পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, কোনো দেশই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে বলেনি। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমসহ বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার অনুরোধ করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল। এ সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর গতকাল শুক্রবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেসিয়ামে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। বাংলাদেশ তায়কোয়ানদো ফেডারেশনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইয়ুন ইয়ং ও তায়কোয়ানদো ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল প্রমুখ।
এদিকে, বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার জন্য তুরস্কের আহবানের পর দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল গত ১৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে চিঠিটি পাঠান। ২৩ ডিসেম্বর চিঠিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেয় ঢাকাস্থ তুর্কি দূতাবাস। বৃহস্পতিবার চিঠি দুটি বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়। চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, বিচারের মাধ্যমে ইসলামপন্থী নেতাদের শাস্তি দেয়া হলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে স্বচ্ছতা ও বিচারের মান বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময় কথা বললেও এই প্রথম কোনো বন্ধুপ্রতিম দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানালো। গত এপ্রিলে আঙ্কারায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তুরস্ক সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে একই অনুরোধ করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বুধবার তুরস্কের একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামিদের পক্ষে দূতিয়ালির কাজ করেছেন এমন অভিযোগে ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মেহমুত ভারকুল ইরকুলকে তলব করে সরকারের অসন্তোষের কথা জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব মুস্তাফা কামাল সরকারের অসন্তোষ ও অবস্থানের কথা জানান। এদিকে তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমানকে তলব করে বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চেয়েছে সেদেশের সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিব রাষ্ট্রদূতের কাছে তুরস্কের এনজিও প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে তুর্কি সরকারের সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। তুর্কি রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতিনিধিদলটি যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে কোনো রকমের দূতিয়ালি করতে বাংলাদেশে আসেনি। বরং বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে এসেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশেষ ভিসা’র ব্যবস্থার অপব্যবহার করে তুরস্কের প্রতিনিধিদলটি সঠিক করেনি। বাংলাদেশ আশা করে, আগামীতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। সরকারের অবস্থান উল্লেখ করে তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে একটি কূটনৈতিক পত্র (এইড মেমোয়ার) দেয়া হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।
