‘বিপদে ফেলে পালাবে জানলে মা ডাকতাম না’

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৭
উদ্ধারকৃত হেরোইন আর ইয়াবার আসল মালিক ধর্ম মা আয়েশা বেগম। তিনি অনেক টাকার মালিক। আমি গরীব মানুষ। দয়া করে তিনি আমাকে ছেলে বানিয়েছেন। তাই মায়ের নির্দেশ পালন করি। তিনি বিপদে ফেলবেন জানলে, তাকে মা ডাকতাম না। কথাগুলো হেরোইন ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া আনোয়ার হোসেন কালুর। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম, কামরাঙ্গীরচরের ২৯ নম্বর নিজামবাগ এলাকার এক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এসময় উদ্ধার করা হয় ১ কেজি ৬শ গ্রাম হেরোইন ও আড়াই হাজার পিস ইয়াবা। পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কালু জানায়, তার ধর্ম মা আয়েশা বেগম ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে কক্সবাজার আর হেরোইন সংগ্রহ করে থাকে বিভিন্ন সীমান্ত থেকে। আর এ হেরোইন ও ইয়াবা বিক্রির দায়িত্ব কালুর উপর। বিভিন্ন কৌশলে সে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে হোরেইন ও ইয়াবা বিক্রি করতো। অভিযানের সময় তার ধর্ম মা তাকে ফেলে পালিয়েছে। সে আরো জানায়, তার ধর্ম মা তাকে এভাবে বিপদে ফেলে পালাবে জানলে এ কাজের সঙ্গে সে জড়াতো না। সবকিছুর জন্যই দায়ী তার ধর্ম মা। অভিযানকারী ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, ১৭টি সাদা পলিথিন প্যাকেটে ভরা ছিল এ হেরোইন। আর ৫টি কাগজের তৈরি কার্টনের মধ্যে ছিল ইয়াবা ট্যাবলেট। এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম একই রাতে রামপুরা ব্রিজ এলাকায় পৃথক অভিযান চালায়। এসময় একটি ট্রাক থেকে ৫ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে মাসুদ ওরফে গলাকাটা মাসুদ, ওয়াসিম, সাজু ও বিপ্লব । মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, রামপুরা থেকে গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে তারা একটি সংঘবদ্ধ ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য। তারা তাদের অপরাপর সহযোগীদের নিয়ে অবৈধ উপায়ে দীর্ঘদিন যাবত্ ফেন্সিডিলের চালান এনে রাজধানীসহ এর আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। এক্ষেত্রে তারা মাল ভর্তি ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা থেকে ফেন্সিডিল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তা সরবরাহ করতো।