১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। যে সমস্ত শিক্ষার্থী বিবিধ প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হয়ে অকালে ঝরে পড়েছে কিংবা স্বল্পশিক্ষিত কর্মজীবী, যাদের উচ্চশিক্ষার অভাবে চাকরিতে উন্নতি হচ্ছে না অথবা বয়স্ক- অর্ধবয়স্ক যারা মূর্খতা ঘুচাবার দিবাস্বপ্ন এখনো বুকে লালন করে চলছে- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আশার ক্ষীণ আলোটা জাগিয়ে রেখেছে। সুতরাং এই বিবেচনায় বাউবি আদর্শিক শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এখানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধির পরিবর্তে দিনকে দিন শূন্যতার কোঠায় পৌঁছছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলার শিকার হয়ে এর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। এখান থেকে উপকৃত হতে শিক্ষার্থীদের ধৈর্যের চরম পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের সিংহভাগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করছে শুধুমাত্র তারিখ পরিবর্তনের বিড়ম্বনায় বিরক্ত হয়ে। পরীক্ষা পরবর্তী সময় ফল প্রকাশে আবার বিলম্ব হয় ছয় মাস। এমনিতেই বাউবির এসএসসি প্রোগ্রাম সম্পন্ন হয় দুই বছরে। তার ওপর ফল প্রকাশে ছয় মাস। অর্থাত্ এসএসসি পরীক্ষাই তিন বছর মেয়াদি। তাহলে শিক্ষার্থীরা বিলম্বে লেখাপড়ার মাশুল কীভাবে দেবে? বিশেষত যারা একটু বয়স্ক, তাদের বিষয়টা ভাবনার নয় কি? দেশকে দারিদ্র্য ও নিরক্ষরমুক্ত করার কত শত শ্লোগান; কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের কি টনক নড়ে না? জোরগলায় শুধু বুলি আওড়ালে উদ্যোগ নেবে কে? অতএব, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সমীপে আবেদন, অবিলম্বে বাউবির উন্নতি বিধানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
মাসউদ বিল আতহার,
১৭৭/১ উত্তর সাটিরপাড়া, নরসিংদী।
