মার্কিন অর্থনীতির হুমকি মোকাবিলায় কংগ্রেস নেতাদের সমঝোতার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয়ার শেষদিন আজ। গতকাল সোমবার সিনেটররা ফিসক্যাল ক্লিফ (অর্থনৈতিক খাদ) মোকাবিলায় একটি সমঝোতায় পৌঁছতে শেষ মুহূর্তের আলোচনা চালিয়ে যান। আজকের মধ্যে তারা সমঝোতায় পৌঁছতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আবার মন্দায় পতিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক খাদ’ থেকে বাঁচাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য রিপাবলিকানদের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
কর বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি ডলার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা আরো কিছুদিন পিছিয়ে দেয়ার ব্যাপারে রিপাবলিকানদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তিনি। মঙ্গলবারের আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ধস নামতে পারে বলে রবিবার এনবিসি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে সতর্ক করেন ওবামা।
যুক্তরাষ্ট্রে গত ১০ বছর ধরে কার্যকর কর অবকাশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি। ফলে দেশটির সব শ্রেণীর জনগণের আয়কর মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাবে। পাশাপাশি ঘাটতি কমানোর জন্য প্রতি বছর ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার হারে ব্যয় সংকোচন শুরু হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এর প্রথম ধাক্কাটা যাবে বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির ওপর দিয়ে। এর সঙ্গে কর্মসংস্থান ও উত্পাদনে বিরূপ প্রভাব পড়লে ফের মন্দা দেখা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে। সেক্ষেত্রে ইউরোপসহ বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও তা ভয়ের কারণ হতে পারে।
কিন্তু কংগ্রেসে সরকারের ব্যয়ের পরিধি এবং করের হার নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকানদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে পারছেন না ওবামা প্রশাসন। ওবামা বিত্তশালীদের ওপর করারোপের পক্ষে হলেও রিপাবলিকানরা নতুন কোনো করারোপ চান না। সরকারের ঋণসীমা বাড়ানোরও তারা বিরোধী। এই পরিস্থিতিকেই তারা বলছেন ‘ফিসক্যাল ক্লিফ’, যা এড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কার্যকর প্রস্তাব পাসের জন্য মার্কিন সিনেটের সদস্যদের সময় ফুরিয়ে আসছে। সমঝোতায় পৌঁছতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ নাগরিকের ওপর বর্ধিত করারোপ হবে।
