে দেয় রিপাবলিকানরা। এ অবস্থায় ২০১৩ সালের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘রাজস্ব খাদ’ থেকে বাঁচাতে একটি নতুন আইন পাস করা নিয়ে অচলাবস্থা কাটানোর শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কর বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি ৬০০ বিলিয়ন ডলার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা আরো কিছুদিন পিছিয়ে দেয়ার ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছানোই হবে তার লক্ষ্য। তবে ওবামার এ উদ্যোগের সাফল্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেনে অনেকেই। এরপরও যদি কোনো সমঝোতা হয়, তাহলে এ বিষয়ে একটি আইন পাসের জন্য রবিববার প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে মতানৈক্য দূর করার সুযোগ করে দিতে ১ জানুয়ারির পরও কিছুটা সময় দেয়ার জন্য বিশেষ বাজেট পরিকল্পনা করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান দ্রুত এ অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য রাজনীতিবিদদের আহবান জানাতে শুরু করেছে ইতোমধ্যে।