সিপিবি ও বামদের জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৫
রাজধানীতে গতকাল রবিবার সিপিবি, বাসদ এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদকসহ কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গ্যাস ও বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই ঘেরাও কর্মসূচি ছিল। গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা-কর্মীরা একই বিষয়ে কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা প্রদান করে। পূর্বনির্ধারিত ঘেরাও কর্মসূচি উপলক্ষে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতাকর্মীরা সকাল ১০টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়। তারা সোয়া ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব থেকে এবং সিপিবি ও বাসদ পল্টন থেকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। প্রেসক্লাব-সচিবালয় লিংক রোড দিয়ে এগিয়ে গেলে পুলিশ রাস্তায় কাঁটাতারের ব্যারিকেড দেয়। মিছিলকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে আরম্ভ করলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। পুলিশের লাঠিচার্জে কমপক্ষে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এদের মধ্যে সাইফুল হক, সৈকত হক মল্লিক, প্রবীর সাহা, কাকন বিশ্বাস, হাজি ছালাম, গণি শিখা জামালি, নাহিদ, বাবুল হাসান ও সুজনসহ ১০জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন। রমনা জোনের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান জানান, সচিবালয়ের নিরাপত্তার জন্য সচিবালয়-প্রেসক্লাব লিংক রোডের মাঝ বরাবর পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তারা ব্যারিকেড উপেক্ষা করে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে ও ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সিপিবি ও বাসদ পল্টন মোড়ে সমাবেশ করে। সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, জ্বালানির সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন এ সরকার আর মূল্যবৃদ্ধি করবেন না। কিন্তু সরকার সে কথা রাখেনি। বলেন, জনমত উপেক্ষা করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হলে ঘেরাও নয়, জ্বালানি মন্ত্রণালয় দখল করা হবে। গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা প্রতিবাদ সমাবেশ করে প্রেসক্লাবের সামনে। বাম মোর্চার সন্বয়ক জোনায়েদ সাকিরের নেতৃত্বে এখানে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নানু, ওয়ার্কার্স পার্টির (পুনঃগঠিত) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মাহবুব) মহিনউদ্দীন প্রমুখ। জোনায়েদ সাকি বলেন, পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আগামী ১ জানুয়ারি সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। ঐ দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা সমাবেশ করবে। তারপরও দাবি না মানলে আমরা হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি দেব। মোশরেফা মিশু বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করে সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে তারা জনগণের পক্ষে নয়। সরকার যে অবস্থান নিয়েছে এই অবস্থান নিয়ে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার বিকাল চারটায় কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ আজ বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে।