পাকিস্তানের তালেবান প্রধান হাকিমুল্লাহ মেহসুদ বলেছেন, তার সশস্ত্র বাহিনী সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক। তবে তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।
শুক্রবার রয়টার্সকে দেয়া ৪০ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা আলোচনায় বিশ্বাসী। কিন্তু তা যেন পরিহাসকর না হয়। আর আমাদেরকে অস্ত্র সমর্পণ করতে বলা একটা তামাশা।”
ভিডিওতে দলের উপপ্রধান ওয়ালি-উর রেহমানের পাশে একটি রাইফেলে হেলান দিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় মেহসুদকে। সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এই দুই তালেবান নেতার মধ্যে দ্বিমত দেখা দিয়েছে। তবে মেহসুদ এ বক্তব্যকে প্রচারণা আখ্যা দিয়ে বলেন, “ওয়ালিউর রেহমান আমার সঙ্গে বসে আছেন এবং আমরা আমৃত্যু একসঙ্গেই থাকব।”
পাকিস্তানের পেশাওয়ারে এমাসে তিনটি বড় ধরনের তালেবান হামলা এবং আধাসামরিক বাহিনীর ২২ সদস্য অপহরণ ঘটনার পর মেহসুদ এ ভিডিও বার্তা দিলেন। এ বার্তায় মেহসুদ আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) সমাবেশে সাম্প্রতিক বোমা হামলায় প্রাদেশিক এক মন্ত্রী নিহত হওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করে বলেন, “অন্যান্য রাজনীতিবিদদের সঙ্গে এএনপিও তালেবানের হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকবে।” এর কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। কারণ এ ব্যবস্থা অনৈসলামিক।”
মেহসুদের এ ভিডিও’র আগে পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বৃহস্পতিবার শান্তি আলোচনায় বসার আগে তাদের দাবি-দাওয়া জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। এতে তারা পাকিস্তান সরকারকে ইসলামি আইন চালুর জন্য সংবিধান এবং আইন সংশোধন করাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করা, আফগানিস্তান যুদ্ধে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার দিকে নজর দেয়ার শর্তসাপেক্ষে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেয়। তবে পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা এ সমস্ত শর্ত উদ্ভট বলে উড়িয়ে দেন।
