ফিরে দেখা :মাধ্যমিক শিক্ষা আলোচনায় ছিল কোচিং

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৫
মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা জারি ও বাস্তবায়ন এ বছর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। শিক্ষকদের একটি অংশ কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা জারি করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে অভিভাবকরা হয়েছেন খুশি। অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন—সঠিকভাবে নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে কোচিং বাণিজ্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত ফি ফেরত না দেয়ায় নামকরা তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমপিও স্থগিত করায় যেমন আলোচিত হয়েছে, তেমনি শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব না দেয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সমালোচিত হয়েছে। অন্যান্যবারের মতো এবারও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাওয়ার জন্য দারে দারে ঘুরছেন। বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্য চললেও অতীতের মতো এবারও মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেয়নি। মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এবার অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পদ দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদ মর্যাদায় উন্নীত করার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ছিল একটি আলোচিত সুখবর। শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত হয়ে সেখানেই থেমে আছে। বরাবরের মতো চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে এবারও শিক্ষক সংগঠনগুলো মাঠে ছিল। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ চলতি বছর সরকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ জারি করে। উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু করেছে রাজধানীর নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৬ শিক্ষককে শাস্তি দেয়ার মধ্য দিয়ে। সরকার দীর্ঘ সময় নিয়ে চলতি বছরের ২০ জুন কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা জারি করে। এর আগে গত ১৪ জুন শিক্ষক, শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সভা করে নীতিমালা চূড়ান্ত করেন। এই উদ্যোগ বছরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বছরের পর বছর কোচিং বাণিজ্য চলে আসছে। শিক্ষকদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কোচিংয়ে বাধ্য করতো। এই নীতিমালা জারির পর শিক্ষকদের একটি অংশ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নীতিমালা বাতিলের দাবি জানান। শিক্ষকদের এই অংশের বক্তব্য, শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ ছাড়া কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা মেনে নেওয়া হবে না। অতিরিক্ত ফি আদায়ে তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমপিও স্থগিত অতীতের মতো চলতি বছরও রাজধানীর সেরা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ভর্তিতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। রাজধানীর ১৫টির অধিক প্রতিষ্ঠান তদন্ত করে প্রমাণ পায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই প্রমাণের ভিত্তিতে সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে টাকা ফেরত বা পরবর্তীতে সমন্বয়ের নির্দেশ দেয়। রাজধানীর নামকরা তিনটি প্রতিষ্ঠান মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বাদে অন্য সবাই টাকা ফেরত এবং সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করায় উল্লেখিত তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের গত ১২ ডিসেম্বর এমপিও স্থগিত করে মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ সময় শেষে নামকরা তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমপিও স্থগিতের ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে এখনও আলোচনায় রয়েছে।