বাংলাদেশের জনগণ (বিশেষত ঢাকার বুদ্ধিজীবীরা) নব্বইয়ে তথাকথিত আন্দোলন শেষে আনন্দে ঢেঁকুর তুলেছিলেন—আন্দোলন সফল হলো, স্বৈরশাসক নিপাত হলো, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলো। কিন্তু দীর্ঘ ২২ বছরের মূল্যায়ন করলে বলা উচিত একটি আপদ আর অন্যটি বিপদ নামক দুটি দল দেশ পরিচালনা করছে। আর দুই দলই পরিচালিত হচ্ছে, প্রায় ক্ষেত্রেই দলীয় ত্যাগী কর্মী দ্বারা নয়—নাজেল হওয়া নেতা-নেত্রীদের দ্বারা। যাদের কল্যাণে গণতন্ত্র দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, স্বৈরতন্ত্র দেশে নবরূপে অধিষ্ঠিত হয়েছে। অবশ্য স্বীকার করতে দোষ নেই পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে নাজেল হওয়া শাসকরাই দেশ শাসন করেছে।
দেশের সমগ্র জনগণ যখন আপদ-বিপদের জ্বালায় অস্থির তখন আমাদের টেলিভিশনওয়ালারা, পত্রিকাওয়ালারা নানাভাবে দুই দলের নেতা-নেত্রীদের গুণাগুণ ভজনায় ব্যস্ত। টকশোওয়ালারা তো টকশোতে অংশগ্রহণের জন্য পনেরো কোটি লোকের দেশে এই দু দলের খয়ের খাঁ জাতীয় বিদ্বান বুদ্ধিজীবী ব্যক্তি ছাড়া সমগ্র দেশে কাউকেই খুঁজে পান না। অবশ্য দল দুটোর চালাক পার্শ্বচরেরা আগেই বুঝে ফেলেছিল—দেশের নাজলীয় নেতা-নেত্রীদের গুণগানের জন্য টেলিভিশন আর প্রিন্টিং মিডিয়া কত জরুরি। আর তাই সত্-অসত্ উপায়ে অর্জিত দলীয় মনোভাবাপন্ন কিছু টাকাওয়ালা লোককে এসবের মালিক বানানো হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো এসব নেতা-নেত্রী কতখানি গণতান্ত্রিক আর দেশপ্রেমিক তা বুঝতে দেশবাসীর আর বাকি নেই। একজন তো তদীয় দলের প্রাণপ্রিয় বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রকে না চাইতেই সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে আর একজন তো কয়েকদিন আগে বন্ধু রাষ্ট্রে দলীয় ধর্ম বিসর্জন দিয়ে অঙ্গীকার করে এসেছেন— ক্ষমতায় গেলে সব দেয়া হবে। (দেশে সাগরেদরা অবশ্য দেশবাসীকে এখন অন্য কথা বলছে)। তাই ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্টিং মিডিয়া ভাইদেরকে অনুরোধ—দেশবাসীকে এই আপদ আর বিপদ নামক দল দুটি হতে রক্ষা করার জন্য কিছু করুন। আর কিছু না পারুন এ দু’দলের নেতা-নেত্রীদের প্রচার আর ভজনায় ক্ষান্ত দিন এবং সময়গুলো দেশের উন্নয়নে উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করুন।
রংপুর
